
জাতীয় সমস্যা, নাগরিক অধিকার, রাজনীতি, অর্থনীতি, দারিদ্রতা মোচন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সমস্যা, ইত্যাদি নিয়ে কথা বলার সময় শিক্ষিত, সচেতন নাগরিক হিসেবে কথা বলুন; এগুলো দেশ ও জাতির সমস্যা; এগুলোর সাথে ধর্মকে মিশায়ে লাভ নেই; ধর্মে এগুলোর সমাধান নেই; আমরা আধুনিক সভ্যতায় বাস করছি, এগুলো আধুনিক মানুষের জীবনযাত্রার অংশ; এসব সমস্যা ও এগুলোর সমাধান আধুনিক ভাবনার মাঝে নিহিত, ধর্মে এগুলোর সমাধান নেই; এগুলোতে নবী,রাসুলদের টেনে এনে কোন লাভ নেই, উনারা এসব বিষয়গুলো এই লেভেলে দেখেননি, এগুলো নিয়ে বর্তমান লেভেলে ভাবার সুযোগ উনারা পাননি, উনাদের শিক্ষা ইত্যাদি এগুলোর সমাধান দিতে পারবে না।
সময়ের সাথে সভ্যতা বদলাচ্ছে, বিশেষ করে কম্প্যুটিং মানব সভ্যতাকে ভয়ংকর গতি দিয়েছে; ফরাসী বিপ্লব থেকে সভ্যতা যেই গতিতে ২য় বিশ্বযুদ্ধ অবধি এসেছিলো, ইহা মানব সমাজের জন্য ছিলো বিস্ময়; কিন্তু কম্প্যুটার আজকে যেই গতি দিয়েছে উহা একসময় ছিলো কল্পনাতীত; এখন ৫ বছরে টেকনোলোজী ও জীবনযাত্রা যেভাবে বদলাচ্ছে, উহা আগে ৫০ কিংবা ১০০ বছরেও সম্ভব হতো না। টিকার কথা ভাবুন, ৬/৭ মাসে যেই টিকা বের করেছে, ইহা করতে গত শতাব্দীতে ২৫/৩০ বছর লেগে যেতো। আধুনিক বিশ্ব ও আজকের জীবনযাত্রা নিয়ে কথা বলার সময় আজকের টেকনোলোজী ও মানুষের লব্ধজ্ঞানের আলোকেই বলতে হবে।
ইউরোপ, আমেরিকার মানুষজন আধুনিক সভ্যতাকে ইহার নিজস্ব গতিতে চলতে দিচ্ছে; উহাকে ধর্মের দখলে আনতে চেষ্টা করছে না; তারা জানে যে, ধর্ম ইহাকে ধারণ করে রাখতে পারবে না, এবং ধর্ম ইহার সাথে অকারণ প্রতিযোগীতায় নেমে জয়ী হতে পারবে না, বরং নিজের স্বকীয়তা হারায়ে হাইব্রীড আকার ধারণ করতে পারে। আমাদেরকেও একই নীতি অনুসরণ করতে হবে, সবকিছুতে ধর্ম টেনে আনলে, ধর্ম নিজের আকৃতি ও প্রকৃতি হারিয়ে নতুন কিছু একটাতে পরিণত হতে পারে।
আধুনিক মানুষ, আধুনিক জাতিগুলো জ্ঞানভিত্তিক সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে; জ্ঞানভিত্তিক সমাজ মানুষের লজিক্যাল ভাবনা ও লব্ধজ্ঞানের ফসল; সেখানে মানুষ সামাজিক,রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সায়েন্টিফিক ও টেকনোলোজিক্যাল ভাবনার সমন্ময়ে বিবিধ মডেল করে সেগুলো নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন; আমাদেরকেও বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১২:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




