somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফোবিয়ানের যাত্রী - মুহম্মদ জাফর ইকবাল (বার)

১৩ ই মে, ২০০৬ রাত ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"তুমি জানো আমি উপগ্রহে আটকা পড়ে থাকা আমার দলের লোকজনকে উদ্ধার করে
আনতে চেয়েছিলাম।"
আমি মাথা নাড়লাম, বললাম, "জানি।"
"কিন্তু দেখতেই পাচ্ছ আমি আমার লোকজনকে উদ্ধার করতে পারি নি।" ম্যাঙ্গেল ক্বাস
একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, "তার মানে বুঝতে পারছ ?"
আমি মাথা নাড়লাম, বললাম, "বুঝতে পারছি। তোমার আবার নতুন করে তোমার দল
দাঁড়া করাতে হবে।"
ম্যাঙ্গেল ক্বাস একটু চমকে উঠে আমার দিকে তাকাল, সে আমার কাছে এই উত্তর আশা
করে নি। কয়েক মহূর্ত আমার দিকে শীতল চোখে তাকিয়ে থেকে বলল, "হঁ্যা। তুমি ঠিকই
বলেছ, আমাকে আবার নতুন করে আমার দল তৈরি করতে হবে। দল তৈরি করার জন্যে মানুষ
দরকার। কাজেই আমার কিছু মানুষ দরকার।"
আমি মুখে বিদ্রুপের একটা হাসি ফুটিয়ে বললাম, তোমার কিছু মানুষ দরকার নেই, তোমার
দরকার কিছু দানবের।"
ম্যাঙ্গেল ক্বাসের মুখ পাথরের মতো শক্ত হয়ে উঠল, সে কঠোর দৃষ্টিতে আমার দিকে
তাকিয়ে বলল, "আমি তোমার সাহস দেখে মাঝে মাঝে বেশ অবাক হয়ে যাই। বেশি সাহস
কারা দেখায় জানো।"
"জানি।"
"কারা ?"
"দুই ধরনের মানুষ - যারা সাহসী এবং যারা নির্বোধ। আমি জানি আমি সাহসী নই -
কাজেই আমি নিশ্বয়ই নির্বোধ।" কথা শেষ করে আমি দাঁত বের করে হাসার ভঙ্গি করলাম।
"না, তুমি নির্বোধ নও। আমি প্রায় মন স্থির করে ফেলেছি যে তোমাকে আমি আমার দলে
নেব।"
আমি ভয়ানক চমকে উঠলাম, একজন পুরোদস্তুর দসু্য আমাকে তার দলে নেবে সে-ধরনের
কথা আমি শুনতে পাব কখনো কল্পনা করি নি। আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে
রইলাম - মানুষটি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছে ? আমি কয়েকবার চেষ্টা করে শেষপর্যন্ত
বললাম, "তুমি কী বলছ ?"
"তুমি শুনেছ আমি কি বলেছি। এখন ভাবছ ব্যাপারটা অসম্ভব। তোমার মতো একজন
নীতিবান সৎ ভালোমানুষ কেমন করে দসু্যদলে যোগ দেবে ? কিন্তু ব্যাপারটা আসলে
অন্যরকম।"
"অন্যরকম ?"
"হঁ্যা। সেই বিংশ শতাব্দীতে মানুষ আবিষ্কার করেছিল মস্তিষ্কের সামনের দিকে একটা অংশ
রয়েছে যেটি মানুষের নৈতিকতাকে নিয়ন্ত্রন করে। মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোবে ট্রান্সপ্প ঙ্কানিয়াল
ম্যাগনেটিক স্টিমুলেটর36 দিয়ে সেই অংশটি নিখুঁতভাবে নষ্ট করে দেয়া হলে মানুষকে মুক্তি
দেয়া হয়।"
"মুক্তি ?"
"হঁ্যা। তোমাদের তথাকথিত নৈতিকতার বন্ধন থেকে মুক্তি। একবার যখন মুক্তি পাবে
তখন তোমাদের আর ভালো কাজ করতে হবে না, মহত্ত্ব দেখাতে হবে না, নৈতিকতা নিয়ে মাথা
ঘামাতে হবে না। একেবারে ঠাণ্ডা মাথায় তখন তুমি মানুষ খুন করতে পারবে।"
আমি কিছুক্ষণ বিস্ফারিত চোখে ম্যাঙ্গেল ক্বাসের দিকে তাকিয়ে রইলাম, মানুষটির
কথাবার্তায় রহস্য বা বিদ্রুপের এতটুকু চিহ্ন নেই। সে যে কথাটি বিশ্বাস করে ঠিক সেই
কথাটিই বলছে। ম্যাঙ্গেল ক্বাস হাত দিয়ে দেখিয়ে বলল, "আমি ছোট একটা যন্ত্র তৈরি
করিয়েছি, কপালের উপর বসিয়ে দিতে হয়, মাথার তিনদিক দিয়ে স্ক্যান করে মস্তিষ্কের মাঝে
নির্দিষ্ট অংশটি খুঁজে বের করে। তারপর কপালে ড্রিল করে মস্তিষ্কে ঢুকে যায়, সেখানে নির্দিষ্ট
অংশটি উচ্চ চাপের বিদু্যৎ দিয়ে নিউরনগুলোকে ঝলসে দেয়া হয়। চবি্বশ ঘণ্টার মাঝে তুমি
পুরোপুরি অন্য মানুষ হয়ে সেরে উঠবে।" ম্যাঙ্গেল ক্বাস কথা শেষ করে আমার দিকে তাকিয়ে
মধুরভাবে হাসার চেষ্টা করল।
আমি হঠাৎ অনুভব করলাম ভয়ের একটা শীতল স্রোত আমার মেরুদণ্ড দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।
ম্যাঙ্গেল ক্বাস আমার আতংকটি বুঝতে পরল, মুখে একটা হাসি ফুটিয়ে মাথা নেড়ে বলল,
"আসলে ব্যাপারটি তোমার কাছে যত ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছে মোটেও সেটা তত ভয়ঙ্কর নয়। পুরো
ব্যাপারটি দুই ঘণ্টার মাঝে শেষ হয়ে যায়, মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশটা খুঁজে বের করতে এক ঘণ্টা,
মাথায় ড্রিল করে ফুটো করতে একঘণ্টা। নিউরনগুলো চোখের পলকে ঝলসে দেয়া হয়। সেরে উঠতে চবি্বশ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। পুরো ব্যাপারে সেটাই সবচেয়ে সময়সাপেক্ষ। তোমার
কাছে এখন মনে হচ্ছে অন্যায় কাজ করা খুব কঠিন, কিন্তু তুমি দেখবে কত সহজ।"
আমি কোনো কথা না বলে বিস্ফারিত চোখে ম্যাঙ্গেল ক্বাসের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
ম্যাঙ্গেল ক্বাস জিব বের করে ঠোঁট দুটো ভিজিয়ে নিয়ে প্রত্যেকটি শব্দ আলাদাভাবে উচ্চারণ
করে বলল, "ভূমিকা শেষ হয়েছে, এবারে আসল কাজের কথায় আসা যাক।" সে একটা
নিঃশ্বাস নিল তারপর নিজের নখের দিকে তাকাল তারপর ঘুরে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
"ইবান, আমি বড় নিঃসঙ্গ।"
আমি ভেতরে শিউরে উঠলেও বাইরে শান্ত মুখে দাঁড়িয়ে রইলাম। ম্যাঙ্গেল ক্বাস মুখে হাসি
ফুটিয়ে বলল, "তোমার মহাকাশযান ফোবিয়ানের মেয়েটিকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে। নামটিও
খুব সুন্দর, মিত্তিকা।"
ম্যাঙ্গেল ক্বাস একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, "আমি ঠিক করেছি মিত্তিকাকে আমার সঙ্গী
করে নেব। কী বল ?"
"তোমার মতো একজন দানবের চরিত্রের সাথেই মানানসই একটা সিগ্ধান্ত।"
ম্যাঙ্গেল ক্বাস কোমরে বেধে রাখা অস্ত্রটি এবারে হাতে নিয়ে বলল, "তোমার নিজের মঙ্গলের
জন্যে বলছি ইবান, সীমা অতিপ্প ঙ্ক করো না। ব্যাপারটি নিয়ে দুঃখিত হবারও সুযোগ পাবে না।"
"তুমি আমার মতামত জানতে চেয়েছিলে - "
"আমি তোমার মতামত জানতে চাই নি, তোমাকে জানিয়ে রাখছিলাম। তোমার আসল
সমস্যাটি কোথায় জানো ?"
"ঠিক কোন সমস্যাটির কথা বলছ জানালে হয়ত বলতে পারতাম।"
"না, পারতে না। কারণ তুমি জানো না। ন্যায-অন্যায় অপরাধ-মহত্ত্ব এসবের সংজ্ঞার
পরিবর্তন হয়েছে। মস্তিষ্কের একটি ছোট অংশ আছে কি নেই সেটা হচ্ছে অপরাধী এবং
নিরপরাধীদের মাঝে পার্থক্য। যার সেই ছোট অংশ নেই তাকে কি আর অপরাধী হিসেবে ঘৃণা
করা যায়, নাকি শাস্তি দেয়া যায় ?"
আমি কোনো কথা বললাম না। ম্যাঙ্গেল ক্বাস কয়েকমুহূর্ত চুপ করে থেকে বলল,
"প্রাচীনকালে অপরাধী ছিল, নীতিবান মানুষও ছিল, এখনস ওসব কিছু নেই। যেমন মনে করো
মিত্তিকার কথা। মেয়েটিকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে - কিন্তু আমি কি তাকে জোর করে আমার সঙ্গী করব ?" ম্যাঙ্গেল ক্বাস নিঃশ্বাস ফেলে বলল, "কখনোই নয়। আমি তার মস্তিষ্কে ছোট
একটা অস্ত্রোপচার করব, মিত্তিকা তখন তার চারপাশের জগৎকে নতুন চোখে দেখবে।"
ম্যাঙ্গেল ক্বাস হাত দিয়ে নিজের বুক স্পর্শ করে বলল, "মিত্তিকার তখন মনে হবে এই
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে সবচেয়ে সুদর্শন সবচেয়ে আকর্ষণীয় মানুষ হচ্ছে ম্যাঙ্গেল ক্বাস। পতঙ্গ যেভাবে
আগুনের দিকে ছুটে যায় ঠিক সেভাবে সে আমার কাছে ছুটে আসবে। বুঝেছ ?"
আমি মাথা নেড়ে জানালাম যে আমি বুঝেছি।
ঠিক এরকম সময়ে মহাকাশযানটি একটু কেঁপে উঠল, ম্যাঙ্গেল ক্বাসের ভুরু একটু কুঞ্চিত
হয়ে উঠল, সে জিজ্ঞেস করল, "কী হয়েছে ?"
"আমরা নিউট্রন স্টারের মাধ্যাকর্ষণের কাছাকাছি চলে আসছি। ফোবিয়ানের গতিবেগ
বেড়ে যাচ্ছে, এই ভয়ঙ্কর গতিবেগের জন্যে এটা মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছে। আমরা নিউট্রন
স্টারের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে ব্যবহার করে গ্যালাক্সির এই অংশ পাড়ি দেব।"
"সব্জি্থং শট37 প্রপ্পি ঙ্কা ?"
"হঁ্যা।"
"অত্যন্ত অস্থিতিশীল সময় ?"
"খানিকটা।"
"তোমার হিসেবে ভুল হলে নিউট্রন স্টারে গিয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।"
আমি শান্ত গলায় বললাম, "হিসেবে ভুল হবে না। ফোবিয়ান পঞ্চম মাত্রার মহাকাশযান,
এর নিউরাল নেটওয়ার্ক হিসেবে ভুল করে না।"
ম্যাঙ্গেল ক্বাস উঠে দাঁড়াতে গিয়ে খানিকদূর ভেসে গেল, ঘুরে ফিরে এসে বলল, "ইবান,
এই ভরশূন্য পরিবেশে আমার আর ভালো লাগছে না। তুমি মহাকাশযানটিকে অক্ষের উপর
ঘুরিয়ে মাধ্যাকর্ষণ ফিরিয়ে এনো।"
আমি বললাম, "আনব। নিশ্চয়ই আনব।"
ম্যাঙ্গেল ক্বাস চলে যাবার পর আমি নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের সামনে বসে দীর্ঘ সময় নিয়ে
ফোবিয়ানের যাত্রাপথ পর্যবেক্ষণ করলাম। ফোবিয়ানের জ্বালানি সীমিত কাজেই যাত্রাপথে প্রতিটি
বড় গ্রহ, নিরাপদ নক্ষত্র বা নিউট্রন স্টারকে ব্যবহার করা হয়, কোনো বিপদ না ঘটিয়ে যতটুকু
সম্ভব কাছাকাছি যাওয়া হয়, প্রবল মহাকর্ষণে ফোবিয়ানের গতিবেগ বাড়িয়ে নেয়া হয়।
গতিপথটি খুব যতড়ব করে ছক করে নিতে হয় যেন নির্দিষ্ট দিকে নির্দিষ্ট বেগে যাওয়া যায়।
ফোবিয়ানের নিউরাল নেটওয়ার্ক হিসেবে কোনো ভুল করবে না সে-ব্যাপারে আমি পুরোপুরি
নিশ্চিন্ত, তবুও পুরোটা নিজের চোখে দেখতে চাইলাম। ম্যাঙ্গেল ক্বাসের দলকে উদ্ধার করার
জন্যে খানিকটা ঘুরে আসতে হয়েছে। জ্বালানি নষ্ট না করে সেই ক্ষতিটুকু পূরণ করার জন্যে
এই নিউট্রন স্টারের বেশ কাছাকাছি যেতে হচ্ছে, সে ব্যাপারটি আমার ঠিক পছন্দ হচ্ছে না।
এখান থেকে যে পরিমান বিকিরণ হচ্ছে সেটা ফোবিয়ান কতক্ষণ সহ্য করতে পারবে কে জানে।
আমি নিয়ন্ত্রণ প্যানেলে নিউট্রন স্টারের অবস্থানটুকু খুঁটিয়ে খুঁি টয়ে দেখে একটা নিঃশ্বাস
ফেললাম, এর আকর্ষণে মহাকাশযানটির গতিপথ প্রতিমুহূর্তে বেড়ে যাচ্ছে। মহাকাশযানে
একধরনের কম্পন অনুভব করা যাচ্ছে, যতই সময় যাচ্ছে সেটা ততই বেড়ে যাচ্ছে। এরকম
সময়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেটা নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হবে।
আমি নিয়ন্ত্রণ প্যানেল থেকে সরে এসে ব্যায়াম করার ঘরটিতে ঢুকে সেটা ঘুরিয়ে দেয়ার
ব্যবস্থা করলাম। দেখতে দেখতে ঘুর্নি বেড়ে গেল, আমি সাথে সাথে দেয়ালে এসে দাঁড়ালাম।
কিছুক্ষণের মাঝেই আমার দেহের ওজন বেড়ে যেতে শুরু করে, আমি আবার আমার শরীরের
সহ্য করার ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখতে শুরু করে দেই।
কিছুক্ষণের মাঝেই আমার শরীর সিসার মতো ভারী হয়ে আসে, আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট
হয়, আমার চোখের সামনে লাল পর্দা কাঁপতে থাকে, আমি কোনোমতে পা টেনে টেনে দৌড়াতে
থাকি, আমি টের পাই আমার সমস্ত শরীর ঘামতে শুরু করেছে। যখন মনে হলো আমি লুটিয়ে
মাটিতে পড়ে যাব ঠিক তখন আমার কানের কাছে ফোবির কথা শুনতে পেলাম, "মহামান্য
ইবান।"
আমি হাঁপাতে হাঁপাতে কোনোমতে বললাম, "বল ফোবি।"
"আপনি আবার নিরাপত্তার সীমা অতিপ্প ঙ্ক করছেন।"
"ইচ্ছে করেই করছি ফোবি।"
"আমি এখনো বুঝতে পারছি না কেন।"
"সময় হলেই বুঝবে। এখন আমার একটা কথা শোন।"
"বলুন মহামান্য ইবান।"
"আমার কথা কী পুরোপুরি গোপনীয় ? আর কেউ কী শুনতে পাবে ?"
"না মহমান্য ইবান, আর কেউ শুনতে পাবে না।"
"বেশ, তাহলে শোন আমি তোমাকে সপ্তম মাত্রার একটি জরুরি নির্দেশ দিচ্ছি।"
ফোবি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, "সপ্তম মাত্রার নির্দেশ ? আপনি কি সত্যিই
বলছেন?"
"আমি সত্যিই বলছি।"
"সপ্তম মাত্রার নির্দেশে মহাকাশযানকে ধ্বংস করার পর্যায়ে নেয়া হয়।"
"হঁ্যা। আমি জানি। অধিনায়ক হিসেবে আমার সেই ক্ষমতা আছে।"
"আপনি কেন সপ্তম মাত্রার আদেশ দিচ্ছেন মহামান্য ইবান ?"
"তুমি নিশ্চয়ই জানো ম্যাঙ্গেল ক্বাস মিত্তিকার মস্তিষ্কে একটা অস্ত্রোপচার করার সিগ্ধান্ত
নিয়েছে।"
"জানি। অত্যন্ত দুঃখজনক একটি সিগ্ধান্ত।"
"সে যদি সত্যিই অস্ত্রোপচার শুরু করে তোমাকে এই আদেশ কার্যকরী করতে হবে। যদি
না করে তাহলে প্রয়োজন নেই।"
"আমি কীভাবে আদেশ কার্যকরী করব ?"
"ফোবিয়ানের গতিবেগ কমিয়ে আনতে শুরু করবে।"
"তার জন্যে ইঞ্জিন চালু করার প্রয়োজন রয়েছে।"
"আমি তোমাকে ইঞ্জিন চালু করার অনুমতি দিচ্ছি।"
ফোবিয়ান দীর্ঘ সময় চুপ করে থেকে বলল, "ফোবিয়ানের গতিবেগ কমিয়ে আনার অর্থ
আমরা নিউট্রন স্টারে গিয়ে আঘাত করব।"
"হঁ্যা, আমার ধারণা আত্দহত্যার জন্যে সেটি চমৎকার একটি উপায়।"
"আপনি আত্দহত্যা করতে চাইছেন মহামান্য ইবান ?"
"না, চাইছি না। তবে অনেক সময় কিছু একটা না চাইলেও সেটা করতে হয়।"
ফোবি আবার দীর্ঘ সময় চুপ করে থেকে বলল, "আপনি সত্যিই এটা করতে চাইছেন ?"
"হঁ্যা ফোবি আমি চাইছি।"
"বেশ তবে আমার কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন। কী হারে গতিবেগ কমাব।"
"আমি বলছি তুমি মন দিয়ে শোনো।"
আমি আমার পাথরের মতো ভারী দেহকে টেনে নিতে নিতে ফোবিতে নির্দেশ দিতে শুরু
করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানাবেন না, প্লিজ!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৭



জনাব তারেক রহমান,
আসসালামু আলাইকুম।

আমি প্রথমেই জানাতে চাই, ভারতের সাধারণ জনগণের সাথে বাংলাদেশের মানুষের কোন বিরোধ নেই। ঐ দেশের সাধারণ জনগণ আমাদের সাথে শত্রুতা পোষণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজাকারনামা-২ (অপরাধির জন্য আমাদের,মানবতা ! বিচিত্র এই দেশের মানুষ!!)

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৫



সনজীদা খাতুন তখন ইডেন কলেজে কর্মরত ছিলেন । ইডেনের মেয়েরা 'নটীর পূজা' নামে একটা নাটক করেছিলো। সেই নাটকে একেবারে শেষের দিকে একটা গান ছিলো। তিনি ছাত্রীদের সেই গানটা শিখিয়েছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুস্থধারায় ফিরছে রাজনীতি; আম্লিগের ফেরার পথ আরো ধূসর হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১০


গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে একে অপরের মধ্যে কোথাও কোথাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে এই 'প্ল্যান'-গুলো আমাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর লিস্টে আছে কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



আসসালামু আলাইকুম।
দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিচের বিষয়গুলোর উপর নজর দেওয়া জরুরী মনে করছি।

প্ল্যান - ১
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যেকটিতে গবেষণার জন্যে ফান্ড দেওয়া দরকার। দেশ - বিদেশ থেকে ফান্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

আমরা ০৯ জিলহজ্জ্ব/০৫ জুন রাত সাড়ে দশটার দিকে মুযদালিফায় পৌঁছলাম। বাস থেকে নেমেই অযু করে একসাথে দুই ইকামায় মাগরিব ও এশার নামায পড়ে নিলাম। নামাযে ইমামতি করেছিলেন আমাদের দলেরই একজন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×