somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৌরিতানিয়ান রেলওয়ে

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৩:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মৌরিতানিয়া,একটি সাব-সাহারান আফ্রিকান দেশ। আয়তন প্রায় ১০,৩০,০০০ বর্গ কি.মি। বিশাল দেশ, বিশাল আয়তন কিন্তু জনসংখ্যা খুবই কম। মাত্র ৪৩ লক্ষ , প্রতি বর্গ কি.মি তে মাত্র ৩.৪ জন বাস করে । বুঝাই যাচ্ছে প্রায় জনমানবহীন বিশাল দেশ, এই দেশের এক পাশে অ্যাটলান্টিক মহাসাগর আর আরেক পাশে সাহারা মরুভূমি । এই দেশটির প্রায় সম্পূর্ণ অংশ জুড়ে আছে সাহারা মুরুভূমি ।
হ্যাঁ, সেই সাহারা মুরুভূমি যার কথা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে বিস্তীর্ন বাদামী ধূ ধূ বালিরাশি । মাথার উপর তপ্ত সূর্য,আলো ছড়াচ্ছে । পায়ের নিচে বালু যেন,কোনো একঅগ্নিকুন্ড ।পিপাসার বুক ফাটে তবুও একফোঁটা পানি মিলবে না,আরা আছে বিষাক্ত সাপ,বিচ্ছু আর প্রচণ্ড ধূলি ঝড় ,হঠাৎ করেই বালি ঝড়ে চোখের সামনে বিশাল পর্বতের মত বালির দেয়াল দাড়িয়ে এই হলো সেই সাহারা । সেই বিশাল সাহারা মুরুভুমির একটা বড় অংশ পড়েছে এই মৌরিতানিয়ায় । প্রায় শত ভাগ মুসলমানের বাস এই দেশে , তার বড় একটা অংশ থাকে শহরে । কারন সাহারা মুরুভুমি মানুষ বসবাসের জন্যে উপযুক্ত না। মৃত্যু সেখানে প্রতিনিয়ত কড়া নাড়ে ,প্রতিকূল পরিবেশ প্রায় জনমানবহীন অঞ্চল , জীবনকে করেছে আরোও কঠিন ।
যার কিছু নাই তার খোদা আছে । ঠিক প্রায় সেরকমই এই দেশে চাষ-বাশ করে খাদ্য উৎপাদন প্রায় করা যায়না বললেই চলে । দেশের মোট জমির মাত্র ০.২ শতাংশ মাত্র কৃষিযোগ্য। ভাবুন একবার কিভাবে চলে এই দেশ। কিন্তু আল্লাহ এদের দিয়েছে অঢেল প্রাকৃতিক সম্পদ । আর সেই সম্পদ ব্যাবস্থাপনা জন্যে তারা বানিয়েছে পৃথিবীর অন্যতম একটি বিখ্যাত ট্রেন লাইন। সাহারান রেলওয়ে,সে এক বিস্ময়।
এইটি চালু করা হয় ১৯৬৩ সালে , মূলত প্রাকৃতিক খনিজ পরিবহনের জন্যে ।এই রেলওয়ে হচ্ছে লম্বা সোজা একটি রেলওয়ে ট্র্যাক যা ৭০৪ কিমি লম্বা(৪৩৭মাইল)। এটাই হচ্ছে দেশের লাইভ লাইন । মরুভুমির মধ্যে দিয়ে সব বাধা পেরিয়ে ছুটে চলে এই ট্রেন।স্পেশালি এই ট্রেন শুরু করা হয়,প্রাকৃতিক খনিজ বহন করে নিয়ে আসার জন্যে।সেই খনিজ হচ্ছে লোহা ।এই লোহা উৎপাদনে এইদেশ শীর্ষস্থানীয়। এর সাথে বহন করে নিয়ে আসে মানুষ,মালপত্র পানি সহ আর অন্যন্য জিনিস।এই রেল লাইন শুরু হইয়েছে কাসাদো শহর থেকে এর পর অনেক গুলো জায়গা ঘুরে শেষ হয় মাহাওদাত খনিতে।সেখান থেকে আবার খনিজ নিয়ে যাত্রা শুরু করে একবার গন্তব্য পৌঁছাতে এর সময় লাগে ৩০ ঘণ্টা । সেখানে দিনের বেলা তাপমাত্রা থাকে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস !! ভাবা যায়।
আর এই ট্রেন গুলোর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৩ কিমি, এত গুলো বগি এর সাথে সংযুক্ত থাকে যে এর একবারে পরিবহনকৃত লোহা দিয়ে একটি আইফেল টাওয়ার বানানো সম্ভব। ট্রেনের সাথে ৩ টি করে লোকোমটিভ (ইঞ্জিন) সংযুক্ত থাকে ।
মজার বিষয় হচ্ছে এই ট্রেনটি সে দেশের খনিজ সম্পদ অথরিটির মালিকানাধীন ।

জীবন কতটা রুক্ষ হতে পারে তার একটা ধারনা পাওয়া যায় এই রেলওয়ে এবং এর সাথে যুক্ত মানুষের জীবনাচারন দেখলে।
রুক্ষ হোক , সিক্ত হোক জীবন সুন্দর।
জীবন সেখানে যেমন।যদি কখনো ইচ্ছে হয় ঘুরে আসতে পারেন এই রেল পথ ,সেই ব্যবস্থাও রয়েছে ।
২০১৯ সাল থেকে তারা টুরিস্টদের জন্যে এই ট্রেনে ভ্রমনের সুযোগ করে দিচ্ছে । টুরিস্টদের জন্যে ২ টি কামরা সংযুক্ত করা হচ্ছে এবং টুরিস্টরা একটি লোহার খনিও পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন ।

This Sahara Railway Is One of the Most Extreme in the World
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:৫০
১২টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেলফোর রোড টু কাশ্মীর ! : সভ্যতার ব্লাকহোলে সত্য, বিবেক, মানবতা!

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

ফিলিস্তিন আর কাশ্মীর! যেন আয়নার একই পিঠ!
একটার ভাগ্য নিধ্যারিত হয়েছিল একশ বছর আগে ১৯১৭ সালে; আর অন্যটি অতি সম্প্রতি ২০১৯ এ!
বর্তমানকে বুঝতেই তাই অতীতের সিড়িঘরে উঁকি দেয়া। পুরানো পত্রিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চামড়ার মূল্য- মানুষ ভার্সেস গরু

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৪


২০১০ সালের কথা; তখন পূর্ব লন্ডনের ক্যানরি ওয়ার্ফ (Canory Wharf) এর একটি বাসায় ক্লাস নাইনে পড়া একটি ছাত্রীকে ম্যাথমেটিকস্ পড়াতাম। মেয়েটির আঙ্কেল সময়-সুযোগ পেলে আমার সাথে গল্পগুজব করতেন। একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাদীজান ও হ্যাজাক লাইট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০০



সময় ১৯৮০ এর দশক, প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসের শেষ শুক্রবার আমার দাদাজানের মৃত্যুবার্ষিকী’তে বড় চাচা, আব্বা বেশ খরচ করে গ্রামবাসী ও আত্মীয় পরিজনদের খাবারের একটা ব্যাবস্থা করতেন, বড় চাচা আর আব্বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত কিছু সময়ে সামুতে যা যা হয়েছে, ব্লগারদের ওপর দিয়ে যা গিয়েছে, সেসকল কিছু স্টেজ বাই স্টেজ বর্ণনা!

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:১৪



কনফিউশন: ধুর! কি হলো! ব্লগে কেন ঢুকতে পারছিনা? কোন সমস্যা হয়েছে মনে হয়, পরের বেলায় চেক করে যাব। বেলার পর বেলা পার হলো, সামুতে ঢোকা যাচ্ছে না! কি সমস্যা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

আড্ডাঘরের বর্ণনা

লিখেছেন আনমোনা, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৩৩

সামু ব্লগে ছিলো এক সামুর পাগল
সারাদিন করে সে যে মহা হট্টোগোল। ।
খুলিলো আড্ডাবাড়ি আড্ডারি তরে।
জুটিলো পাগল দল তাড়াতাড়ি করে। ।
সরদার হেনাভাই, তার এক হবি।
প্রতিদিন আপলোডে মজাদার ছবি। ।
সকল পাগলে তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×