somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারি চশমা পরা ছেলেটা

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেটার চোখে ভারি চশমা। ছেলেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। মহসিন হলে থাকে। ছেলেটির বাবা পুলিশ অফিসার। অনেকগুলো ভাইবোনের মধ্যে সে সবার বড়।

ছেলেটা বই পড়তে খুব ভালবাসে। আর ভালবাসে ম্যাজিক। অতি প্রাকৃতিক যেকোন বিষয়ে তার সাংঘাতিক আগ্রহ! ভারি চশমার ভেতর দিয়ে অবাক চোখে ছেলেটা তার চারপাশের মানুষ জন দেখে। কি আশ্চর্য্য! প্রত্যেকটা মানুষ একেক টা আলাদা জগত!! শিশু কিশোর তরুণ তরুণী যুবক বৃদ্ধ সবাই নিজ নিজ বিশ্বাস ধ্যান ধারণাকে চুড়ান্ত ধরে নিয়ে একেক জন একেক রকম আচরণ করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই আচরণ গুলোর হাস্যকর দিকটা কেউ দেখেনা। এই আচরণের লুপে আটকা পড়ে তৈরি হয় অনন্ত দূঃখের দিনরাত্রি।

কিন্তু ছেলেটার চশমার কাঁচ মোটেও ঝাপসা নয়। চশমার কাঁচের ভেতর দিয়ে দূ’দিক টাই দেখতে পায়। যুগ যুগ ধরে নির্মিত এবং প্রবাহিত কৌশলী কুসংস্কারের খাঁচায় বন্দী অসহায় মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকা যে মানবিক সম্ভাবনা, যে খন্ড খন্ড প্রতিরোধ, যে ছোট ছোট সুন্দর গুলো ভবিষ্যতে তাকে মুক্তি দিতে পারে স্ব-নির্মিত খাঁচা থেকে সেগুলোও সে দেখে।খুব ভালভাবেই দেখে। ‘শঙ্খনীল কারাগার’ পড়ে কেঁপে উঠে মানুষ! এত অনায়াস বর্ণনায় কেমনে ফুটে এ অসাধারণ জোছনার ফুল!

জোছনার ফুল ফুটতেই থাকল। যে শ্যামল ছায়ার জন্য মুক্তি যোদ্ধারা আজীবন লড়ে যায় সেই শ্যামল ছায়ার আজন্ম চলমান ইতিহাসের যে টুকরো টা আমাদের হৃৎপিন্ড ভেদ করে যায় সেটাকেও ধরে ফেলে তার ‘আশ্চর্য্য সাধারণ কলম’। এই কলমের সবচেয়ে বড় জাদু, এর কোন জাদু নেই!

নির্বাসন এর পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা যখন একটি মাত্র সংলাপে( ‘একটা যুদ্ধে অনেক কিছু হয় পরি!’) ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধারা কেন জিতে যায় পৃথিবীর সব দেশে সব কালে তখন এই জাদুহীন কলমের জাদুকরীতে পাঠক আবার থমকে যায়।

জোছনা কারিগর পথ চলতে থাকেন। বিটিভির একজন প্রযোজক ভাবেন জোছনার একটা ধারা এই টেলিভিশন চ্যানেলে প্রবাহিত করলে কেমন হয়! টেলিভিশন চ্যানেলে প্রবাহিত হওয়া শুরু হয় জোছনাধারা। ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’ মানুষ শুধু নাটক হিসেবে দেখেনা। নিজেদের চলমান জীবনের পাশাপাশি এও এক অবিচ্ছেদ্য জীবন! পরিবারে বাবা মা ছেলে মেয়ে নানি দাদি কাজের মেয়ে লজিং স্যার সবাই মিলে একসাথে দেখে নিজের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। চোখের সামনে মেলে ধরা সাদা কাগজে সবাই দেখে তার নিজের জীবনটাই আঁকা। শুধু একটু স্বপ্নের মোড়কে ঢাকা। এই স্বপ্নের মোড়ক জোছনা কারিগরের চোখের জল। এই চোখের জল ই তার বুকের ভালোবাসা জোছনা। এই জোৎস্নাবেগে আগে নিজে মাখামাখি হয়েই উনি লিখতে বসেন। কাজেই এই স্বপ্নমোড়ক কে ক্ষমা করা যায়।

নক্ষত্রের পথ চলার সাথে সাথে পৃথিবীতে চলতে থাকে নক্ষত্রের পতনের আয়োজন ! নক্ষত্র যেদিন থেকে হলুদ হিমু হয়ে জোছনা চরাচরে খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি শুরু করে সেদিন কি কিছুটা হলেও বদলে যায় নক্ষত্রের গতিপথ? উত্থান এবং পতনের একটা সীমারেখা ধীরে ধীরে মুছে যায় ভারি একটা চশমার দিগন্ত রেখা হতে?? হিমু হাঁটে, চারপাশের সমস্ত সীমাবদ্ধতা নিজের মধ্যে নিয়ে অসীম হয়ে হাঁটে। হিমুর এই অসীমতাই এক সময় কাল হয়! রসায়নের দ্বি-মুখী বিক্রিয়ার নিয়ম মেনে হিমু একসময় রচনা করতে শুরু করে হুমায়ুন কে! হিমু রচিত এই হুমায়ুন মিঃ হাইড হয়ে রচনা করে কিছু অর্থহীন নাটক। জীবনে এবং পর্দায়!

জোছনা কারিগরের এটুক সীমাবদ্ধতায় নিজেকে আটকে ফেলে তার জোছনা সরোবরে স্নান করা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করাটাও অনেক বড় সীমাবদ্ধতা। বলাবাহুল্য এই সীমাবদ্ধতায় আটকে পড়া পাঠক এবং অপাঠকের সংখ্যা নেহাৎ কম নয়!

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:১৩
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহকে আমরা আসলে কেন ভালোবাসি—জীবনাচারের জন্য, নাকি পাকিস্তানের জন্য?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

ইতিহাসের কিছু চরিত্রকে আমরা ভালোবাসি না তাঁদের পুরো জীবনকে বুঝে; বরং তাঁদের ঘিরে তৈরি হওয়া একটি রাজনৈতিক প্রতীকের জন্য। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

জিন্নাহ ছিলেন নিঃসন্দেহে অসাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×