নজীব পকেট থেকে ম্যাগনেটিক কার্ড বের করে দরজায় প্রবেশ করিয়ে কার্ডটা আবার বের
করে নেয়। তারপর দরজার হেণ্ডেল ঘুরিয়ে দরজা খুলে ভিতরে উঁকি দিল। দৃশ্যটি অনেকবার
দেখেছে তার পরেও সে নিজের অজান্তে একবার শিউরে উঠল।
ভেতরে বারোজন বিকলাঙ্গ শিশু। শরীরের তুলনায় তাদের মাথা অতিকায় এবং অপুষ্ট
শরীরের এই বিশাল মাথা বহন করতে একধরনের অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়। তাদের
লিকলিকে হাত পা, তবে হাতের আঙ্গুলগুলো দীর্ঘ - দেখে মাকড়শার কথা মনে পড়ে যায়।
কোটরাগত চোখ জ্বলজ্বল করছে। মুখের জায়গায় এক ধরনের গর্ত এবং সেখান থেকে লাল
জিভ বের হয়ে আছে। নাক অপরিণত - দেখে মনে হয় কুষ্ঠরোগে বসে গিয়েছে। তাদের মাথার
পিছন থেকে একধরনের কো-এক্সিয়াল কেবল বের হয়ে এসেছে, সেটি একটা ছোট যন্ত্রের
সাথে যুক্ত। যন্ত্রটি তাদের মাথার পিছন থেকে ঝুলছে।
শিশুগুলো দরজায় শব্দ শুনে ঘুরে তাকাল এবং শরীফ আকন্দ তখন আবার শিউরে উঠল -
প্রত্যেকটা শিশু হুবহু একই রকম। এদেরকে একসাথে ক্লোন করা হয়েছে এবং একইভাবে বড়
করা হয়েছে। সরাসারি মস্তিষ্কে ইলেকট্রড বসিয়ে মস্তিষ্কের একই জায়গা একই সময়ে স্পন্দিত
করা হয় - কাজেই তারা একই সাথে অনুরণিত হয়। শিশুগুলোর বয়স ছয় বৎসর কিন্তু দেখে
সেটা অনুমান করার উপায় নেই - তাদেরকে মানুষ বলে মনে হয় না - কাজেই মানুষের বয়সের
কোন কাঠামোতে তাদেরকে ফেলা যায় না।
শরীফ আকন্দ বা নজীবউল
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



