ফেসবুক যে কি জিনিস আমি জানতামই না।চাকরীতে জয়েন করার পর আমার কলিগেরা দেখি সবাই ফেসবুক ব্যবহার করে।এভাবে শুরু হল, ফেসবুক এ আমার পথ চলা।আমি প্রথমে নিজেকে একদম লুকিয়ে রাখতাম।হাতে গোনা কয়েকজন, আমার খুব কাছের কিছু বন্ধু আর কলিগ এরাই শুধু জানত ফেসবুকে আমার উপস্থিতি।আমি যেদিন বুঝলাম মিন্টুর জন্য দুই বছর ধরে নিজেকে সবার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখে। নিজেক কষ্ট দিয়ে আমি বোকামি করছি, সেদিন ঠিক করলাম, ফেসবুক ওপেন করব।এটা আমার আবার একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।নিজের উপর জেদ করে নিজেকে নষ্ট করার খেলায় মাতার ইচ্ছে হল।কলেজের গ্রুপ এ জয়েন করে অনিক এর নামটা দেখলাম। দেখে মনে পরল, ছেলেটাকে চিনিতো, এর জন্য উর্মি পুরো কলেজ লাইফ এ আমার সাথে খুব বাজে আচরন করত।কারন আমি আর অনিক এক সাথে প্রাইভেট পরতাম, হাস্যকর! ফ্রেন্ড রিকয়েস্ট পাঠালাম, সাথে ছোট একটা মেসেজ, “তুমি কি সেই অনিক?... ব্যাচের?” । কিছুদিন পরই উত্তর আসল,সে সেই অনিক।১২ইসেপ্টেম্বর ২০০৮, আমদের যাত্রা শুরু,ফেসবুকে মেসেজ আদান প্রদান হত, এক মাসের মধ্যেই আমার মোবাইল নাম্বার নিল, এবার শুরু হল, ফোনে কথা, আর সাথে মেসেঞ্জার এ চ্যাটিং!আমি তখন স্কলাশিপের জন্য চেষ্টা করছিলাম, আমার কাগজ পত্র তৈরিতে কিছু সাহায্য করেছে ও।মিন্টুর ঘটনা জানল, আমার মানসিক সমস্যাগুলো জানল।আমি কত একা, আমার ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমানোর কষ্ট, এগুল ওকে কাছে আনল।ও নিজেও রাত জাগতো, অনেক রাত পর্যন্ত কথা বলে আমার ঘুম আসলে তখন ফোন রাখত।এভাবেই চলছিল, আমদের সম্পর্ক।এর মাঝে নভেম্বর এ অনিক এর সাথে আমার দেখা হল সামনা সামনি, কলেজের পর এই প্রথম। আমরা অনেক রকম ফাযলামি করতাম, কিন্তু সিরিয়াস ছিলাম না কেউ। আমি বলতাম “আমার ভিতরে অনেক আগুন , নিভাতে পারবানা”।ও অনেক সময় সেক্সুয়াল ফান পাঠাতো আমাকে।আমিও ফাযলামি করতাম। আমি তখন ও কুমারি ছিলাম।অনিক বলেছিল, তার কোন এক কাজিন এর সাথে তার একবার সেক্স হয়েছে।পরে অবশ্য আসল ঘটনা জেনেছি।যাই হোক প্রথম যেদিন ওর সাথে দেখা হল, আমি তখন ও অফিসে,আমি প্রথম এ বললাম, আজ তো দেখা করা সম্ভব হবেনা। পরে আবার কি মনে হল বললাম , আমার সাথে অফিস থেকে বাসা পর্যন্ত যেতে পার।ও বাসে চড়তে পারেনা, বলল সি এন জি তে যাবে। গেলাম তাই ই বাসাই পৌছাতে সন্ধা।সবাই চলে আসবে তাই ওকে বললাম , আজ আর বোসোনা।যাবার সময় দুজনই ফাযলামি করলাম ফাকা বাসা কিছু করলানা!কি যে হল, দরজার কাছে গিয়ে কিস্ করলাম ওকে।কপাল আমার ,আমিতো এটাও পারিনা! অ্নিক হাসল বলল তুমিতো পারনা, আমাকে পালটা কিস্ দিয়ে স্তব্ধ করে চলে গেল। এই ছিল আমাদের প্রথম দিনের দেখা।রাতে আবার ফোনে কথা, আমাকে বলল, ভয় পেয়ে তো কিছু করার সুযোগ ই দিলানা, হেরে যাবা তাই। আমিও পালটা বললাম তুমিই হারবা।অনিক বলল, কাল অফিস যেওনা, ছুটি নাও, আমি সকালে আসব। আমি ভাবলাম শ্য়তানি করছে, সকালে অফিসে চলে গেলাম।সকাল ১১ টায় ফোন দিয়ে শুরু করল , "কেন গেলি? মানা করলাম না? জানিনা যেভাবে পার আস"।আমার ভেতর ও তখন অন্য এক কামনা, অফিসে মিথ্যা বলে দুপুরের আগেই বেরিয়ে গেলাম। অনিক ওর ভাইয়ের বাসায় ছিল, সারাটা রাস্তা আমাকে জ্বালিয়ে মেরেছে ফোন করে আর মেসেজ পাঠিয়ে,”কিরে আর কতক্ষন লাগবে? প্রোটেকশ্ন লাগবে কিনা?”।আমি ও বললাম তুমি জান তুমি কিছু করতে পারবা কিনা , পারলে লাগবে ,ফার্মেসী থেকে নাও।আমাকে বলে কি করে কিনব লজ্জা লাগে! আমিও ভাবি ফাযলামি ই করছে।বাসায় আসলাম।পুরো ফাকা বাসা কেউ নাই।তারপরে হল সেই অঘটন। আমি হারালাম আমার কুমারিত্ব।কিভাবে যে কি হয়ে গেল, কিছুই বুঝলাম্না।অদ্ভুত এক ভাল লাগা নেশা। আজ মনে হয় অনিক এর জন্য বোধ হয় এই নেশাটাইয় সব ছিল।আমি নিজেকেও ভাল বলিনা, যে কারনেই হোক না কেন, আমার মাঝেও খারাপ কিছু ছিলতো অবশ্যই।যে মেয়ে কোনদিন কোনো মানিসিক সম্পর্কে জড়াবেনা ভেবে বড় হয়েছে ভার্সিটি পর্যন্ত, সে কিভাবে মানসিক ভাবে কোন কমিট্মেন্ট ছাড়াই বিছানায় চলে গেল!! শুরু হল আমার অন্য এক জীবন।
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।