
এর ব্লাড দিয়েও কখনো এত মন খারাপ হয়নি এবার ব্লাড দিয়ে গিয়ে আমার যতটা মন খারাপ হয়েছিলো। এর আগে অনেক রোগীকেই ব্লাড দিয়ছিলাম যারা হয়ত খুব মুমূর্ষ অবস্থায় ছিলো বা কিছুদিন পরে মারাই গেছে অথবা সুস্থ্য হয়ে এখন সুন্দর জীবন যাপন করছে। কিন্তু এবারই প্রথম আমি এমন এক রোগীকে ব্লাড দিয়েছি সে জানেইনা তার জীবনটা এমন কেন? তার দোষ কি কেন সে এমন রোগ নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে। সে আদৌ কোনদিন সুস্থ হবে কিনা। এর আগে আমি কখনো থ্যালাসেমিয়া রোগীকে ব্লাড দেই নাই অন্য ডোনার ম্যানেজ করে দিয়েছি।
আমার নানার বাড়ির এক মামা ছিলো যাকে চিনতাম এভাবেই যে এই লোককে প্রতি মাসে ব্লাড নিতে হয়। উনি কখনো সাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারতেন না। আমাদের মত স্বাভাবিক জীবন ছিলো না তার। আমি তখন ছোট। জানতাম ঢাকায় এসে উনাকে ব্লাড নিতে হত। প্রাপ্ত বয়স্ক হবার পরেও উনি বিয়ে করননি ধীরে ধীরে জানতে পারলাম উনি এমন এক রোগ নিয়ে বেঁচে আছেন উনি নিজেও জানেন উনি কিছুদিন পর হয়ত মারা যাবেন, এবং মারা গিয়েছেন। ধীরে ধীরে জানতে পারলাম আমার আশে আশে এমন অনেক লোক আছে, এর পর নতুন প্রজন্মের মধ্যে শুরু হলো, অমুক ভাইয়ের ছেলের, অমুক চাচার দুই ছেলের, অমুক আন্টির এক মাত্র ছেলে এই থ্যালাসেমিয়ারোগ নিয়ে বেঁচে আছেন। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ ভাগ অর্থাৎ প্রায় দেড় কোটি নারী-পুরুষ নিজের অজান্তে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মায়।

আমি ভলান্টিয়ার জগতে আসার পর সব চাইতে বেশি ডোনার ম্যানেজ করছি থ্যালাসেমিয়া আর ব্লাড ক্যান্সারের রোগীদের। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওষুধ এবং অন্যের কাছ থেকে রক্ত নিয়ে বাঁচতে হয়। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে নিজের বাড়ি ঘর জমি জামা হারিয়েছেন কারন প্রতিমাসে একজন রোগীর পিছনে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। তারপরেও অভিভাবকরা জানেন না আসলে তার আদরের সন্তানের ভবিষ্যত কি। সত্যিকার অর্থে থ্যালাসেমিয়া রোগের স্থায়ী চিকিৎসা নেই। তাহলে কেন এই মরণব্যাধি রোগ ঠেকাতে কোণ উদ্যোগ নেই? নেই তেমন কোন প্রচারনা, চিকিৎসকদের মধ্যেও নেই কোন উদ্যোগ ইদানিং স্বেচ্চাসেবী সংগঠন গুলো অনলাইনে প্রচার চালানোর কারনে ব্লাড ডোনারদের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু রোগ প্রতিরোধে নেই সরকারি কোন উদ্যোগ। এভাবেই কতদিন আমাদেরকে শুধু ব্লাড ডোনার ম্যানেজ নিয়েই পড়ে থাকতে হবে! আমরা কেন রোগ প্রতিরোধে এগিয়ে আসছি না??? এইডস সহ অন্য রোগ গুলোকে যেভাবে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এই রোগ নিয়ে তেমন কোণ সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে কেনো?
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


