তখন কেবল যমুনা সেতুর কাজ শেষ হয়েছে...দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে সেতুটিকে এক নজর দেখতে...রংপুরের এক চরাঞ্চল থেকে একদল দিনমজুরও এসেছে সেতু দেখতে...
এতো বড়ো সেতু দেখে তারা পুরাই তাজ্জব...একজন আরেকজনকে বলতো শুরু করলো...কতো বড়ো ব্রিজ বানিয়েছেরে...অনেক খরচা পইড়েছে ঠিক না...অন্যজন বলছে, তা তো পইড়েছেই...তা কতো লাগতি পারে আন্দাজ কইরতে পার...আরেকজন খুব চিন্তা করে বললো, তা কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকাতো লাইগেছেই...
যারা উত্তরবঙ্গের মানুষদের ‘মফিজ’ বলে শান্তি পান...এরকম একজনের মুখ থেকে আমার এই গালগপ্পো শোনা...আসলে যার সামর্থ্য যতোদূর তার চিন্তার সীমাও ততোদূরই হওয়াটা স্বাভাবিক...এই যেমন আমি...গতরাতেই মফিজ হলাম...
বনানীর একটা ঘর গেরস্থালীর দোকানে ৫০% ডিসকাউন্ট দিয়েছে...দোকানের রাস্তামুখো স্বচ্ছ কাঁচের দেয়ালে এ সংক্রান্ত একটা নোটিস ঝোলানো...নোটিশের পাশে আরো বড় করে বিশাল একটা সোফা সেটের ছবি...তাতে লেখা ’ লেদারের সোফাসেট মাত্র ১,৪৯,০০০ টাকা’...আমি চমৎকৃত হই...না না তব্দা খাই...শতকরা ৫০ ভাগ ডিসকাউন্ট দিয়ে এই সোফাসেটের দাম দেড় লাখ টাকা তার মানে অন্য সময় এর দাম ৩ লাখ টাকা!!!
বাসায় ফিরছিলাম রাতে...বাসের জানালা দিয়ে ওই দোকানের বৈশাখী ঝড়ো অফার দেখে আমার মাথাতেও বৈশাখী ঝড় বইতে লাগলো...হিসেব কষতে লাগলাম...এতো দাম একটা সোফাসেটের??? আর এই দোকানে এটাই বোধহয় সবচে কমদামী পণ্য...
কারণ অভিজ্ঞতা বলে ছাড়ের সময় সবচেয়ে কমদামের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতা আকৃষ্ট করা হয়...যেমন সুপারশপগুলো প্রায়ই বিজ্ঞাপন দেয় ১ টাকায় মুরগির ডিম ( পাশে অবশ্য পঁচা লিখতে ভুলে যায় তারা)...
সে যাক হোক....যারা ছোটখাটো বেসরকারী অফিসে চাকুরি করেন তাদের অধিকাংশ পুরো বছরে ওই ছাড়ের দামের সমান মাইনেও পায় না...
নিজেকে বোকা বোকা লাগে...কতো কিছুই জানি না জীবনে...
সারা জীবন মফিজই রয়ে গেলাম...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


