
বাকশাল ছিলো, সীমিত আকারের সোস্যালিষ্ট অর্থনীতি প্রবর্তন করার জন্য একটি রাজনৈতিক প্লাটফরম। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, যেভাবে জাতি গঠনের দরকার ছিলো, সেটা ঘটেনি; ফলে,মানুষের মাঝে ভয়ংকর হতাশা বিরাজ করছিলো; সর্বোপরি, সরকারের অদক্ষতার কারণে দেশে ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষ হয়; দুর্ভিক্ষটি ছিল মোটামুটি ষড়যন্ত্রের ফসল। জাতি গঠন ঠিক মতো না হওয়ায়, জাতির আত্মদানের পরও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কোন লক্ষণ চোখে পড়ছিলো না; অর্থনীতিতে পরিবর্তনের দরকার ছিলো, শেখ সাহেব সেইদিকে যাও্য়ার জন্য বাকশাল গঠন করেন। ততকালীন পরিস্হিতি অনুসারে, ও বাংগালীদের রাজনৈতিক জ্ঞানের আলোকে, ইহাকে বাকশাল নাম না দিয়ে "সর্বদলীয় প্লাটফরম", বা "সর্বদলীয় সরকার" নাম দেয়ার দরকার ছিলো। বাকশাল আসেনি, মানুষ বাকশাল অর্থনীতির সুফল, কুফল কোনটাই ভোগ করার সুযোগ পায়নি; এসেছিলো সামরিক ক্যু।
আমাদের মানুষ এখন যেই রাজনৈতিক পরিবেশে আছেন, ইহা মিলিটারী ক্যু'এর ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিবেশ। আজকের রাজনৈতিক পরিবেশকে অনেকে "বাকশাল" বলছেন; আসলে, যারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশকে "বাকশাল" বলছেন, তারা বাকশাল বুঝেন না; এবং শন্দটাকে খারাপ অর্থে একটি রাজৈতিক বাগধারার মত ব্যবহার করছেন।
জেনারেল জিয়া ক্যু করার পর, কিছু সময় মিলিটারী এডমিনিষ্ট্রেটর হিসেবে দেশ চালান; এরপর, উনি আইয়ুবী কায়দায় দেশের "সিভিল" প্রেসিডেন্ট হয়ে যান; একই মানুষ, একই জেনারেল, পদের নাম বদলে গেছে, কিন্তু উনার ভাবনা কি বদলে গেলো? না, উনার ভাবনাচিন্তা বদলায়নি। আইয়ুব খানের বেলায় না বদলালে, উনার সামরিক শিষ্যের বেলায় বদলাবে কিভাবে? কিন্ত দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঝরে-পড়া রাজনৈতিক দলগুলোর মুখপাত্ররা জোর গলায় প্রচার চালাতে লাগলো যে, জিয়া "বহুদলীয় গণতন্ত্র" চালু করেছে; এসব রাজনৈতিক ডামীদের বুঝার দরকার ছিলো যে, গণতন্ত্রে সব সময় বহুদল থাকে।
যাক, জেনারেল জিয়া সামরিক শাসনই চালু রেখেছিলেন; কারণ, তিনি সেটাই জানতেন, এবং তিনি জানতেন যে, সামরিক শাসন ব্যতিত উনি টিকবেন না; কারণ, উনার থেকে বড় জেনারেলের চেয়ার বাংগালীরা উল্টায়ে দিয়েছে। উনার মৃত্যুর পর, উনার নিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সাত্তার সাহেব একই সিষ্টেম চালু রেখেছিলেন।
এরপর জেনারেল এরশাদ আবার সামরিক ক্যু ঘটায়; পার্থক্য ছিলো, ইহা রক্তপাতহীন, জেনারেল আইয়ুব খানের মতো। তিনি জেনারেল জিয়ার পদ্ধতিতে নিজকে সিভিল প্রেসিডেন্টে রূপান্তরিত করে, জিয়ার মতো একই পদ্ধতি চালু করেন।
১৯৯০ সালে, জেনারেল এরশাদের চেয়ার উল্টায়ে দেয় মানুষ ও ক্যানন্টনমেন্ট মিলে; জেনারেল এরশাদের বিদায়ের পর, ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল জিয়ার মডেলকে কাজে লাগিয়ে বেগম জিয়াকে জিতিয়ে আনতে সমর্থ হয়। জেনারেল জিয়ার "বহুদলীয় গণতন্ত্র" আবার জীবিত হয়ে উঠলো।
এরপর, সেখ হাসিনা ও বেগম জিয়ার সময়গুলোতে ক্ষমতায় দল বদলালো, কিন্তু জিয়ার সিষ্টেম চালু রয়ে গেলো। মানুষ ভাবছিলো, শেখ হাসিনা নিশ্চয় জেনারেল জিয়ার সিষ্টেম বদলায়ে উনার বাবার সিষ্টেম চালু করবেন; কিন্তু তিনি তা করলেন না।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



