somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পথ চলা-২

২৬ শে মে, ২০১০ রাত ৮:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এভাবে লিখলে কতদিনে আমার ২৬ বছরের কাহিনি শেষ হবে! আজ থেকে অতীতের সাথে আজকের দিনপঞ্জিকাও লিখতে হবে!
আমরা তখন যে বাসায় ভাড়া থাকতাম তার বাড়িওয়ালি আমাকে খুব পছন্দ করতো।তিনি ছিলেন বিহারি মহিলা।প্রতিদিন গোসোল এর আগে মাকে বলতো , দাওগো ওকে আদর করে নিই, পরে আবার কোলে নিলে পেশাব করে দিলে আমার নামায বাদ জাবে।মা গল্প করে যখন ই চা খেতেন আমাকে একচুমুক দিতেন অবশ্যই। আর আমিও কাপ হাতে দেখলেই লাফালাফি আরম্ভ করতাম নেবার জন্ন।এর মাঝে এক ঘটনা ঘটল। আমাকে বিছানায় রেখে মা আর ফুপু বাইরে গল্প করছিল।বিছানার পাশেই এক চাচা ইস্ত্রি করছিল, সে আনমনে কখন গরম ইস্ত্রিটা বিছানায় রাখে আর আমি গিয়ে পড়ি সোজা ওতার উপরে।আমার একপাশের গাল পুড়ে গিয়েছিল।মা আর ফুপু তো ভয়ে অস্থির ।বাবা নাকি খুব রাগ করেছিল, একটা বাচ্চা সাম্লে রাখতে পারনা তোম্রা।অনেকদিন ছিল দাগটা ।কলেজে ওঠার পর মিলিয়ে গেছে সেই পোড়া দাগ। আমার দেড় বছরের মাথায় পটলার জন্ম হল।আমার ছোট্ট বোন , আমি ওকে অনেক নামে ডাকি টেপলি, পটলা- সবই আদরের ডাক।ও ছোটোবেলা থেকেই নাদুস নুদুস, নানা ওকে ডাকতো ভবেশ।মা রান্না করার সময় আমাকে বলত, বাবুকে দেখ আর খেলা কর আমি রান্না করি, কেমন।একদিনের গল্প বলি মা আমাক চক স্লেট দিয়ে বাবুকে পাশে শুইয়ে গেছে, আমি চক দিয়ে লিখা বাদ দিয়ে সেটা নাকে ঢুকিয়েছি, তার পর বের করার জন্য টানাটানি করতে গিইয়ে আরো ভিতরে ঢুকিএ ফেলেছি।পরে কাদতে কাদতে মা এর কাছে গিইয়ে বলতে র পারিনা অনেক্ষন বোঝানোর পর মা বুঝে আমি কি অকাম করেছি! এর পর বহু চেস্টা করেও বের না করতে পেরে শেষ মেষ হাসপাতালে গিয়ে সেই চক বের করা হয়। লিখাপরায় আমি কত মনযোগী তার দৃস্টান্ত তখন থেকেই দিচ্ছিলাম আর কি!
পটলা সবসময় আমাকে অনুসরন করত, আর একদিনের ঘটনা , ও তখন কেবল হামাগুড়ি দিতে পারে আমি বছর তিনেক হব,মা অন্য ঘরে ছিল আমি খেলার জন্য সিড়ি দিয়ে নিচে নামছিলাম, বদমাশটা কখন যে আমার পিছু নিয়েছে কেউ খেয়াল করেনি, সিড়িতে হামাগুড়ি দিতে গিয়ে পড়ল সিড়ি থেকে ।কান্না শুনে মা ছুটে আসে কিন্তু মা এক সিড়ি নামতে নামতে ও গড়িয়ে পরের সিড়িতে , এই করে একদম নিচের সিড়ি পর্যন্ত।
আমি ছোটোবেলায় অনেক চঞ্চল ,মিশুক আর জেদি ছিলাম।আমার বয়স তখন সাড়ে তিন বা চার, তখন যে বাসাই ভাড়া থাকতাম, তার অন্যান্য তলায় টেলিভিশন ছিল, কিন্তু আমাদের বাসায় ছিলনা।বাচ্চা বলে কেউ কিছু বলতনা , আমি সবার বাসায় গিয়ে টেলিভিশন দেখতাম।মার ব্যাপারটা খারাপ লাগত।একদিন বাবাকে বলল, “তোমার মেয়ে অন্যের বাসায় গিয়ে টেলিভিশন দেখতে বসে যায়”। আর কি বাবা নিয়ে আস্ল টেলিভিশন।
পটলা একদম গরম সহ্য করতে পারেনা।শুচিবায়ু রোগ আছে ওর ছোটবেলা থেকেই।টয়লেট এ গেলে নাকে কাপড় দিয়ে বসে থাকত।একবার নানা বেড়াতে এসেছেন আমাদের বাসায় গরমের সময়।পটলা টয়লেট এ গেছে বেশ কিছক্ষন, নানা দুষ্টুমি করে বলল, “কি নানুভাই গরম লাগছেনা?”।পটলার সরল আবদার, “মা টয়লেটের ফ্যান্ টা দিয়ে দাওতো”।সবাই হেসে উঠল, আমাদের টয়লেট তো আর ফ্যান নাই।

আজ সকালে ভার্সিটি গিয়েছি সোয়া এগারটায়।সারাদিন তেমন কোনো কাজ করিনি।প্রোগ্রাম এর এক্ জায়গায় অনেকদিন ধরে আটকে ছিলাম, পলাশ ভাইয়া ঠিক করে দিলেন।আমি এতদিন ধরে পারলামনা আর ভাইয়া ৫ মিনিটের মধ্যে সেটা ঠিক করে দিলেন।একেই বলে অভিজ্ঞতা।সকালে যখন বাবুর সাথে কথা হচ্ছিল তখন আবার অনুভব করলাম , আমাদের সম্পর্ক টা কতটা আবেগহীন। আমার ভাললাগা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যাথা নাই। না থাকাটাই নরম্যাল, কিন্তু আমি কেন যে এত চাই।আমি কি ওকে ভালবাসি? এটাতো চরম বোকামি, আমি জানি ও অন্য কারো, কেন আমার সাথে এই পথচলা।আমার যে কস্ট হবেনা তানা। আমার এখন বেশী দরকার ওকে। কিন্তু ও যেদিন চলে যাবে, সেদিন কি হবে? নামায পরার সময় আবারো মনে হল ,অনিক এর সব আছে আমার কিছু নাই ।আমি মনে হয় এটার এ যোগ্য।ও সংসার করছে , বউকে ভালবাসার চেষ্টা করছে আর আমি বাবুকে নিয়ে অন্য খেলায় মেতে আছি।সবার সুখে নিজের কষ্ট বেশি করে অনুভন করছি।আমি কি এর ই যোগ্য!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×