এক
গত পরশু দিনের কথা।সকাল ৯ টার দিকে হাসপাতালে যাবার জন্য সিএনজিতে বসে আছি।তখনও আরও দুই জন লোক লাগে সিএনজি ভরতে।এমন সময় একজন অতি বৃদ্ধা মহিলা এলেন একটি পোটলা হাতে।উনি অর্ধেক পথ যাবেন।অবরোধের অজুহাতে অর্ধেক পথের ভাড়া ৪০ টাকা,অন্য সময় ৩০ টাকা বা ২০ টাকা।মহিলাটি অনেক অনুরোধ করল ২৫ টাকা ভাড়ায় নিয়ে যাবার জন্য।কিন্তু সিএনজিওয়ালা কিছুতেই তাকে নিবে না।তাকে বলল নসিমন নামক ইন্জিন চালিত ভ্যানে ভেঙ্গে ভেঙ্গে যেতে।বৃদ্ধা মহিলার পুটলীটা টানতেই খুব কষ্ট হচ্ছিল।আমার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল পুটলীটা টেনে সিএনজিতে উঠাই আর সিএনজিওয়ালাকে বলি বাকি ১৫ টাকা আমি দিব।কিন্তু ভাবতে ভাবতেই সিএনজি ছেড়েদিল।সারাপথ নিজেকে অভিশাপ দিতে দিতে গেলাম কেন যে সংকোচ ভুলে বৃদ্ধা মহিলাকে সাহায্য করলাম না।প্রচন্ড খারাপ লাগা নিয়ে হাসপাতালে গেলাম।সাথে একটু রাগও লাগল।বেচারী বৃদ্ধাকে কেন তার সন্তানরা একা একা পথে ছেড়ে দেয়।হয়ট ঐ পুটলীতে তার ছেলের বা মেয়ের জন্য কলাটা বা মুলোটা সে নিয়ে যাচ্ছিল।
দুই
আজকে ওয়ার্ডে রাউন্ড দেবার সময় এক চল্লিশোর্ধ রোগী পেলাম যার আনকন্ট্রোলড উচ্চ রক্তচাপ আর মাথা ঘোরার সমস্যা ছিল।লোকটা হাটতে গেলেই মাথা ঘুরে পড়ে যায়।তাকে হাসপাটালের সাপ্লাই ওষুধ দেয়া হচ্ছিল। আমি তাকে মাথা ঘুরার একটা ওষুধ দিলাম আর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করলাম।পরের রোগীর কাছে যেতেই এই বেচারা হামাগুরি দিয়ে এসে আমার কাছে খুব কাকুতি মিনতি করল ,স্যার আমি অতি গরীব মানুষ।চাষ না করলে আমার একবেলা খাবার জোটে না।আমি প্রান ভরে দোয়াকরব ,আপনি আমাকে ওষুধটা কিনে দেন।আমি বললাম আচ্ছা কিনে দেব।রাউন্ড শেষ করে ছুটি রেফার্ড এর কাজ শেষ করে এক বড় ভাই এর সাহায্যে ঐ কোম্পানীর রিপ্রেজেনটেটিভ কে ফোন দিয়ে দেখা করতে বললাম আর আউটডোরে বসলাম বাকি রোগী দেখবার জন্য।রিপ্রেজেনটেটিভ একটু দেরী করে আসল।আসবার পর আমি দৌড় দিয়ে ইনডোরে গিয়ে দেখলাম বেচারা রোগী ততক্ষনে চলে গেছে।খুব খারাপ লাগল ।বেচারা না জানি কতটা আশাহত হয়ে বিদায় নিল।
তিন
সবাই সফলতার গল্প করে কিন্তু এগুলো আমার ব্যর্থতার গল্প যা আমার বিবেককে প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত করে।মনে হয় কেন আরেকটু ভাল মানুষ হতে পারি না।কেন?আর কেউ যেন সংকোচে পড়ে বা সামান্য হেলায় এমন সুযোগ গুলো মিস না করে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


