
ব্লগে আমাকে ধ্যাড়া, নাকি ম্যাড়া শয়তান ডেকেছেন এক পুরাতন ব্লগার; কয়েকদিন আগে, আরেকজন ব্লগার আমাকে ছুঁচো, নাকি মুঁছো ডাকলেন; সেই ব্লগার আবার কবি; আমি কবিদের অনেকটা দার্শনিক মানুষ হিসেবে নিই, কবিতা ভালোবাসি; তাই, সেই কবির দেয়া ঐ টাইটেলটা শুনে বেশ রেগে গিয়েছিলাম; পরে ভাবলাম, সব কবিতো আর দার্শনিক নন, রেগে মেগে কি হবে!
যাক, শয়তান নিয়ে আমার ধারণা হচ্ছে, শয়তান আব্রাহামিক ধর্ম মতে একটি খল চরিত্র; আব্রাহামিক ধর্মের লোকেরা এই চরিত্র সম্পর্কে জেনেছেন জুইস বাইবেল ( ফার্ষ্ট টেষ্টামেন্ট ) থেকে; সেখানে প্রথম মানব সৃষ্টির কাহিনীর মাঝে শয়তান চরিত্রটি এসেছে। এই চরিত্রটা আব্রাহামিক ধর্মে আছে মাত্র; গ্রীক, ফ্রীক, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা শিখ ধর্মে ইহা নেই।
প্রথম মানব সৃষ্টি নিয়ে আব্রাহামিক ধর্মে যেই কাহিনী বলা হয়েছে, উহা কিন্তু এই ধর্ম উদ্ভবেরও আগে ছিল; ব্যবিলন/সুমেরিয়ার রাজা, গিলগমেশের বইতে মানব সৃষ্টির গল্পটি ছিলো; ফলে, বুঝা যাচ্ছে যে, মানব সৃষ্টির গল্পটি আগেও ছিলো, আব্রাহামিক ধর্ম উহা সংগ্রহ করেছে মাত্র।
শয়তান আমাদের সমাজে সবচেয়ে বিখ্যাত চরিত্র; যেসব মানুষ জীবনে শেরে বাংলা, ড: শহীদউল্লাহ সাহেবের নাম শোনেনি, তারা শতানকে জানে! দেখা যাচ্ছে যে, ব্লগারেরাও এই চরিত্রটিকে তাঁদের লেখায় ব্যবহার করেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন ব্লগারকে শয়তান ডাকার পক্ষে নই; সর্বাধিক কম ভাবনার লোক, ইত্যাদি বলতে পারি। ব্লগারকে শয়তান ময়তান ডাকা আসলে খুবই নীচু মনের পরিচয়।
যাক, আমাকে শুধু শয়তান নয়, উহার বাবা ডাকলেও আমি হতাশ হওয়ার মতো লোক নই; আসলে, গালি জিনিষটা আমার উপর কাজ করে না। আমি এখানে উহা নিয়ে পোষ্ট দিচ্ছি কেন? পোষ্ট দিচ্ছি, এজন্য যে, যেই ব্লগার অন্য ব্লগারকে শয়তান ময়তান ডাকেন, উনি আসলে বুদ্ধিমান ব্লগার নন, ইহা বলার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ১০:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




