
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যর পর তাকে নিয়ে অনলাইনে খারাপ মন্তব্য করা হয়েছে, এর জের ধরে ২/১টা গ্রেফতারও হয়েছে। এগুলো কোন সুস্হ জাতির লক্ষণ নয়; এবং এই ঘটনা প্রথমবার ঘটছে না, জেনারেল জিয়ার মৃত্যর পরও ঘটেছিলো। নাসিমের বেলায় বিরোধী পক্ষই ইহা বেশী করেছে, কিন্তু বিরোধী পক্ষ ব্যতিত অনেক সাধারণ লোকজন, যারা স্বাস্হ্য সেবা থেকে বন্চিত হয়েছে, তারাও খারাপ কথা বলেছে। এই ধরণের খারাপ মন্তব্য ইত্যাদি কোন শিক্ষিত জাতির বেলায় ঘটার কথা নয়; আবার, ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে যে, জাতিকে শিক্ষা থেকেও বন্চিত করা হয়েছে।
মনে হয়, সরকার ও প্রশাসনের লোকজনও করোনার কাছে নিজেদের অসহায়তা বুঝার শুরু করেছে। সরকারের কিছু ব্যুরোক্রেট, ডাক্তার, প্রশাসনের অফিসার, পুলিশের লোকজনও সঠিক চিকিৎসা পায়নি, পাচ্ছে না; দেশ এভাবে চলতে পারে না। চিকিৎসা ব্যবস্হা কাজ করছে না, ইহা সরকার ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেছে। সরকারী দলের লোকেরাও সঠিক চিকিৎসা পাবার সম্ভাবনা কমে আসছে।
সাধারণ মানুষ ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে; এভাবে দেশ চলবে কিনা সন্দেহ আছে। সরকার যদি মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা না করে, মানুষ সরকারকে অমান্য করার সম্ভাবনা সব সময় আছে। হাসপাতালগুলো, ফার্মেসীগুলো মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াচ্ছে, মানুষের প্রাণ নিয়ে খেলছে। দেশের গরীব জনসংখ্যা হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারছে না বললেই চলে। ইহা দেশে অরাজকতাকে চরমে নিয়ে যাচ্ছে।
এই মহামারীতে, জীবন রক্ষাকারী ঔষধ, অক্সিজেন ইত্যাদি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকার দরকার ছিলো, এবং প্রতিটি নাগরিকের প্রয়োজনে ইহা সরবরাহ করার দরকার ছিলো। এখনো সময় আছে, সরকারকে অক্সিজেনের উৎপাদন, সরবরাহের কন্ট্রোল নিজের হাতে নিতে হবে।
স্বাস্হ্য সেবা যেভাবে ভেংগে পড়েছে, উহাকে যদি দ্রুত ম্যানেজ না করা হয়, সরকার ও প্রশাসন সম্পর্কে মানুষের কোন সন্মান হয়তো অবশিষ্ট থাকবে না; মোহাম্মদ নাসিম, বা জেনারেল জিয়াকে নিয়ে যেসব খারাপ মন্তব্য করতে শোনা গেছে, ইহা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে; গ্রেফতার ইত্যাদি করে, আরো বদনাম হবে, জোর করে সন্মান আদায় করা যায় না।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৩:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



