somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ম ও সামাজিক ব্যবস্থাবলী নিয়ে আমার চিন্তা (3)

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৪:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আকাশের বিশালত্ব গ্রহ তারা রবির রহস্যময় হাতছানি থেকে জন্ম নিতে পারে কবিতা এবং বিজ্ঞান দুটোই।
প্রথম কৈশোরে এই নিখিল বিশ্বের অনন্ত্ববোধ বিজ্ঞানের প্রশ্নের বদলে জন্ম দিয়েছিল বিশাল পৃথিবীতে মানুষের একাকিত্বের যন্ত্রনা। এর থেকে কিঞ্চিত দার্শনিকতার জন্মও বোধ করি নিতে পারে - কারন কবিতা না লেখা সত্তেও পরিজনরা কল্পনা করে নিয়েছিলেন এই ছেলে বড় হয়ে লেখক কিংবা কবি হবে।
একাকীত্বের ভাবনার মধ্যে উকি দিত ঈশ্বরের মুখ। আশ্বর্য্য হবেন কেউ আর কেউ হবেন ক্ষুব্দ, কিংবা মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায়ও এটি খুবই সাধারন ঘটনা আমি স্বপ্নে আল্লাহকে দেখি ক্লাস ফাইভে পড়ার সময়। তিনি শরৎের পুঞ্জীভূত মেঘের রূপে দেখা দিয়েছিলেন। আমি তার কাছে কমলা চেয়েছিলাম।
শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে স্বপ্নে দেখি ঐ সময়ের দিকেই- এটি আল্লাহকে দেখার আগে না পরে -ঠিক মনে নেই। ধর্মের আচার এ আমার অভক্তি আরো অনেক আগে থেকেই বিশেষত কোরবানির কারনে।
রক্তমাখা আলোয়ানে জড়ানো হুজুর মহল্লার গরু, ছাগল জবাই করে আমাদের উঠানে এসে দাড়াতেন - হাতের ছুরি দিয়ে টপটপ করে রক্ত ঝরে পড়ছে- আমি ভয়ে জানলার ভেতরে লুকিয়ে পড়েছি - কিন্তু তার কন্ঠ বাতাস বয়ে কানে ঠিই পৌছে দিত - পশু আছে - পশু - কোরবানীর পশু। আজো সেই দৃশ্য আমার চোখ বর্তমান হয়ে ভাসে।
ক্লাস নাইনের কথা তখন, আমার বন্ধু মাসুদ, ধর্মে পরহেজগার ওই বয়স থেকেই আমাকে পন করেছিল ধার্মিক বানাবে। দিনের পর দিন তার সাথে আল্লাহকে নিয়ে তর্ক জমে উঠতো যা আজো অসমাপ্ত হয়ে শেষ হয়ে গেছে। আল্লাহর অস্তিত্ব বিষয়ক কোন প্রশ্নর চাইতে আমার কাছে বড় প্রশ্ন ছিলো আল্লাহ কি জগৎের জন্য মঙ্গলজনক ?
আমার মত ছিলো- 'না' এর দিকে। আমার প্রথম যুক্তি ছিলো একজন মঙ্গলজনক সত্ত্বা দোযখ তৈরী করতে পারে না। মানুষের এই ক্ষুদ্র জীবনে সে কত পাপ করতে পারে যে তার জন্য অনন্তকাল সুকঠিন যন্ত্রনা পেতে পারে?
আমার জোরালো আপত্তি ছিলো- 'অনন্তকাল' নিয়ে। এমনকি লক্ষ বছরও শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলাম যে শাস্তির মেয়াদ শেষে সে একদিন বেহেস্তে যাবে। আমার কাছে মনে হয়েছিল শুধুমাত্র নিজেকে কেউ মানে কি মানে না এমন কোন মানদন্ডে অনন্তশাস্তির বিধান দেবার মন মানসিকতা অত্যন্ত নিচু মনের পরিচায়ক। আর এরকম মনের মানুষকে তো আমরা স্বৈরাচারী হিসেবে ঘৃনা করি। যে বৈশিষ্ট্যের জন্য আমরা মানুষকে তিরস্কার করি সেই গুনসম্বলিত একটি সত্ত্বাকে আমি মানতে প্রস্তুত ছিলাম না।
আল্লাহকে মেনে চলার পক্ষে মাসুদ কতকগুলো যুক্তি দিয়েছিলো তার কয়েকটি এখনও আমার মনে আছে। তার একটি হলো যে স্রষ্টাকে নিয়ে প্রশ্ন করা চলে না। তার সবচাইতে মজার যুক্তি ছিলো তিনি সবচাইতে বড় মাস্তান - তার সব কথা মেনে নিতে হবে। কিন্তু সেইসময় দেশের সবচাইতে বড় মাস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন দূর্বার হয়ে উঠছে -এমন কি মাসুদও এরশাদের বিপক্ষে কথা বলতো। আমার সাথে মাসুদের এই বিতন্ডা চলেছিলো আরো ছয় বছর - দুজন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠাই না নেয়া পর্যন্ত।
ধর্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানীদের ধারনা নিয়ে আগ্রহ তৈরী হয় মূলত মোরিস বুকাইলির বাইবেল কোরআন ও বিজ্ঞান বইটি হাতে আসার পর।
অবশ্য এর আগে এরিক ফন দানিকেনের সিরিজ বইগুলি আমার চিন্তাকে বেশ উত্তেজিত করে তুলেছিল। বাইরের পৃথিবীর কোন উন্নত জীবেরা আমাদের স্রষ্টার ধারনার শুরুতে এটি ভাবতে বেশ ভালো লাগতে শুরু করেছিলো। তখন মাত্র মেট্রিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এরপর আমার নিজস্ব যুক্তির ভাষা অন্য একটি দিকে মোড় নেয়। যেটি আমার সমাজবিজ্ঞান ও নৃতাত্তি্বক বিজ্ঞানের দিকে জানার ঝোকটা তৈরী করে দিয়েছিল। আর বিজ্ঞানের নানা তাত্তি্বক মহরতে যোগ দিতে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন দোরগোড়ায় এস দাড়িয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সী পার্ল এবং চারপাশ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৪


খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গল। সূর্য তখনও জাগেনি। ব্যালকুনিতে গিয়ে বসলাম কিছুক্ষন। সামনে সাগর আপনমনে ঢেউ তুলে নাচছে। একজন মানুষও নাই সাগরপাড়ে। এমন নিরিবিলি সাগরপাড়ই চেয়েছিলাম। যেখানে পুরোটাই আমার থাকবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×