somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ্যালানিসের দেয়াল

১৭ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারা বাড়ির দেয়াল জুড়ে আঁকিবুকি করা। যেন একটুও জায়গা খালি নেই, দেয়ালের রং যে কি ছিল তা এখন বোঝা মুশকিল। ঘরের ঠিক মাঝখানে ৭/৮ বছরের একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অপরাধীর মত দেয়ালগুলো দেখছে, যদিও দেয়ালের এই আঁকিবুকির জন্য সে একাই দায়ী না।

এ্যালানিসদের এই বাড়িটি অনেক পুরানো, মুক্তিযুদ্ধেরও পূর্বে। তবে এ্যালানিসরা থাকে দোতালায়, এ্যালানিসের দাদা যুদ্ধের এক বছর পর দোতলা করেন। তারপর অনেক বছর কেটে গেছে, এ্যালানিসের বাবা, তিন চাচা আর তিন ফুফুর বেড়ে ওঠা এই বাড়িতেই। আনন্দ-বেদনা নিয়ে অনেক স্মৃতি, অনেক গল্প এই বাড়িটি ঘিরে। আজ থাক সেসব গল্প, আজ শুধু অনেক অনেক বছর পরের এ্যালানিসের গল্পটিই শুনবো।

দেয়ালের এই আঁকিবুকির দায়ভার যেমন এ্যালানিসের, তেমনি তার বাবা, চাচা আর ফুফুরও। এ্যালানিসের চাচারা বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন অনেক আগেই। তিন ফুফুও বিয়ে করে ছেলে-মেয়ে আর সংসার নিয়ে এখন ব্যস্ত, তবে ঢাকায় থাকার সুবাদে সবসময়ই আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকে। তেমনি আজ তিন ফুফুকে একসঙ্গে পেয়ে যায় এ্যালানিস! এবং সে তার অপরাধবোধের কথা তাদেরকে জানায়, তারাও ব্যাপারটি নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পরে। আসলেইতো সারা বাড়িময় আঁকিবুকি, কেমন দেখায়? এ্যালানিসের আম্মুকে নিয়ে ফুফুরা চিন্তা করলো কি করা যায়। এমন কিছু একটা করতে হবে যাতে এই দাগ থেকেও পরিত্রাণ পাওয়া যায় আবার এ্যালানিসও আনন্দ পায়, অপরাধবোধটাও কেটে যায়।

পরদিন সকালে ফুফুরা একগাদা রং আর তুলি নিয়ে হাজির! দাদা-দাদুর ঘরে আঁকা হল লতাপাতা আর সুন্দর কিছু ফুলের ছবি। দাদু নিজেই ফুলগুলো আঁকছেন, দাদা তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন কিন্তু দাদুর মনমতো হচ্ছে না, আর শুধু ধমক খাচ্ছেন, তাই দেখে সবাই মুখটিপে হাসছে। লাউড স্পিকারে গান চলছে আর চলছে সকালসন্ধ্যা ওয়াল টু ওয়াল দাগ ঢাকার নানা কৌশল। ডাইনিং রুমের দেয়ালে আঁকা হল ফল-ফ্রুটের স্টিল পিকচার। ড্রয়িং রুমে আঁকা চলছে লাইফ সাইজের সব জন্তুজানোয়ার; বাগস বানি, টম এন্ড জেরি, লায়ন কিং আর কত কি! কোন কোনটা কার্টুন ক্যারেক্টার, কোনটা আবার মনগড়া। ছবি আঁকতে আঁকতে এ্যালানিসের জামার হাতায় একটু রং লেগে যায়, সে ভয়ে ভয়ে মা’র দিকে তাকায়, মা একটা হাসি দিয়ে তার তুলি থেকে একটু রং ছিটকে দেয় এ্যালানিসের দিকে, আর শুরু হয়ে যায় রঙ্গের যুদ্ধ! এ ওকে, আর সে তাকে, সবাই রঙ্গে মাখামাখি... এ সময়ই এ্যালানিসের বাবা ফিরে অফিস থেকে, প্রথমে কিছুটা অবাক হয়ে গেল বটে, কিন্তু একটুপরই সেও একটা তুলি হাতে নিয়ে রঙ্গের যুদ্ধে লেগে পরে! এরপর সে চলে যায় সোজা এ্যালানিসের ঘরে, আর আঁকতে শুরু করে দেয় বিশাল সাইজের একটা মিকিমাউস।

বাবা-মা’র ঘরের ফিনিশিং টাচ চলছে। ঘরের একদিকে সমুদ্র, সন্ধ্যাআকাশ, পূর্ণিমার চাঁদ আর তাঁরা। আরেক দিকে সবুজ ঘাস, নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর উজ্জল সূর্য। বাবা একমনে কাজ করে যাচ্ছে। এ্যালানিস একটু ফ্রেশ হয়ে বাবার পাশে এসে বসেছে, বাবা খেয়াল করেনি সেটি, তার হাতের রং লাগানো তুলিটি বেখেয়ালে রাখতে গিয়ে এ্যালানিসের জামায় আবারও রং লেগে যায়। বাবা বলে উঠলো, “ইস!” আর মা বললো, “এই না নতুন জামাটা পরলি?” এ্যালানিস বলে উঠলো, “কিছু হবে না আম্মু, দাগ থেকেই তো আমরা সুন্দর সুন্দর কত কি এঁকে ফেললাম।” সবাই একসঙ্গে হেসে উঠলো। সারা বাড়ির দেয়াল এখন আর আগের মত কদাকার লাগছে না।

এ্যালানিসের বাবা-চাচা-ফুফুরা প্রোফেসনালি কেউ আর্ট না শিখলেও মন্দ আঁকেনি, তার মা’ও কম যান না, বাড়িটিকে এখন বেশ প্রানবন্ত দেখাচ্ছে। এ্যালানিসকে ঘিরে ধরল সবাই আর সবাই মিলে তাকে জড়িয়ে ধরে উপরের দিকে উঠিয়ে নিয়ে নাচতে লাগলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×