somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন বাড্ডা থানার ওসি এবং আমাদের সমাজ

০৮ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১০:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে পত্রিকায় পড়লাম খবর টা। তুবা গার্মেন্টসে অনশনরত নারী শ্রমিক দের বিতাড়িত করতে গিয়ে বাড্ডা থানার ওসি নাকি ‘ভবন থেকে বের না হলে নারী শ্রমিক দের ধর্ষন করা হবে’ বলে হুমকি দিয়েছেন। ওসি যে সেকথা নিশ্চিত বলেছেন সেটা পত্রিকায় ও স্পষ্ট করে দাবী করা হয়নি। কিন্তু আমাদের দেশের থানার একজন ওসি যদি এরকম পরিস্থিতি তে ওরকম একটা কথা বলে থাকেন তাহলে অবাক হবার কিছু নেই।

আমার নিজের দিন কয়েক আগের একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করি। কথা হচ্ছিল পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত এক ব্যক্তির সাথে। আড্ডাচ্ছলে, গল্পের ভঙ্গিতে কথাবার্তা। ভদ্রলোক কথায় কথায় তার এক অত্যাশ্চর্য অভিজ্ঞতার কথা শুনালেন। তাদের এলাকার ই এক ছেলে। ছেলে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। প্রেম করে বিয়ে করেছে এক ডাক্তার মেয়ে কে। মেয়ে সরকারী চাকরি করে। কিন্তু ছেলের বাপ মা ভাই বোন আত্নীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব (এবং বর্ননাকারী পুলিশ ভদ্রলোক নিজে!) কেউ এই মেয়ে কে ঐ ছেলের বৌ হিসেবে মেনে নেবে না! তাদের একটাই কথা- ‘বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার ছেলের জন্য কি দেশে লম্বা ফর্শা সেক্সি উচ্চ শিক্ষিত বড় লোকের মেয়ের অভাব পড়েছে যে এরকম বেঁটে কাল একটা মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে আনতে হবে? মেয়ে ডাক্তার হইছে তাতে কি?’

ডাক্তারি পাশ করার পর ও একজন মানুষ কে যে দেশে শুধু মাত্র মেয়ে হবার কারনে বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে তথাকথিত রূপের পরীক্ষা দিতে হয় সে দেশের একজন ওসি সাহেব ‘তুচ্ছ’ গার্মেন্টসের ‘মেয়ে মানুষ’ কে ধর্ষন করার হুমকি দিয়ে লিঙ্গে শিহরন অনুভব করতে করতে বেরিয়ে আসবেন এটাই স্বাভাবিক!

এই মানসিকতার ধারক শুধু পুলিশের লোক এটা ভাবার কোন কারন নেই। এদেশের তথাকথিত উচ্চ শ্রেণীর মানুষ তার চেয়ে নিম্ন শ্রেণীর( টাকা পয়সা, পদ মর্যাদা এসব দিয়ে সাধারণত শ্রেণী নির্ধারিত হয়) মানুষ কে মানুষ ই মনে করে না এবং তারা যেহেতু যেকোন উপায়ে একবার উপরে উঠে গিয়েছে সেহেতু নিচের শ্রেণী সমূহ কে শোষণ করাটা তাদের অধিকার বলে মনে করে। এদেশের অধিকাংশ পুরুষ মেয়েদের কে মানুষ ভাবে না, ভাবে মেয়ে মানুষ এবং সেরকম মেয়ের সংখ্যাও কম নয় যারা নিজেদের মানুষ ভাবে না, ভাবে মেয়ে মানুষ! এই মানুষ গুলোর আচরণে তাদের ভাবনার প্রতিফলন ঘটবেই।

দেশে গার্মেন্টস শিল্প আসার ফলে অনেক দরিদ্র এবং হত দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। যে দরিদ্র মেয়েগুলো আগে নিজের বাড়িতে বা শ্বশুর বাড়িতে বা পরের বাড়িতে( কাজের বুয়া হিসেবে) বিনা পয়সায় বা প্রায় বিনা পয়সায় গাধার খাটুনি খেটেছে হঠাৎ করে গার্মেন্টসে চাকরি করতে এসে পাওয়া সামান্য বেতন তাদের কাছে অনেক বেশি মনে হয়েছে এবং সামান্য বেতনেই তারা দীর্ঘদিন খেটে গার্মেন্টসগুলোকে চূড়ান্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছে। কারন গার্মেন্টস শিল্পের অনেকগুলো খরচের খাতের মধ্যেকার বেশ বড় একটা খাত হল ‘শ্রমিকের মজুরি’ এবং সৌভাগ্যজনক(?) ভাবে এদেশের গার্মেন্টস শিল্প মজুর হিসেবে পেয়ে গেছে ‘দীর্ঘদিন যাবত সুবিধা বঞ্চিত থাকতে থাকতে বঞ্চনাকেই স্বাভাবিক ধরে নেয়া’ সমাজের একেবারে প্রান্তীয় শ্রেণীর নারী সমাজ কে।

আশার কথা হচ্ছে সবাই না পারলেও তুবা গার্মেন্টসের শ্রমিক দের মত অনেকেই এখন তাদের বঞ্চনার জায়গাটা বুঝতে পারছেন এবং এর প্রতিবাদ করছেন। তাদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে আমি নিজেও তাদের প্রতি করা অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আশা করছি আমরা এই অসম অসংস্কৃত সমাজ টাকে একদিন পাল্টে দিতে পারব। এরকম কোন ওসি সাহেব আমাদের বাড্ডা বা অন্যকোন থানায় থাকবেন না, যিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নারী দের প্রতি অশ্লীল কথা উচ্চারণ করবার পর সেই অশ্লীল কথার পুলক গায়ে মেখে ঘরে ফিরবেন।

আমরা মানুষ কে মানবিক গুন দিয়ে বিচার করব। তার লিঙ্গ, টাকা পয়সা, পদ মর্যাদা এসব দিয়ে নয়।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×