somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সৈয়দ মহসিন আলী ছিলেন একজন জননন্দিত রাজনীতিবিদ তাঁর অভাব কোনদিনই পূরণ হবার নয়

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাহবুবুল আল/

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সকরকারের মাননীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলী, এমপি আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য মাটি ও মানুষের নেতা, মৌলভীবাজারের দল মত নির্বিশেষে হাজারো ভক্ত, অনুরাগী, শুভাকাক্সক্ষীদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে। গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি... রাজিউন)।মৃত্যুকালে তাঁ বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর বছর।
সৈয়দ মহসিন আলী নেই, এ কথা তাঁর লক্ষ ভক্ত অনুরাগী কেউ ভাবতেই পারে না। তেমনি ভাবতে পারছিনা আমি নিজেও। ওনার সাথে পারিবারিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেও সে সম্পর্ক ছাপিয়ে তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের এক অকৃত্তিম বন্ধু। শিল্প-সাহিত্যের পৃষ্টপোষক। তাঁর সততা নিয়ে চরম শত্রুও কোনদিন কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। ব্যক্তি চরিত্রে সারল্যতা, দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে করেছিল অন্যদের চেয়ে করেছিল আলাদা। তিনি যেমন সাদাকে সাদা বলতেন তেমনি কালোকে কালো বলতে দ্বিধান্বিত ছিলেন না। ভন্ডামী, অসাধুতা, হটকারীতাকে তিনি ঘৃণা করে গেছেন আজীবন।
ছাত্রলীগের একজন সাধারণ কর্মী থেকে দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সৈয়দ মহসিন আলী মৌলভীবাজারে অসম্ভব জনপ্রিয় মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। পুরোটা জীবন উৎসর্গ করে গেছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও গণমানুষের কল্যাণে।গণমানুষের রাজনীতি করতে যেয়ে তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি কিছু অংশ বিক্রি করতে হয়েছে। প্রগতিশীল, সংস্কৃতিমনা ও কবিতানুরাগী এই রাজনীতিক তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের আভিজাত্য ছেড়ে প্রথাগত চিন্তা-চেতনার উর্ধে উঠে মিশতে পেরেছিলেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে গরীব, দুঃখী, দুস্ত মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সাক্ষাত “হাজী মহসিন”। তার কাছে সাহায্যের জন্য দ্বারস্থ হয়ে কেউ কোনদিন খালি হাতে ফিরে ডায়নি। তাঁর বাসভবন ছিল সবার জন্য সবসময় উন্মুক্ত। তাঁর বাড়িতে খায়নি এমন মানুষের সংখ্যা খুঁজে মেলা ভার।
সাহসী দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলীর মৃত্যুতে জাতি একজন ত্যাগী রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হারাল। তাঁর অকাল প্রয়াণে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মৌলভীবাজারের রাজনীতির যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো তা শত বছরের পূরণ হবার নয়। কেননা, সৈয়দ মহসিন আলীর মতো ব্যক্তিরা যুগে যুগে নয় শতবর্ষেও জন্মগ্রহণ করেনা। সৈয়দ মহসিন আলী গণমানুষের জন্য তাঁর সারাটা জীবন উৎসর্গ করে গেছেন তা এ অঞ্চলের আর কোন রাজনীতিবিদের মধ্যে দেখা যায়নি।
এই গণমানুষের নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রজীবনেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন । বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে। সিলেট বিভাগ সিএনসি স্পেশাল ব্যাচের কমান্ডার হিসেবে তিনি সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। সম্মুখসমরে আহতও হন। সৈয়দ মহসিন আলী আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ছিলেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য। সিলেট জেলা ও বিভাগীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন তিনি।১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন।নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ মহসিন আলী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই মেয়াদে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।তিনি তিন বার মৌলভীবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে শ্রেষ্ঠ পৌরসভা চেয়ারম্যান হন। মৌলভীবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকার সময় তিনি মৌলভীবাজার পৌরসভাকে একটি আধুনিক পৌরসভায় উন্নীত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে এ পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভা থেকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও সমাজসেবায় অবদান রাখার জন্য ভারতের আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন রিসার্চ সোসাইটি সৈয়দ মহসিন আলীকে ‘আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন স্মৃতি স্বর্ণপদক ২০১৪’ প্রদান করে। ‘হ্যালো কলকাতা’ নামে কলকাতাভিত্তিক একটি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান তাঁকে ‘নেহেরু সাম্য সম্মাননা ২০১৪’ পুরস্কারে ভূষিত করে।আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে সৈয়দ মহসিন আলীর সমাজসেবা ও জনকল্যাণের অবদান সম্পর্কে অবহিত ছিলেন বলেই, সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর পদটি তাকে উপহার দিয়ে দেশ সেবায় আত্মনিয়োগের জন্য সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু কুচক্রিমহল বিশেষ করে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্শান্বিত হয়ে পদে পদে তাঁকে জনগণের সামনে হেয় প্রতিপন্নের চেষ্টা করেও সফলকাম হয়নি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার স্নেহ ও ভালোবাসায় সিক্ত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীত্ব বা ক্ষমতার বলয়ে থেকে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি কালো টাকা আর্জন করে “আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ”গণমাধ্যমে প্রায়ই এ ধরনের সংবাদ বা প্রতিবেদন দেখতে পাই। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বলয়ে থেকেও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে চার্টার বিমান ভাড়া ও চিকিৎসার খরচ মিটাতে বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়িদের দ্বরস্থ হতে হয়েছে তাঁর পরিবারকে। এতেই বোঝা যায় রাজনিীতিবিদ হিসেবে তিনি কতটা সৎ ছিলেন। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমে সৈয়দ মহসিন আলীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত অনেক নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও তাঁকে সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে সরাননি। বরং তাঁকে ডেকে নিয়ে তার সততা ও দেশ প্রেমের প্রশংসা করেছেন।
শেষ করবো এই বলেই, সৈয়দ মহসিন আলী ছিলেন, মৃত্তিকার সন্তান, মাটি, মানুষের বরপুত্র ও বরেণ্য রাজনীতিক। কাজেই শারীরিক মৃত্যু হলেও তাঁর আত্মা ও আদর্শের মৃত্যু হয়নি। তাঁর আদর্শ অম্লান অমলিন। এখন তাঁর আদর্শের অনুসারী ভক্ত-অনুরক্তদের প্রধান কাজ হলো সৈয়দ মহসিন আলীর আদর্শকে ধারণ করে তাঁর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা; তা হলেই এ মহান মানুষটির আত্মা শান্তি পাবে। ###



সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৫৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×