প্রতিদিন বাস-ট্রেন দুর্ঘটনায় কতাে মানুষ মারা যায়...এদের কারোর জন্যই মন কেমন করে না...কিন্তু বিমান দুর্ঘটনায় কেউ মারা গিয়েছে শুনলেই মনটা কেমন জানি করে...ঠিক জানি না এর পেছনের কারনটা...হতে পারে খুব ছোটবেলায় নিজের মেধার দৌড় না বুঝেই পাইলট হতে চেয়েছিলাম বলে এমনটা হয়...
ধরেন কথাটা কিন্তু কয়েকভাবেই বলা যায়...যেমন নারী বিদ্বেষী হলে বলতেই পারি, বাঙালি নারীরা আকাশে বিমান উড়ানোতে মোটেও সিদ্ধহস্ত নন...এ কথা শুনলে যে কোন নারীই আমার কলার চেপে বলতে পারেন, এ্যাই তুই এ কথা বললি কেনো?
আমিও বেশ নির্লিপ্ত গলায় বলতে পারি, বলেছি কারন বাংলাদেশের ইতহিাসের সবচেয়ে বড়ো বিমান দুর্ঘটনাটার শিকার প্লেনটির ক্যাপ্টেন ছিলেন রুকসানা, তিনি একজন নারী... প্রায় একযুগ আগে বুড়িগঙ্গার কাছে যে প্রশক্ষিন বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিলো তার পাইলট ফারিয়া লারাও একজন নারী...আজ রাজশাহীতে যে প্রশিক্ষন বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে প্রশক্ষিনার্থী পাইলট তামান্না মারা গেলেন সেও একজন নারী...
তাই আমিই ঠিক...তবে এ ধরনের নারী বিদ্বেষী তর্ক জুড়ার আগে জেনে নিতে হবে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশে বিমান দুর্ঘটনার কারনে পুরুষ বৈমানিকদের মৃত্যুর তথ্যের কোন তথ্য-উপাত্ত জানেন কী না?...যদি জেনে থাকে তাহলে এই তর্কে যাওয়া যাবে না কারন সে উপাত্তে স্বভাবতই পুরুষরা এগিয়ে...
আর যতোদূর জানি বিমান র্দুঘটনায় নারী পাইলটদের মৃত্যুর কারন কোনটাই অদক্ষতার জন্য নয়...ক্যাপ্টেন রুকসানার বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিলো দুর্যোগপূর্ণ আবাহাওয়ার কারনে আর ফারিয়া এবং তামান্নার বিমানগুলো যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে...
গতরাতেই আমার মতো বিমান প্রিয় আরেক বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দেয়ার সময় বলছিলাম গেলো বছর এবং এ বছরটা বিমানের জন্য কুফা একটি বছর...বেশ উল্লেখযোগ্য অনেকগুলো দুর্ঘটনা এই দুবছরে ঘটেছে...তবে আল্লাহর রহমত বাংলাদেশ এখনো এর কবলে পড়েনি...
যদিও আমাদের মতো গাড়লের আলোচনার সঙ্গে আজকের রাজশাহীর বিমান দুর্ঘটনার সম্র্পক নেই...তবুও আজ দুপুরের ঘটনা জানার পর একবার মনে হলো সব বিষয় নিয়ে আলাপ আলােচনা না করাই ভালাে...
আকাশে উড়বার সাধ নিয়ে উড়তে গিয়ে যে রুকসানা, ফারিয়া বা তামান্নারা মাটিতে ছিটকে পড়লেন তাদের জন্য মাটিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে চেয়ে থাকা আমাদের অনেক অনেক ভালোবাসা...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




