আকাশের বিশালত্ব গ্রহ তারা রবির রহস্যময় হাতছানি থেকে জন্ম নিতে পারে কবিতা এবং বিজ্ঞান দুটোই।
প্রথম কৈশোরে এই নিখিল বিশ্বের অনন্ত্ববোধ বিজ্ঞানের প্রশ্নের বদলে জন্ম দিয়েছিল বিশাল পৃথিবীতে মানুষের একাকিত্বের যন্ত্রনা। এর থেকে কিঞ্চিত দার্শনিকতার জন্মও বোধ করি নিতে পারে - কারন কবিতা না লেখা সত্তেও পরিজনরা কল্পনা করে নিয়েছিলেন এই ছেলে বড় হয়ে লেখক কিংবা কবি হবে।
একাকীত্বের ভাবনার মধ্যে উকি দিত ঈশ্বরের মুখ। আশ্বর্য্য হবেন কেউ আর কেউ হবেন ক্ষুব্দ, কিংবা মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায়ও এটি খুবই সাধারন ঘটনা আমি স্বপ্নে আল্লাহকে দেখি ক্লাস ফাইভে পড়ার সময়। তিনি শরৎের পুঞ্জীভূত মেঘের রূপে দেখা দিয়েছিলেন। আমি তার কাছে কমলা চেয়েছিলাম।
শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে স্বপ্নে দেখি ঐ সময়ের দিকেই- এটি আল্লাহকে দেখার আগে না পরে -ঠিক মনে নেই। ধর্মের আচার এ আমার অভক্তি আরো অনেক আগে থেকেই বিশেষত কোরবানির কারনে।
রক্তমাখা আলোয়ানে জড়ানো হুজুর মহল্লার গরু, ছাগল জবাই করে আমাদের উঠানে এসে দাড়াতেন - হাতের ছুরি দিয়ে টপটপ করে রক্ত ঝরে পড়ছে- আমি ভয়ে জানলার ভেতরে লুকিয়ে পড়েছি - কিন্তু তার কন্ঠ বাতাস বয়ে কানে ঠিই পৌছে দিত - পশু আছে - পশু - কোরবানীর পশু। আজো সেই দৃশ্য আমার চোখ বর্তমান হয়ে ভাসে।
ক্লাস নাইনের কথা তখন, আমার বন্ধু মাসুদ, ধর্মে পরহেজগার ওই বয়স থেকেই আমাকে পন করেছিল ধার্মিক বানাবে। দিনের পর দিন তার সাথে আল্লাহকে নিয়ে তর্ক জমে উঠতো যা আজো অসমাপ্ত হয়ে শেষ হয়ে গেছে। আল্লাহর অস্তিত্ব বিষয়ক কোন প্রশ্নর চাইতে আমার কাছে বড় প্রশ্ন ছিলো আল্লাহ কি জগৎের জন্য মঙ্গলজনক ?
আমার মত ছিলো- 'না' এর দিকে। আমার প্রথম যুক্তি ছিলো একজন মঙ্গলজনক সত্ত্বা দোযখ তৈরী করতে পারে না। মানুষের এই ক্ষুদ্র জীবনে সে কত পাপ করতে পারে যে তার জন্য অনন্তকাল সুকঠিন যন্ত্রনা পেতে পারে?
আমার জোরালো আপত্তি ছিলো- 'অনন্তকাল' নিয়ে। এমনকি লক্ষ বছরও শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলাম যে শাস্তির মেয়াদ শেষে সে একদিন বেহেস্তে যাবে। আমার কাছে মনে হয়েছিল শুধুমাত্র নিজেকে কেউ মানে কি মানে না এমন কোন মানদন্ডে অনন্তশাস্তির বিধান দেবার মন মানসিকতা অত্যন্ত নিচু মনের পরিচায়ক। আর এরকম মনের মানুষকে তো আমরা স্বৈরাচারী হিসেবে ঘৃনা করি। যে বৈশিষ্ট্যের জন্য আমরা মানুষকে তিরস্কার করি সেই গুনসম্বলিত একটি সত্ত্বাকে আমি মানতে প্রস্তুত ছিলাম না।
আল্লাহকে মেনে চলার পক্ষে মাসুদ কতকগুলো যুক্তি দিয়েছিলো তার কয়েকটি এখনও আমার মনে আছে। তার একটি হলো যে স্রষ্টাকে নিয়ে প্রশ্ন করা চলে না। তার সবচাইতে মজার যুক্তি ছিলো তিনি সবচাইতে বড় মাস্তান - তার সব কথা মেনে নিতে হবে। কিন্তু সেইসময় দেশের সবচাইতে বড় মাস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন দূর্বার হয়ে উঠছে -এমন কি মাসুদও এরশাদের বিপক্ষে কথা বলতো। আমার সাথে মাসুদের এই বিতন্ডা চলেছিলো আরো ছয় বছর - দুজন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠাই না নেয়া পর্যন্ত।
ধর্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানীদের ধারনা নিয়ে আগ্রহ তৈরী হয় মূলত মোরিস বুকাইলির বাইবেল কোরআন ও বিজ্ঞান বইটি হাতে আসার পর।
অবশ্য এর আগে এরিক ফন দানিকেনের সিরিজ বইগুলি আমার চিন্তাকে বেশ উত্তেজিত করে তুলেছিল। বাইরের পৃথিবীর কোন উন্নত জীবেরা আমাদের স্রষ্টার ধারনার শুরুতে এটি ভাবতে বেশ ভালো লাগতে শুরু করেছিলো। তখন মাত্র মেট্রিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এরপর আমার নিজস্ব যুক্তির ভাষা অন্য একটি দিকে মোড় নেয়। যেটি আমার সমাজবিজ্ঞান ও নৃতাত্তি্বক বিজ্ঞানের দিকে জানার ঝোকটা তৈরী করে দিয়েছিল। আর বিজ্ঞানের নানা তাত্তি্বক মহরতে যোগ দিতে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন দোরগোড়ায় এস দাড়িয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



