somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেষপর্যন্ত আল্লাহ আমাকে বললো...1

০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৪:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইবলিশ আমাকে নানা ভাবে ভুল পথের হদিশ দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে লাগল .... তবু ওর কথায় একটুও প্রভাবিত না হয়ে নিজের মতো করে চলতে লাগলাম... আমি জানতাম এবাবেই একদিন আল্লার দেখা মিলবেই মরুভূমির বালিয়ারির উপর দাড়িয়ে সে আমার দিকে চেয়ে ছিল ... তার ছোট্ট হাতে জড়ানো বালি গুলো বাতাসে ঝরে ঝরে পড়ছিল ... গোধূলির শেষ আলোয় ওকে যে কি সুন্দর লাগছিলো... আমি ওর দিকে আর একবার ভালো করে চেয়ে দেখলাম ... বালকসুলভ চোখে আমার দিকে চেয়ে মিটিমিটি হাসছে...... ওর রিনরিনে মধুর স্বর বালিয়ারি ছাড়িয়ে দিগন্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো ... - হ্যা . ইবলিস খুব ঝামেলায় ফেলেছে.. আমিও হাসলাম.. -এ কষ্ট জেনেই তো নেমেছি... তাছাড়া আমার ওর উপর একটা মায়া পড়ে গেছে.. - কেন ... ওর কন্ঠ শুনে মনে হলো ও জানে আমি কি বলবো.... সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়লো ও তো জানবেই,, এ অন্তরীক্ষের কোন কিছুই ওর অজানা নয়... আমি বললাম তুমি তো জানই - কিন্তু তুমি যে কথা বলবে সে কথাতো তোমার চিন্তার জন্মের শুরু থেকেই জানি .. তাহলে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছো কেন? আর ... আমি ওর দিকে মুখ তুললাম - তার সজীব হাসি যেন তারই একটা অংশ - আমিই বা কেন তোমার জন্য এখানে দাড়িয়ে রয়েছি কতদিন এরকম হয়েছে ... ছোট্ট খোকা টলমল পায়ে দৌড়ে আসছে .. আমি জানি ও এসে কি বলবে তবু যখন ও এসে বলে বাবা .. আমি জিজ্ঝাসা করি কি বাবা.. আমাকে আমার সামনে দাড়ানো ওই বালকের কাছে নিজেকে নিজের সন্তানের মতোই মনে হলো... আমার গলায় একটু যেন ইবলিসের সারাজীবন বয়ে বেড়ানো অভিমান মিশে গেল - ইবলিস তোমাকে সবচাইতে বেশি ভালবাসতো বলেই ও তোমার অবহেলা সহ্য করতে পারে নি...তাই - আমি কি ও কে কম ভালোবাসিনি? - তাহলে ওর প্রতি এই অবিচার কেন করলে? যে তোমায় সবচাইতে বেশি আরাধনা করলো তুমি তাকে বিপথে ঠেলে দিলে - তুমি কি জানো ওটা বিপথ - তুমিই বলেছো ওর চোখে যেন একটা দুষ্টুমি খেলা করে .. এর কাছাকাছি একটা দৃষ্টি আমি মনে করতে পারি আমার দাদুর চোখে.. আমাকে যখন সে দারুন গম্ভীর স্বরে ডাকতো ছোটু - এদিকে আয়... আমি দৌড়ে পালাতে গিয়েও ভয়ে ভয়ে তার কাছে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যেতাম ... কিন্তু- সূর্যের চারিদিকে পৃথিবী ঘুরে - ট্রান্সলেশন করার পরিবর্তে দাদু কেমন মিহি গলায় জিজ্ঞাসা করতো- মেলায় যাবি.... দাদুর সেই হারানো গলা যেন এতদিন পরে ফিরে আসে... - আচ্ছা তোমার চাকর যখন তোমার কাছে সারাদিন বলে ... আমি আপনাকে ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি তোমার ভালো লাগে ? আমাকেও আল্লাহর অন্তরযামী মনে হয়। আমি স্পষ্ট পড়তে পারছিলাম ওর মনের কথাগুলো যে কথাগুলো ও আমাকে বলবে। কিন্তু আমি কিছুই বলি না। আমার মাথায় হটাৎ মনে হলো আচ্ছা ওর এই যে কথাগুলো - এগুলো কি আয়াত? কারন শব্দার্থে আয়াত মানেই আল্লাহর কথা - হতে পারে .. নাও হতে পারে .. নামও একটা শব্দ .. শব্দ সবসময় সত্য বলে না...বাতাসে ওর কথাগুলো ছড়িয়ে পড়ে.... শব্দগুলোর মধ্যে মাঝ দরিয়ায় পালের উড়ন্ত পতপত শব্দের মতো লাগে... সমুদ্র আর মরূভূমিকে আমার ঐ মূহুর্তে একই মনে হচ্ছিলো.... একটা যাত্রাভূমি .. - দাসের ভালোবাসার কোন মূল্য নেই ... এই কারনে ও কে দাসত্ব থেকেমুক্তি দিয়েছি... এ তো ওকে ভালোবাসি বলেই - এখন ও যত আমার বিরুদ্ধে তোমাদের দুষ্টু বুদ্ধি দেয় ... আমার মজা লাগে ... কিন্তু আমি যেন কিছুই শুনি না - কেবল শব্দগুলো মিলিয়ে যাই - - ও ছাড়া এই অভিমানের গুণটা তোমরা মানুষরা পেয়েছো... এতক্ষনে আমি বুঝতে পারি না ঠিক কোন শব্দটা এর পরে ও বলবে... আমি অপেক্ষা করতে থাকি ওর এর শব্দটার জন্য - সেও বুঝতে পারে আমাকে .. আমার অপেক্ষা... এক মূহূর্তের নিরবতা সে ঝুলিয়ে দিল চোখের দৃষ্টিতে সে মাথা ঝাকিয়ে বললো.....
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৪:৫৬
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামিলীগ ভোটে না থেকেও যেভাবে ভোটে অংশ নিচ্ছ...

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৪

যদি আগামীকাল ৫০ শতাংশের কম মানুষ ভোট দিতে যায়, এর অর্থ হচ্ছে দেশের এখনও বেশির ভাগ মানুষ নির্বাচনে আওয়াীলীগকে চায়। এই কথা অস্বীকার করার তখন কোন উপায় থাকবে না। তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের বিজয় খুব দরকার ...

লিখেছেন অপলক , ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



বিগত সরকারগুলো যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতি করে গেছে, তা পুষিয়ে নিতে ১০টা বছর যোগ্য এবং শিক্ষিত শ্রেনীর হাতে সরকার ব্যবস্থা থাকা খুব জরুরী। গোমূর্খ চাঁদাবাজ আর নারী লিপ্সুদের ভীড়ে জামায়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভোট ডাকাতদের বয়কট করুন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৩


আহা, বাংলাদেশের রাজনীতি যেন একটা অদ্ভুত সার্কাস, যেখানে ক্লাউনরা নিজেদেরকে জান্নাতের টিকিটের এক্সক্লুসিভ ডিলার বলে দাবি করে, কিন্তু পকেট ভরে টাকা নিয়ে ভোটের বাজারে ডাকাতি চালায়। জামায়াতে ইসলামীর মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট : ২০২৬ ইং ।

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:০২

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট : ২০২৬ ইং
(বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে স্হানীয় পর্যবেক্ষণ)




আমরা সবাই অনেক উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা নিয়ে আগত নির্বাচন নিয়ে উন্মুখ হয়ে আছি,
প্রতিটি মর্হুতে বিভিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

******মায়ের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি******

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৫


মায়ের স্মৃতি কোনো পুরোনো আলমারির তাকে
ভাঁজ করে রাখা শাড়ির গন্ধ নয়
কোনো বিবর্ণ ছবির ফ্রেমে আটকে থাকা
নিস্তব্ধ হাসিও নয়
সে থাকে নিঃশব্দ এক অনুভবে।

অসুস্থ রাতের জ্বরজ্বালা কপালে
যখন আগুনের ঢেউ খেলে
একটি শীতল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×