শুরুতেই বলে রাখি, এই লেখাটি একজনের অনুরোধের ফলাফল।
আমার ছোটবেলার ঈদ! ছোটবেলায় মানে সেই অনেক দিন আগে যখন আমি মিরপুর ২ এ থাকতাম, সেই সময় যখন মিরপুর এতো ঘন বসতিপূর্ণ ছিল না, খেলার জন্য যথেষ্ট খোলা মাঠ ছিল, ঢিল দিয়ে পাশের বাড়ীর সজনা গাছে বসে থাকা বাঘদাস তাড়াতাম, ঢোল কলমি গাছের ডাল ভেঙে কাঁঠালের আঠা লাগিয়ে ফড়িং ধরতাম, লাল মাটি পানিতে মিশিয়ে দুই হাতের তালুতে নিয়ে মাটির বল বানিয়ে গুলতি দিয়ে বড়ই গাছে মারতাম, যখন ১০ পয়সা দিয়ে লজেন্স পাওয়া যেত আর আমার কালেকশনে অনেকগুলো ১ পয়সাও ছিল!!!
তো সেই সময় ঈদ মানেই নুতুন জামা, পকেটে কিছু নুতুন নোট, সারাদিন টো টো কোম্পানি, আর দোস্তদের বাড়িতে বাড়িতে মজার মজার খাওয়া। ঈদ এর দিন সকালে ঈদগাহ মাঠে নামাজ পরে বাসায় এসে সেমাই খাওয়া, তারপর নুতুন জামা পরে এলাকায় বের হওয়া। সব ইয়ার দোস্তরা একজোট হলে আমার আব্বাজান সবাইকে একসাথে দাড় করিয়ে একটা ছবি তুলে দিতেন। ছবিগুলো শেয়ার করতে পারলে ভালো লাগতো, কিন্তু অসংখ্য রাইট করা সিডির মাঝে কোন একটাতে আছে, এই মুহূর্তে বের করতে পারব না। সারাদিন একসাথে ঘুরে বেড়ানো আর খাওয়া চলতো পকেটের তাজা নোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত। আমাদের সেই সময়ে সন্ধ্যার পর বাইরে থাকার কালচার ছিলও না, খুব বড়োজোর মাগরিবের আযান দেয়া পর্যন্ত বাইরে থাকাটা মেনে নিতেন বাবা মা। সো ঈদ অ্যাডভেঞ্চার সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ শেষ হত।
আমার আজকের ঈদ! মিরপুর ছেড়েছি সেই ১৯৯৫ সালে। এখন মাঝে মাঝে গুলশান অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে মিরপুর দিয়ে আসি, নস্টালজিয়াতে আক্রান্ত হতে ভালো লাগে। মাঝে মাঝে এলাকার সেই রোড দিয়ে ফেরার পথে অবাক হই, এই কি সেই মিরপুর! অচেনা লাগে। আজ ঘুম থেকে উঠে এলাকার মসজিদে নামাজ আদায়, তারপর বাসায় এসে কাবাব, বিফ ভুনা দিয়ে খিচুরি খেলাম। আমি মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি প্রায় এক বছর হল, সো সেমাই আমার তালিকায় নেই। নিজের রুমে এসে গতকাল সন্ধ্যা থেকে পাওয়া কয়েক ডজন ঈদ মুবারাক এসএমএস এর রিপ্লাই দিতে দিতে আঙ্গুল ব্যাথা হয়ে গেল। ভাবলাম একটু ঘুমিয়ে ২০১৬ ঈদ ডে টা পার করে দেই, কিন্তু সেটা বেশী নিষ্ঠুরতা হয়ে যায়। তাই রিডিং রুমে এসে পিসি চালু করলাম, উদ্দেশ্য ছিলও অনেক আগে ক্রিয়েট করা কিছু অব্যবহৃত আইডি ডিলিট করে দেয়া.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

