
নবী মুসা(আ: ) জ্ঞানী অবস্হায় জন্ম নেননি, তিনি শিক্ষিত মানুষ ছিলেন, পেশা ও সমাজ থেকেই জ্ঞান আহরণ করেছেন; তিনি ততকালীন সমাজের মানুষের লব্ধজ্ঞান, সংস্কৃতি ও ট্রেডিশনের বেষ্ট-প্রেকটিসগুলোকে মানুষের জীবন-বিধান হিসেবে লিখে, সেগুলোকে চালু করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সমস্যা ছিলো, ততকালীন রাজতন্ত্রের সময় মানুষ উনার বিধান মেনে চলার মতো স্বাধীন ছিলেন না, মানুষকে ফেরাউনদের বিধান মেনে চলতে হতো; কারণ, ফেরাউনরা ছিলো রাজা, সব ক্ষমতার অধিকারী। তখন মুসার(আ: ) জন্য দরকার ছিলো, ফেরাউনদের চেয়ে আরো ক্ষমতাশালী একজন, যেইজন মুসার(আ: ) বিধানকে চালু করতে পারবেন; মুসা নবী (আ; ) ফেরাউনদের চেয়ে শক্তশালী একজনকে নিয়ে এলেন, সেটাই হলো 'গড', যিনি ফেরাউনদেরও সৃষ্টি করেছেন; সুতরাং, ফেরাউনদের জীবন বিধান থেকে 'গডের' জীবন বিধানই প্রণিধানযোগ্য, মুসা(আ: ) এই লজিক চালু করেন।
সব ফেরাউন একই সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করতো না, বিভিন্ন ফেরাউন বিভিন্ন সৃষ্টিকর্তার নামে উপসনালয় তৈরি করেছিলো; তারা নিজদিগকে সৃষ্টিকর্তার বংশধর হিসেবে দাবী করতো; ইহা হয়তো মানুষের জন্য সমস্যা ছিলো, কিন্তু রাজার বিধান অমান্য করার উপায় ছিলো না। ততকালীন ইতিহাস থেকে যতটুকু বুঝা যায়, নবী মুসার(আ: ) জীবন বিধান ইহুদীদের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলো, মুল মিশরীয়রা ইহাকে গ্রহন করেনি।
মিশরের অভিজ্ঞতা ও নবী মুসার জীবন বিধান ইহুদীরা সঠিকভাবে অনুসরণ করেছিলো, তাদের রাজারা অনুসরণ করেছিলো; ফলে, আরব এলাকায় ওরা বেষ্ট-প্রেকটিসের মানুষ ছিলো, তারা অন্য হাজার হাজার গোত্র থেকে ভালো করেছিলো সেই আদি সময়েও। মুসা(আ: ) তোরাহ গ্রন্হ ব্যতিত আরো অন্য বই'এর প্রচলন করেন, সেটা হলো তালমুদ, ইহা আইনের বই, বেসরকারী "সংবিধান"। তালমুদের সুবিধা হলো, ইহা সময়ের সাথে, সভ্যতার সাথে তাল মিলিয়ে বেষ্ট-প্রেকটিসগুলো মেনে চলার বিধান মানে। তারপরও, ইহা সাধারণ জনতার জন্য কঠিন ছিলো সব সময়, সেই কারণেই জীবন বিধানকে আরো আরো সময়োপযোগী করার জন্য খৃষ্টান ধর্মের জন্ম হয়।
সময়ের সাথে, খৃষ্টান ধর্ম ইউরোপে জনপ্রিয়তা অর্জন করে; একই সময়ে, ইহুদী ধর্ম যাতে কন্ট্রোলের বাহিরে চলে না যায়, উহার প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়; ফলে, নতুন করে মানুষ ইহুদী ধর্ম গ্রহনের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
তালমুদ ইহুদীদের ধর্মীয় সংবিধান হলেও, তারা নিজদেশ ইসরায়েলে ও তারা যেসব দেশে বাস করে, সেইসব দেশের সংবিধানকে পুরোপুরি মেনে নিজেদের ধর্মীয় সংবিধান মেনে চলে; ইহুদীরা কোন দেশের সংবিধানকে অবমাননা করে না, তারা ভালো নাগরিক, তারা এখনো স্হানীয় বেষ্ট-প্রেকটিসে বিশ্বাসী।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০২১ রাত ২:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




