somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিশির জন্যে ভালোবাসা - মুহম্মদ জাফর ইকবাল (2য় খন্ড)

১৩ ই মে, ২০০৬ ভোর ৫:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"এই তো আমি দেখছি, তুমি নিজ থেকে কোন কথা বলছ না, আমি কিছু জিজ্ঞেস করলে
উত্তর দিচ্ছ। তাও ছাড়া-ছাড়া ভাবে, কাটা-কাটা ভাবে।"
রন নিশিকে নিজের কাছে টেনে এনে বলল, "আমি দুঃখিত নিশি। কয়দিন থেকে কেমন
যেন অস্থির-অস্থির লাগছে।"
"কেন ? কি হয়েছে ?"
"জানি না কেন। আমার বয়স প্রায় দুই হাজার বৎসর হয়ে গেছে কিন্তু এখনো মনে হয়
নিজেকে বুঝতে পারি না।"
নিশি রনের গলা জড়িয়ে খিলখিল করে হেসে বলল, "তোমার বয়স দশ হাজার বৎসর
হলেও তুমি নিজেকে বুঝতে পারবে না। কিছু কিছু মানুষ নিজেকে বুঝতে পারে না।"
রন কোমল চোখে নিশির দিকে তাকিয়ে বলল, "তুমি কি নিজেকে বুঝতে পারো ?"
নিশি মাথা নাড়ল, বলল, "পারি। এই যেমন মনে করো তোমার পাশে বসলেই আমার মনে
হয় আমার বয়স এক হাজার বৎসর কমে গিয়েছে!"
"সত্যি ?"
"সত্যি।"
রন মাথা নাড়ল, বলল, "আমি বিশ্বাস করি না। এক হাজার বৎসর আগে তোমার কেমন
লাগত সেটি তোমার মনে নেই। তোমার মনে থাকার কথা নয়।"
নিশি হাসি-হাসি মুখে বলল, "মনে না থাকলে নেই - সবকিছু মনে রাখতে হবে তোমাকে
কে বলেছে ?"
"আমার মাঝে মাঝে খুব মনে করার ইচ্ছে করে।" রন একধরনের উদাস-চোখে বলল,
"আমার কোন জিনিসটা সবচেয়ে বেশি মনে করার ইচ্ছে করে জানো ?"
"কোন জিনিসটা ?"
"আমার শৈশবের কথা। আমি শৈশবে কি করেছি খুব জানার ইচ্ছে করে।"
"সেটি তুমি কেমন করে জানবে ? গত দুই হাজার বৎসরে তুমি নিশ্চয়ই তোমার স্মৃতি খুব
কম করে হলে পাঁচবার মুছে দিয়েছ।"
"নিশ্চয়ই। নিশ্চয়ই দিয়েছি।"
"তুমি যতবার তোমার নূতন জীবন শুরু করেছ ততবার তুমি তোমার স্মৃতি মুছে দিয়েছ।"
রন মাথা নাড়ল, "আমার নূতন জীবনটি কতটুকু নূতন কে জানে !"
নিশি খিলখিল করে হেসে বলল, "এডভেঞ্চারের দিকে তোমার যত ঝোক আমি নিশ্চিত
তুমি এক দুইবার ছেলে থেকে মেয়ে হয়েছ, মেয়ে থেকে ছেলে হয়েছ ! দুই হাজার বৎসরে কত
কী করা যায় !"
রন কোন কথা না বলে একটু হাসল। নিশি হঠাৎ মুখ গম্ভীর করে বলল, "আমার কী ইচ্ছে
করে জানো ?"
"কী ?"
"আমার খুব সন্তানের মা হতে ইচ্ছে করে। এরকম ছোট একটা বাচ্চা হবে, অাঁকুপাকু
করে নড়বে, আমি বুকে চেপে ধরে রাখব, ভাবলেই আমার বুকের ভিতর কেমন জানি করতে
থাকে।"
রন নিশিকে স্নেহভরে কাছে টেনে নিয়ে বলল, "তুমি খুব ভালো করে জান সেটি হবার
নয়। পৃথিবীতে নূতন শিশুর জন্ম দেয়া বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় এক হাজার বৎসর আগে।"
"জানি। তবুও ইচ্ছে করে।"
"পৃথিবী যত মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে এখানে তার থেকে অনেক বেশি মানুষ। আমার
শুধু কী মনে হয় জানো ?"
"কী ?"
"পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা আবার বুঝি আশঙ্কা-সীমা পার হয়ে গেছে।"
নিশি চমকে উঠে বলল, "কী বলছ তুমি !"
"হঁ্যা। মনে নেই গত কয়েক মাস থেকে খাবার পরিবহনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে, পানীয়ের
সরবরাহ কম।"
"হঁ্যা।"
"আমার ধারণা এগুলো পরিবহনের বা সরবরাহের ত্রুটি নয়।"
নিশি ভয়-পাওয়া গলায় বলল, "তাহলে এগুলো কী ?"
"এগুলো অভাব। শুধু-যে খাবারের অভাব তাই নয়, জ্বালানির অভাব, জায়গার অভাব।
তুমি লক্ষ্য করেছ আমাদের এই দুইহাজার তলা দালানে একটি এপার্টমেন্ট খালি নেই? দেখেছ?
"হঁ্যা। দেখেছি।"
"মনে আছে পোশাকের মূল্য শতকরা বিশভাগ বাড়ানো হলো। মনে আছে ?"
নিশি মাথা নাড়ল, তার মনে আছে। রন গম্ভীরমুখে বলল, "আমার এইসব দেখে মনে হয়
কী জানো ?"
"জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের একটা ব্যবস্থা নেয়া হবে ?"
"হঁ্যা।"
নিশির বুক কেঁপে উঠে, পৃথিবীতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্যে গত দুই হাজার বৎসরে বেশ
কয়েকবার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সেই স্মৃতি তাদের মস্তিষ্ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, কিন্তু তবু
তারা সেগুলো জানে। পৃথিবীর মানুষ এখন এই ভয়াবহ আতঙ্ক নিয়ে বেঁচে থাকে, কখন পৃথিবীর
প্রয়োজনে তাকে পৃথিবী থেকে অপসারণ করিয়ে দেয়া হয়।
নিশির ভয়-পাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে রন গভীর ভালোবাসায় তাকে বুকের মাঝে টেনে
নেয়। অপূর্ব রূপসী এই রমণীটিকে সে মাত্র তিনশত বৎসর আগের থেকে চেনে। ছেলেমানুষী
সরল এই মেয়েটিকে তার বড় ভালো লাগে।
গভীর রাতে তীক্ষ্ন সাইরেনের শব্দে নিশি চমকে জেগে উঠল। বিছানায় তার পাশে শূন্য
জায়গা, রন আগেই উঠে গেছে। নিশি ভয়-পাওয়া গলায় ডাকল, "রন। কোথায় তুমি ?"
জানালার কাছে ছায়ামূর্তির মত রন দাঁড়িয়েছিল, বলল, "এই যে, আমি এখানে।"
"কি হয়েছে রন ? সাইরেন বাজছে কেন ?"
"পৃথিবীর মানুষের এখন খুব বড় বিপদ নিশি।"
"কি হয়েছে ? কেন বিপদ ?"
"পৃথিবীর জনসংখ্যা আশঙ্কা-সীমা পার হয়ে গেছে।"
"পার হয়ে গেছে ?" নিশি আতঙ্কে চিৎকার করে বলল, "পার হয়ে গেছে ?"
"হঁ্যা। শুনছ না বিপদের সাইরেন ?"
"এখন কি হবে ?"
"জনসংখ্যা কমাতে হবে।"
"কীভাবে কমাবে ? কাকে কমাবে ?"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজাকারনামা-২ (অপরাধির জন্য আমাদের,মানবতা ! বিচিত্র এই দেশের মানুষ!!)

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৫



সনজীদা খাতুন তখন ইডেন কলেজে কর্মরত ছিলেন । ইডেনের মেয়েরা 'নটীর পূজা' নামে একটা নাটক করেছিলো। সেই নাটকে একেবারে শেষের দিকে একটা গান ছিলো। তিনি ছাত্রীদের সেই গানটা শিখিয়েছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুস্থধারায় ফিরছে রাজনীতি; আম্লিগের ফেরার পথ আরো ধূসর হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১০


গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে একে অপরের মধ্যে কোথাও কোথাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে এই 'প্ল্যান'-গুলো আমাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর লিস্টে আছে কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



আসসালামু আলাইকুম।
দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিচের বিষয়গুলোর উপর নজর দেওয়া জরুরী মনে করছি।

প্ল্যান - ১
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যেকটিতে গবেষণার জন্যে ফান্ড দেওয়া দরকার। দেশ - বিদেশ থেকে ফান্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !



বাংলাদেশে নূতন ভাবে এই প্রসঙ্গটি আসতে শুরু করছে ।
আমাদের আইনে এই ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু আছে কিনা জানা নেই । তবে বিরোধী দল সংসদে
তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

আমরা ০৯ জিলহজ্জ্ব/০৫ জুন রাত সাড়ে দশটার দিকে মুযদালিফায় পৌঁছলাম। বাস থেকে নেমেই অযু করে একসাথে দুই ইকামায় মাগরিব ও এশার নামায পড়ে নিলাম। নামাযে ইমামতি করেছিলেন আমাদের দলেরই একজন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×