
নিউজ টির হেড লাইন ধর্ষণ মামলার আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত এই হেড লাইনেই সব পত্রিকায় খবরটি প্রকাশ পায়। গত তিন মাস ধরে বাংলাদেশে আশংকাজনক আরে ধর্ষণ বেড়েই চলছে। নিউজটিতে দুইটি পয়েন্ট রয়েছে এক নম্বর হল ধর্ষণ, দুই ক্রস ফ্যায়ার। ধর্ষণ হচ্ছে খুনের চাইতেও আরো অনেক বড় ঘৃণিত আপরাধ।
গত কয়েক দিন থেকে ধর্ষণের জন্য নারীর পোষাককে দায়ী দিয়ে এক শ্রেণীর লোক ধর্ষণের মত এত জগণ্য অপরাধকে হালকা করে ফেলেছেন। অথচ এরা একবারো ধর্ষকের বিচার দাবি করেনি। তাদের কাছে বরাবরের মতই মনে হচ্ছে ধর্ষণের জন্য পোশাকই দায়ি। এটি তদের ঘৃণ্য রুচিবোধের ব্যাপার। আমার কাছে ধর্ষণের জন্য পুরুষের ভিতরের থাকা পশুটাকেই দায়ী মনে হয় এটাতে কোন সন্দেহ নেই। ধর্ষণ যদি শুধু পোষাকেই হত তাহলে তো সব পুরুষেই ধর্ষক হত। কোন নারীই নিরাপদ থাকত না। আমরা হয়ত এতদিনে তনুর কথাও ভুলে গিয়েছে আমরা কি পেরেছি তনু হত্যার বিচার সম্পর্ন করতে? যদি তনু হত্যর বিচার সঠিক ভাবে হত তাহলে কি ধর্ষকরা দেখতে পেত না যে ধর্ষণের জন্য কি শাস্তি হচ্ছে? বিচারহীনতার এই দেশে তাই একজন শিশুর ধর্ষণকারিকে ক্রস ফ্যায়ার দেয়ায় সাধারণ মানুষ উল্লাসীত।

ধর্ষকদের ক্রস ফ্যায়ার দেয়াটা কি সঠিক বিচার? না তা কখনোই নয়। এটা যে খুব বেশি কাজ আসবে এমন না। বরং বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে কারন আমাদের দেশের আইন শৃংখলবাহিনী একেবারেই সৎ নয়। তা না হলে তো তনুকে ক্যান্টমেন্টের মত সুরক্ষিত যায়গায় ধর্ষিত হয়ে খুন হতে হত না। র্যাব নারায়ণগঞ্জে কতজন নিরাপরাধ ব্যাক্তি খুন করেছে টাকার বিনিময়ে? বিরোধীদলের কতজন কর্মিকে প্রাণ দিতে হয়েছে তার কোন হিসাব নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আইন শৃংখলবাহিনীর হাতে পড়লে সাধারণ একটা সমস্যায় পড়তে হয় সেটা হচ্ছে- ইয়াবা দিয়ে কোর্টে চালান করে দেয়া হবে বা জঙ্গি বানিয়ে ক্রস ফ্যায়ারের হুমকি। এটাই হচ্ছে রাষ্ট্র যন্ত্রদিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনেয় হাতিয়ার। এর মাধ্যমে আইনের শাসন বিলীন হয়ে যায়। আমরা দেখেছি এই দেশে ৫৭ ধারাকে কিভাবে অপব্যবহার করে। তাই যেকোন অপরাধের জন্য কখনোই শাস্তি হিসেবে ক্রস ফ্যায়ার কাম্য হতে পারে না। বরং উপযুক্ত প্রমাণ থাকার পর ধর্ষকের পক্ষে যেন কেউ কথা বলতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে তার পক্ষে কোন আইনজীবি যেন কোর্টে না দাঁড়ায় সেটাকে নিশ্চিত করা গেলে আর সে আইনের ফাক দিয়ে বের হয়ে আসতে পারবে না। ধর্ষণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড করা হোক এবং তার বিচার ওপেন বিচারালয়ে করা হোক যেন আর কোন দিন কেউ ধর্ষন করার নূন্যতম সাহস না পায়। এছাড়াও ধর্ষককে কোনভাবেই যেন রাজনৈতিক আশ্রয় না দেয়া হয় সেদিকেও সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ।
তাই ধর্ষনের জন্য পোষাককে দায়ী না করে চলুন আমরা ধর্ষণের বিচারের দাবীতে মিছিলে অংশ গ্রহন করি এবং যেকোন ধরনের ক্রস ফ্যায়ার নামক বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে কথা বলি।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


