somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোটগল্প ‘প্রহসন’

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ওরিয়েন্টেশ ক্লাসে তাড়াতাড়ি ঢুকতে গিয়ে পিছন থেকে এক মেয়ে আমার উপর হুমরি খেয়ে পড়ল। কোমল স্পর্শে মুহূর্তেই আমার শরীরে বিদ্যুতের ঢেউ খেলে যায়। মনে মনে ভাবলাম কয়েকশ শতাব্দী এভাবে আমার উপর কেউ যদি পড়ে থাকত! কতই না মজা হত! আমি সোজা হয়ে কিছু বলার আগেই মেয়েটি করজোর করে বলল- sorry, পিছন থেকে কেউ হয়ত-
-it’s ok.
- আপনার পিঠে লিপিস্টিক... এই নিন টিস্যু
- দেবরাজ ইন্দ্রের মত কি আমার সহস্র লোচন আছে? পিঠে কীভাবে দেখব?
- ও হ্যা, তাই তো!
- থাকনা, চলুন ক্লাসে।
প্রথমটায় কেমন যেন অসস্তি অনুভব করল তারপর অস্পষ্ট স্বরে বলল-চলুন। দীর্ঘক্ষণ ক্লাস চলল। ছাত্রছাত্রী কানায় কানায় পূর্ণ। ভরা জোয়ারের সময় নদী যেমন কানায় কানায় পূর্ণ থাকে তেমনি ওরিয়েন্টেশন ক্লাসেও থাকে ছাত্রছাত্রী! ক্লাস শেষে বিদায় নেওয়ার সময় অবনত নেত্রে পুনরায় বললেন- sorry. একটু কষ্ট করে লন্ড্রিতে দিয়ে ধুয়ে নিবেন।
- সুমিতা, যদি না ধুয়ে স্মৃতি স্বরূপ রেখে দিই?
ও তখন লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি বিষ্মিত হয়ে বলে- আপনি আমার নাম জানলেন কী করে?
- সে না হয় আরেক দিন জানলেন। ভাল থাকবেন। পরে আবার কথা হবে।

আমি দ্রুত বেরিয়ে আসি। সকাল থেকেই আম্মুর শরীরের অবস্থা খুব বেশি খারাপ। হাসপাতালে না নিলেই নয়। এজন্যই তড়িঘড়ি করে বিদায় নেয়। আম্মুকে হসপিটালে যাই। নানাবিধ ডাক্তারি পরীক্ষা-নীরিক্ষা, ঔষধ সেবন ও নিয়মিত শুশ্রূষার পর প্রায় সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ওনি সুস্থ হন। প্রায় সপ্তাহখানেক পর আমি ভার্সিটিতে যাই। দরজার সামনেই সে দাঁড়ানো ছিল। হেসে জিজ্ঞেস করল- এতদিন এলেন না যে? এভাবে মিস করলে তো রেজাল্ট খারাপ করবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি অবাক হয়ে যাই। মেয়েটি যে আমার উপড় রীতিমত অধিকার নিয়ে খবরদারি করছে! আমি তাকে ধীরে ধীরে সব খুলে বলি। এভাবে তার সাথে আমার ভাল বন্ধুত্ব হয়ে যায়। বন্ধুত্ব থেকে ধীরে ধীরে প্রেম।

ভার্সিটিতে ভর্তির প্রায় মাস চারেক পরে হঠাৎ আম্মু একটু বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডাক্তাররা বললেন- মাদ্রাজ নিতে হবে। যেই কথা সেই কাজ। পাসপোর্ট আগেই করা ছিল বলে বেশ একটা ঝামেলা হল না। কয়েকদিনের মধ্যেই মাদ্রাজ চলে গেলাম। খুব তাড়াতাড়ি প্রসেসিং করার কারণে সুমিতাকে আর বিষয়টি জানানো হয়ে ওঠে নি। মাদ্রাজে প্রায় মাস দুয়েক চিকিৎসার পর আম্মু সম্পূর্ণ সুস্থ হলেন। আম্মুকে নিয়ে দেশে ফিরে আসি। দেশে ফিরতে না ফিরতেই লন্ডন থেকে মামা এসে হাজির। এসেই পরিকল্পনা করলেন বাড়ির সবাইকে নিয়ে পার্কে বেড়াতে যাবেন। কোথায় যাওয়া যায়? কেউ কোন সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে ওনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিলেন ‘এডভেঞ্চার ওয়াল্ডে’ যাবেন। আম্মুও আপত্তি করলেন না।
আমরা সপরিবারে ‘এডভেঞ্জার ওয়াল্ডে’ ঢুকলাম। তখন প্রায় বিকেল চারটা। এই পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ বেশ মনোরম। তাছাড়া মিউজিকের উচ্চ শব্দও যে কোন ভ্রমণপিপাসুদের হদয় হরণ করে নেওয়ার মত। আমি খানিক এগিয়ে যেতেই সবুজ জামা পরিহিত এক প্রেমিক জুটির দিকে আমার চোখ পড়ল। মেয়েটিকে খুব চেনা চেনা মনে হচ্ছে। ওরা বেশ অন্তরঙ্গ অবস্থায় খুনসুটি করে হেঁটে আসছে। আমার মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। সুমিতার মত লাগছে, কিন্তু সে এখানে আসতে যাবে কেন? তাও আবার অন্য ছেলের সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থায়! মনের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঢেউ খেলে যায়। কাছে আসতেই সব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আরে! এ তো সুমিতা। মুহূর্তেই মাথা গরম হয়ে ওঠে। চিন্তাগুলো এলোমেলো হয়ে যায়। চোখ জুড়ে আলো-ছায়া খেলা করে। আমি দূর আকাশের দিকে তাকাই। একটি চিল দূর থেকে দূরান্তের পথে ওড়ছে। আমি অস্পষ্ট স্বরে বলি-ওহে চিল, তুইও কি আমার মত একা?
সময় এগিয়ে চলে।

......................
২৬.০৯.২০১৪
মুনশি আলিম
জাফলং, সিলেট

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৯
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মনের ঘোর গেলো না (উৎসর্গঃ প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়ের)

লিখেছেন চারাগাছ, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩১




আমার মনের ঘোর গেলো না


উৎসর্গ

প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়েরের স্মৃতির প্রতি।

তিনি নেই। অনেক বছর হলো।

তবু তাঁর ব্লগে ঢুকলে মনে হয়, কোথাও যেন কিছুই থেমে নেই। লেখাগুলো আছে, শব্দগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×