১৯৮৫ পরবর্তী জন্ম নেয়া যে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠি এই দেশে বড় হচ্ছে তারা আসলে কতটা যোগ্য?
১৮+ এই জনগোষ্ঠি নিজেদের মডার্ন মনে করলেও আদতে তারা এখনো যথেষ্ট অন্ধকারে । তাদের মধ্যে যে ভয়ানক ব্যাপারটা দেখা দিচ্ছে তা হল ন্যাৎসি বাদ । ন্যাৎসিবাদ বাংলাদেশ কে ঘিরে ধরছে । যে কোনো একটা ইস্যু, সেটা হোক সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক, এই এইটিন প্লাস জনগন তাতে ন্যাৎসিবাদ প্রতিষ্ঠা করছে ।
ন্যাৎসীবাদ হল, এক কথায় নিজের জাতিকে পৃথিবীর সেরা জাতি মনে করা । ভৌগলিক কারণেই আমরা ভারত-পাকিস্তান-মিয়ানমার তথা সার্ক ভুক্ত দেশগুলোকে ছাড়া চলতে পারি না । এমতাবস্থায় দেশগুলোর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রেখে চলাটাই কি শ্রেয় নয়?
তা না করে আমরা ইন্ডিয়াকে রেন্ডিয়া, পাকিস্তানকে ফাকিস্তান বলে অলয়েজ চেচিয়ে যাচ্ছি । ব্যাপারটা এতটাই ভয়াবহ যে কেউ একটু বাকা কথা বললেই রেন্ডিয়া ফাকিস্তান চলে আসছে । একই ভাবে সীমান্তের ওপারে ফাকিস্তান কাঙ্গলাদেশ বলে গালাগাল করা হচ্ছে । এতে আমাদের হাজারবছরের উপমহাদেশীয় সম্প্রীতি আজ হুমকির মুখে ।
আমাদের এই ন্যাৎসীবাদী চিন্তাধারা না বদলালে আখেরে ক্ষতি যে কোনো দেশেরই কম হবে না এটা খালি চোখেই দেখা যায় । আইরিশরা অনেক আগেই ইংল্যান্ড থেকে স্বাধীনতা পেয়েছে । স্কটিশরাও । ওরা নিজেদের জন্যই এখনো ইংল্যান্ডের সাথে যথেষ্ট সদ্ভাব রেখে চলে । অন্তত বাইরে বাইরে । আর সোভিয়েত ভেঙে যে দেশগুলা হয়েছে তাদের অনেকেই এখনো রাশিয়াকে মেনে নিতে না পেরে যুদ্ধ করেই যাচ্ছে । এগুলো অতিসাম্প্রতিক উদাহরন । এখন রাস্তা দুইটাই খোলা । আমরা কোনটা বেছে নিচ্ছি,
স্কটল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড ঘরানার সমাধান নাকি সোভিয়েত রাষ্ট্রগুলার গোলাগুলি ।
বাংলাদেশের মানুষের অন্যের মতামতে এলার্জি জাতিগত সমস্যা । জাতিগতভাবেই আমরা একে অন্যের মতামতে বিরোধিতা করি । আর এর সাথে যুক্ত হয়েছে সব কিছুতেই ইন্ডিয়া আর পাকিস্তানের পিন্ডি চটকানো । এতে আমাদের কোনো দেশেরই লাভ হচ্ছে না । লাভ হচ্ছে ১৯৪৭এ যারা লাভবান হয়েছিলো তারা । এমন ভাবে দেশ ভাগ করা হয়েছিলো যাতে আমাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকে । পুরোপুরি তারা সফল না হলেও একটু সফল তো বটেই । আমরা সারা জীবন কি নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করেই কাটাবো না একটু চেষ্টা করব উন্নয়নশীল থেকে উন্নত রাষ্ট্র হতে পারি কি না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




