'নূর হোসেন গাড়ির জানলা দিয়ে মাথা ঢুকিয়ে আমাকে বললো, 'আপা, আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দেন। গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়ে যাব।'
গতকাল শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগ আয়োজিত সমাবেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেনের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গে এ কথাগুলো বলেন।
আপা নূর হোসেন কিন্তু তার কথা রেখেছে। স্বৈরাচারের কালো থাবা থেকে দেশকে মুক্ত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে রাস্তায়। আপনিও হয়তো শহীদ নূর হোসেনের পরিবারের জন্য অনেক কিছুই করেছেন।
কিন্তু আপা আমরা যারা রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষ...যারা রাজনীতির কোন মারপ্যাঁচ এক্কেবারে বুঝি না...যাদের কাছে শেখের বেটির কথাই শেষ কথা...তাদের কিন্তু খুব খারাপ লাগে যখন দেখি সেই স্বৈরাচার আর তার তল্পিবাহকরা আপনার আশপাশে...
হয়তো রাজনীতির হিসেবে কষলে এটাই ঠিক...তবে আমাদের জিনিসটা ভালো লাগে না...সেদিনের পুলিশের গুলি খাওয়া নূর হোসেন বেঁচে গেলে বােধকরি তারও এমনই কষ্ট লাগতো যেমন কষ্ট লেগেছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের, রাজাকারের গাড়িতে জাতীয় পতাকা দেখে...
আপা আপনার যুবলীগ-ছাত্রলীগের বাইরে এদেশে এখনো লক্ষ নূর হোসেন রয়েছে যারা আপনার কথায় বিনা বাক্যব্যয়ে কালো রাস্তায় লাল রক্ত ঢালতে প্রস্তুত...তবে বারবার যদি তারা রাজনীতির খেলায় নূর হোসেনদের আত্মত্যাগের এমন পরিনতি দেখতে থাকে তবে সেই সংখ্যা কমবে বৈ বাড়বে না।
(বি:দ্র: আপা মনে হয় সময় এসেছে এখন, আপনার যুবলীগ নামক সংগঠনে কিছু ভালোমানুষের চাষবাস করবার। এই সংগঠনে এতো বেশি মানুষরূপি দানবের জন্ম হয়েছে যে, তারা একেকজন একাই যথেষ্ঠ পুরো দেশের মানুষের মনে বিষ ছড়িয়ে দিতে।)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




