somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসময়ের গল্প...

১৬ ই মে, ২০১৬ রাত ৮:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গল্পটা বর্ষার কিন্তু করছি গ্রীষ্মে...করলাম না হয় অসময়ের গল্প...সুসময় কবে আসবে সেই আশায় না থেকে...

চারদিকে থইথই পানি...পানির মাঝখানে জেগে থাকা ছোট ছোট গ্রামগুলোকে দ্বীপের মতো মনে হয়...বিদ্যুত নেই...সন্ধ্যে হলেই হারিকনের আলো আর কুপিই ভরসা...চুপচাপ কান পেতে বসে থাকলে হাওরের দিক থেকে বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দটা কানে আসে...ভারী আনন্দ হয় তখন...ভেজা মাটি আর পঁচা পাতার গন্ধটাও মিষ্টি লাগে এক আধটু...

একটু অবস্থাপন্ন গেরস্থ হলে হ্যাজাকের দেখাও মিলে...বিকেলর আলো মরে এলে পাটক্ষেতে শিয়ালের করুণ সুরে কান পাতা দায়...তবে রাত গভীর হলে এই মরাকান্নাও কমে আসে...হাওরের রীতিই এমন...রাত যতো বাড়ে মায়াও বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে...

আজ এ বাড়িতে গানের আসর...আমি বড় অতিথি...আমার সম্মানেই...অাসর শেষে আল্লোরার আয়োজনও আছে...আল্লোরা জানেন তো কি???না জানলেও ক্ষতি নেই...আরেকদিন লিখব এ নিয়ে...শুধু জেনে রাখুন রাতে মাছ ধরার মতো একটা ব্যাপার স্যাপার আরকি...

অবস্থাপন্ন গেরস্থ বাড়ি...উঠোনে পাঁচটা হারিকেন একটা হ্যাজাক...তবে অন্ধকার দূর হয়নি...গাইয়ে দলের চারপাশে জ্বলছে এগুলো...হারিকেনের মরা হলদে আলো আর হ্যাজাকের উজ্জ্বল সাদা দুয়ে মিলে ঘোলাটে অন্ধকার...নাম না জানা পতঙ্গরাও ঝাঁপ দিচ্ছে খুব...আমার চোখ কিছুই এড়ায়না...

শাহ্ আব্দুল করিম দুটো গাওয়া শেষ...এবারে চলছে রাধা রমেন...এসবই আমার অনেকবার শোনা...তবুও যতোবার শুনি তৃষ্ণা মেটেনা...মূল গায়কের বয়েস বোঝা দায়...জোড়া ভ্রু পেকে সাদা ধবধবে...তুবড়ানো গাল...ষাট কিংবা সত্তরও হতে পারে বয়েস...ভাঙা জড়ানো গলায় গাইছেন গান...সুরটা কোনরকম তবে দরদ ভরা...

কেনো গো রাই ঘুরছ তুমি পাগলিনী হইয়া...লাইনটা বলেই টান দিয়েছে...সঙ্গে হাওরের দিক থেকে দমকা হাওয়া উঠল...ঠান্ডা শীতল দমকা হাওয়া...চুলের গোড়া থেকে ঠান্ডা জল ঘাড়ে গড়িয়ে পরলে যেমন অনুভূতি হয় তেমন একটা অনুভূতি...

অনুভূতিটুকু না মেলাতেই অ‍ামার পাশে বসা তরুণী খুব সন্তর্পণে সবার অলক্ষে আমার হাতটা চেপে ধরলো...এ তো রাখঢাকের প্রয়োজন ছিলো না তবুও...এ সময় গা শিরশিরে অনুভূতি জাগার কথা...কিন্তু আমার বুকটা ছ্যাৎ করে উঠলো...

কারণ এ হাত চেপে ধরায় উষ্ণতা নেই...আছে বিদায়ের গন্ধ...বুক ঠেলে কান্না উঠে আসা বিশ্রী বিদায়ের সুর...আমি বুঝে গেলাম এই আমাদের শেষ...এখানেই ইতি...

আমার কখনো বুঝতে ভুল হয়নি...হবেও না...
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০১৬ রাত ৯:৩১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×