সংবাদপত্রে কাজ করার সুবাদে প্রায় প্রতিদিনই গড়ে ১০-১৫টা ধর্ষণের সংবাদ আমার চোখে পড়ে...এগুলোর কোনটা ছাপা হয় কোনটা ছাপা হয় না...আমি অবলীলায় সেগুলোতে চোখ বুলাই...এডিটে কোন ভুল থাকলে ঠিক করে দেই...মাঝে মাঝে সহকারী সহকর্মীদের সঙ্গে অদিরসাত্মক তামাশাও করি...’কী মিয়া বাইছা বাইছা খালি ধর্ষণের নিউজগুলাই এডিট করেন নাকি’...
তবে আমি খুব সন্তর্পণে চেপে যাই ধর্ষণের নিউজগুলো চোখে পড়লেই যে আমার মনটা খুব খারাপ হয়...প্রচণ্ড রাগ হয়...মুখে থুতু জমে...পাছে ওরা আমাকে নরম মনের ভাবে...
আজ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করা হয়েছে...চিন্তা করতে পারছেন ব্যাপারটা...রাতভর ধর্ষণ এরপর মুখ বিষ ঢেলে দেয়া...মেয়েটাও কোনমতে বাড়ি ফিরে তার মুখে বিষ ঢালার কথাটি বলতে পেরেছিল...কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি...নিউজটি পড়ার পর থেকে আমার চোখে খালি ভেসে উঠছে একটা কান্নাভেজা মুখ...ভীষনভাবে বাঁচতে চাওয়া যন্ত্রণাকাতর একটা চেহারা...ব্যস এটুকুই এর বেশি কিছু না...
যারা এই পাশবিক অপকর্মটি ঘটিয়েছে তাদের বয়েস আবার ১৬...তার মানে দাঁড়ালো এই সারমেয় ছানাদের যদি পুলিশ গ্রেপ্তারও করে আদালত তাকে বড়জোর কিশোর সংশোধনাগারে প্রেরণ করবেন...কারণ আইনের খাতায় সারমেয় ছানাটি শিশু...
ধর্ষণ সেতো ঘটবেই...ধর্ষণ হবে আমরা ছাপবো আর নারী নেত্রীরা সেই পেপার কাটিং নিয়ে পাঁচতারা হোটেল থেকে শুরু করে ইউরোপ-আমেরকো দৌড়ে বেড়াবেন...এটাই স্বাভাবিক...
শুধু মাঝখান থেকে কিশোরীর বেমালুম মরে যাওয়া অথবা আত্মহত্যা অথবা দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা...অনেকদিন আগে একটা লেখা প্রসব করেছিলুম এই ধরণের নির্যাতনের শিকার নারী ও তার পরিবারের আইনী সহয়াতার পাশাপাশি মানসিক সহায়তার জন্য সংস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারে...
শালার আমরাও আছি লিখেই খালাস...
ধ্যাত...চলুক সব আগের মতো...যা চলছিল এতোদিন...
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



