আমি স্থাপত্যবিদ্যার কোন বোদ্ধা নই...এই বিদ্যার গুনাগুন বিচারের কোন মাপকাঠিও আমার জানা নেই...তবে ছোটবেলায় যে স্থাপনাটি কাছ থেকে দেখে হতবাক হয়েছিলাম তার নাম সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ...টিভিতে দেখে ভেবেছিলাম স্মৃতি সৌধ বোধহয় কংক্রিটের তৈরি উঁচু মিনার কিন্তু যেদিন প্রথম কাছে গিয়ে দেখলাম তখনই বুঝলাম আরিব্বাস এমনও হয়...সাতটি ত্রিকোণ কলামকে পাশাপাশি রেখে এমন চোখের ধাঁধা বানানো যায়!!!
ছোটবেলায় পাঠ্যবইতে আমেরিকার এম্পায়ার এস্টেট বিল্ডিংয়ের নকশাবিদ গুণী বাঙালি স্থপতি এফ আর খানের কথা পড়েছি...কিন্তু আমাদের পাঠ্যবইয়ে এই জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতির কথা একলাইনও লেখা ছিলো না...(বোধহয় সাহেবসুবোদের বিল্ডিংয়ের ডিজাইন না করলে বিখ্যাত হওয়া যায় না)...
অনেকদিন পর বড় হয়ে তার নাম জানলাম...তিনি সৈয়দ মাইনুল হোসেন...প্রচার বিমুখ গুণী মানুষটি আজ দুপুরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন...
শুধু স্মৃতিসৌধ নয় ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (১৯৭৭), বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবন (১৯৭৮), চট্টগ্রাম ইপিজেড কার্যালয় (১৯৮০), জাতীয় যাদুঘর (১৯৮২) ও উত্তরা মডেল টাউন (১৯৮৫) এর নকশাও তার করা...
জীবনের শেষ কটা দিন এই মানুষটির খুব ভালো কাটেনি এ কথা বলে দেয়া যায় চোখ বন্ধ করেই...কারণ তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন...জীবদ্দশায় ১৯৮৮ সালে একুশে পদক দেয়া ছাড়া আর কোন সম্মানে তাকে ভূষিত করা হয়েছিলো কী না তা আমার জানা নেই...স্থাপত্যবিদ্যার কঠিন গাণিতিক হিসাব নিকাশের বাইরে তার দারুন শিল্পীমনের খোঁজ নেয়নি বোধহয় কেউ কখনো...নিভৃতচারী সৈয়দ মাইনুল হোসেনের জন্য অনেক অনেক শ্রদ্ধা....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


