
শেখ হাসিনা করোনার মাঝে ৫০০০ কোটী টাকা দিয়ে ২৫০০০ শ্রমিককে এভাবে বরখাস্ত না করে, রাস্তায় না নামিয়ে, এই টাকা দিয়ে, শ্রমিকদিগকে কারখানার ৫০ ভাগ শেয়ার দিয়ে, প্রতিটি কারখানাকে আলাদা ইউনিট হিসেবে চালু করলে, শ্রমিকেরা নিজ দায়িত্ব নিজের কারখানাকে লাভজনক করতো। উনি যেই ভুল করছেন, ইহা উনার বাবার থেকেও বড় ভুল, ইহা বেগম জিয়ার স্তরের ভুল।
২০০২ সালে, বেগম জিয়া ও সাইফুর রহমানের সিদ্ধান্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জুটমিল, "আদমজী জুটমিল" বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো; ৬৫ হাজার শ্রমিকের পরিবারের পেটে লাথি মারা হয়েছিলো; বেশীরভাগ শ্রমিকেরা তাদের ভবিষ্যত নিয়ে কিছুই জানতো না; ওরা হাতে নগদ ২/১ লাখ টাকা পেয়ে ভেবেছিলো যে, তারা ধনী বাংগালীতে পরিণত হয়েছে; ২/১ বছর পর, এরা সবাই বস্তিবাসী হয়েছে।
৬৫ হাজার পরিবারের চাকুরী চলে যাওয়া বেশ সহজ করেছিলেন বেগম জিয়া; কিন্তু ৬৫ হাজার পরিবারের জন্য চাকুরী সৃষ্টি যে কি পরিমাণ কঠিন কাজ, সেটা উনি এই জীবনে বুঝতে পারেননি নিশ্চয়; এবং এই জন্যই, কয়েক হাজার কোটী চুরি করে, উনি মাত্র ৩ কোটী টাকার জন্য সহজেই জেলে চলে গেলেন।
৬৫ হাজার পরিবারের মানুষদের চাকুরী সৃষ্টি করা কঠিন, ১৯৫০ সালে ঢাকায় এত বড় জুট মিল করার মতো বাংগালী আসলে ছিলো না; সেই সময় বাংগালীদের জন্য সুযোগও ছিলো না; যাক, সেই সময়, এত বড় জুট মিল করতে পেরেছিলো ভারত থেকে আগত ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াহিদ আদমজী। আমার মতে, সেই লোক সাইফুর রহমানের মত মানুষকে উনার ব্যবসার কেরানী হিসেবে রাখতো না; বেকুব বেগম জিয়া বাজার করার চাকরের মতো বুদ্ধিমান সাইফুর রহমানকে অর্থমন্ত্রী বানায়ে নিজের জন্য লালঘরের রুম রিজার্ভ করেছিলো।
জুটের দেশে, জুটমিল লাভ করতে পারেনি গত ১২ বছরে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন, করোনার জ্বালায় উনার ঘুম ভেংগেছে। এই করোনার মাঝে ২৫ হাজার শ্রমিককে ৫০০০ কোটী নগদ টাকা হাতে দিয়ে কাজ থেকে বিদায় করে দিচ্ছেন; ২৫ হাজার মানুষের চাকুরী উনি সৃষ্টি করতে পারবেন এই সময়ে?
আসলে, এইভাবে জুটমিল বন্ধ করার পেছনে ষড়যন্ত্র আছে, শেখ হাসিনা সেটা বুঝতে পারছেন না; প্রাইভেট জুটমিলগুলো সরকারের পরিচালনায় এইসব জুটমিলকে কমপিটিশনে দেখতে চাচ্ছে না; তাদের কেহ কেহ এগুলো কিনে নিতে চাচ্ছে; তা'ছাড়া অন্যরাও এসব জুটমিল দখল করার জন্য এই পরিস্হিতির সৃষ্টি করেছে; অবশ্যই শেখ হাসিনা সেটা বুঝতে পারছেন না, উনার মগজকে ওরা ঘুরিয়ে দিয়েছে; সর্বোপরি, এইসব কমপ্লেক্স অর্থনীতি ও ফাইন্যান্স উনি বুঝেন বলেও মনে হয় না।
আজকে, শেখ হাসিনা অবশ্যই বেগম জিয়ার স্তরে নেমে এসেছন, উনি কোন কিছু না ভেবে, কোন ফাইন্যান্সিয়েল পথ না খুঁজে, বেগম জিয়ার মতো চোখ বন্ধ করে শ্রমিকদের পেটে লাথি মারছেন। বেগম জিয়ার জেল হয়েছে; উনার হয়তো জেল হবে না, তবে মানুষের ঘৃণার পাত্র হচ্ছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০২০ রাত ১০:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



