somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের দার্জিলিং- বান্দরবন (পর্ব-২)

১১ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা সি,এন,জি ঠিক করলাম। প্রথম যাবো নীলাচল। এরপর মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র। সেখান থেকে ফিরে, স্বর্নমন্দির আর রামজাদী মন্দির।

পথে চলতে চলতে যে ছবিগুলো উঠালাম তা দেখুন। - কী সুন্দর না!

- আমার বন্ধুরা সি, এন, জি তে।

নীলাচল চলে এলাম। এটি বান্দরবন শহর থেকে প্রায় ৪ কিঃমিঃ দূরে। কেউ যদি শুধু নীলাচল যেতে বা আসতে চায় তবে ৪০০-৫০০ টাকা লাগবে। এবার আসি, এই জায়গাটার নাম নীলাচল কেন? খুব সহজ উত্তর। আকাশের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। এমন নীল আকাশ আর কোথায় দেখা যায়? হুম, আমার মনে হলো এমন নীল আকাশ নীলাচল ছাড়া আর সেন্টমার্টিনেই কেবল দেখা যায়। টাইগার পাড়া এলাকায় এ পাহাড়টি বিধায় একে টাইগার হিল ও বলা হয়। দার্জিলিং এ ও টাইগার হিল আছে। সেখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। বরফের উপর সূর্যের আলো পড়লে কি যে সুন্দর লাগে! সেই সৌন্দর্য নাকি সবার ভাগ্যে জোটে না। কবি গুরু ৭ম বারের প্রচেষ্টায় সেই অপার্থিব সৌন্দর্য উপভোগ করেন।
আমি সেবার এর কেবল ছিটে-ফোটা দেখেছি। সেখানকার মতো করে এখানেও একটা দুইতলা গোল কটেজ বা গেস্ট হাউজ এর মতো বানিয়েছে যার চারদিকে বারান্দা। চমৎকার! কিন্তু চা খাওয়ারও ব্যবস্থা নেই দেখে একটু বিরক্তি লাগলো। এখান থেকে সূর্যোদয় নয়, দেখা যায় সূর্যাস্ত। আমরা ভুল সময়ে এসে পড়েছি। একেবারে দুপুর। ১১ টা বাজে বোধহয়। আসুন ছবি দেখা যাক।

- এই সেই নীলাচলের বিখ্যাত গোলাকার দ্বিতল কটেজ।









- ইউ কে চিং মার্মা একজন বীর বিক্রম।







- এটা এক ধরনের ঘাস ফুল। কি সুন্দর না! অনেক কষ্ট হয়েছে এই ছোট ছোট ফুলগুলোকে ক্যামেরায় বন্দী করতে।



- টাওয়ার।



- মূলবেদীতে উঠার সিড়ি।

তবে এখানে আসার আগে মনে হয় দুইবার করে টাকা দিতে হলো। তাই এইখানে আর কোনো টিকেট নেই।

- ছোটদের জন্য দোলনা।

- সি, এন, জি থেকে তোলা টাওয়ার।

এখানে খুব বেশি একটা সময় ছিলাম না। খুব বেশি হলে আধা ঘন্টা। এখানে আসলে দেখার কিছু নেই। বা ঘোরাঘুরির ও কিছু নেই। এখনো এটি গড়ে উঠছে। কাজ চলছে। বর্মীজদের মতো দেখতে এক মহিলা কাজ দেখা শোনা করতে এসেছিলেন। কোথায় কোথায় টাইলস বসাতে হবে, কেমন টাইলস হবে, কোথায় কোথায় বসাতে হবে, এই সব। এখানে কিছু ছবি তুলে নিলাম। একটা জেট প্লেন চলে গেলে মনে হলো যেন, নীল আকাশটাকে এফোড়-ওফোড় করে দিয়ে গেল। অনেক চেষ্টা করলাম বিষয়টাকে ক্যামেরায় বন্দী করার কিন্তু খুব একটা ভালো এলো না, তাই আর দিলাম না। চারপাশ সবুজ আর সবুজ। কি যে সুন্দর! মন গুমোট থাকলে ভালো হবেই। ও হ্যাঁ, এখানকার রাস্তা কিন্তু বেশ ভালো। একেবারে পীচ ঢালা। খুব বেশি প্রশস্ত নয়, তবু বেশ ভালো। রাস্তার দু-পাশে মাঝে মাঝে বাসা-বাড়ি আর পাহাড়ি সৌন্দর্য। বাসার সামনে দেখি দার্জিলিং এর মতোই ফুলের সমাহার। গোলাপ কম, জবা, গাঁদা, আর নাম না জানা বিচিত্র ফুল।

এর পর চলে এলাম মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে।- মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে ঢোকার গেট।

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রটি বান্দরবন থেকে প্রায় ৫ কিঃ মিঃ দূরে। নীলাচল থেকে মাত্র ১ কিঃ মিঃ দূরে। মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে ঢুকতে আপনাকে খরচ করতে হবে ৫০/- টাকা। তবে যদি ক্যাবল কারে উঠেন, তবে আপনাকে আরো ৩০/- টাকা খরচ করতে হবে। আসুন দেখা যাক, এখানকার বেশ কিছু ছবি। ছবির মাধ্যমেই জেনে নিই কী কী সুবিধা আছে এই পর্যটন কেন্দ্রে।



- এই হলো পুরো মানচিত্র।











- ঝুলন্ত সেতু।

এখানে দুটি ঝুলন্ত সেতু আছে। আমরা একটাতেই উঠেছি। আর পাহাড়ি পথে হাটতে হাটতে বের হয়ে গেছি বাইরে। কি আশ্চর্য আর যে অনেক কিছু ছিলো দেখার, দেখা হলো না কিছুই। চিড়িয়াখানা, স্মৃতি যাদুঘর, শিশু পার্ক, দেখা হলো না কিছুতেই। এর পরের বারের জন্য তোলা রইল। আসুন আরো কিছু ছবি দেখা যাক।







- একটা বিশ্রামাগার

- আদিবাসীদের নিয়ে ভাস্কর্য

ক্যাবল কারে উঠলাম। এখান থেকে তুলে নিলাম ঝুলন্ত সেতুর কিছু ছবি।





- পাহাড়ি ফুল।

- ছোট ছোট এই ফুল গুলো যে কি সুন্দর! ভালো ক্যামেরা থাকলে আরো জীবন্ত করে দেখানো যেতো।



এখানে একটি ভেষজ বাগান রয়েছে। পাহাড়ি পথ চলতে চলতে দেখলাম সেই সুন্দর গাছগুলো। নাম না জানা কত গাছ! এই পাহাড়ি পথে হাটতে হাটতে পেলাম ফলের দোকান। পাহাড়ি ফল। আমাদের চিরপরিচিত ফল। ডাব, কলা, পেপে, তেতুল, জাম্বুরা, আনারস আরো কিছু না চেনা ফল। আমরা প্রথমে ডাব, এর পর পেপে, এরপর কলা খেলাম। প্রত্যেকেই বোধহয় ছিলাম ক্ষুধার্থ। খেলাম ও পেট পুরে। প্রত্যেকেই স্বীকার করল আর লাঞ্চের দরকার নেই। তখন প্রায় ২ টার কাছাকাছি বাজে। কোথা দিয়ে বের হব কে জানে। তবু পেছন না ফিরে সোজা হেটেই চলেছি সামনে। এর পর বের হলাম যখন দেখি আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। একটু হেটে এসেই সেই মেঘালয় পর্যটনের সামনের গেটে চলে এলাম। ছবি আর লোড করা যাচ্ছে না। তাই স্বর্ণমন্দিরের ছবিগুলো এর পড়ের পোস্টেই দিতে হচ্ছে। আজ, এই পর্যন্ত থাক।

বাংলাদেশের দার্জিলিং- বান্দরবন (পর্ব-১)

বাংলাদেশের দার্জিলিং- বান্দরবন (পর্ব-৩)

বাংলাদেশের দার্জিলিং- বান্দরবন (পর্ব-৪)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:৪৮
২৮টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্ম কর্ম

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১০ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



আপনার দিনের পর দিন ধর্মীয় লেখা পোস্ট করার কারণে -
হয়তো, আপনার কম্পিউটারটি স্বর্গে যেতে পারে।
কিন্তু, আপনার নিজে স্বর্গে যেতে হলে -
আপনার নিজের ধর্ম কর্ম করতে হবে।


ঠাকুরমাহমুদ
ঢাকা, বাংলাদেশ



...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মা আমার পৃথিবী

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১০ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৬

" আমার মা,আমার পৃথিবী "

মাঝেমধ্যে হঠাৎ করেই মাগো তুমি আমার স্বপ্নে এসে আমার হ্রদয় ছুঁয়ে যাও। সেদিন সারাটাক্ষন আমি আমার মায়ের মাঝে ডুবে থাকি। কোনো কাজে মন বসাতে পারিনা।
কিশের এতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিমস যুদ্ধ: রাজনীতিতে হাসি-ঠাট্টার কৌশল”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১০ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৯

সাম্প্রতিক সময়ের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডগুলো বেশ মজার। ট্রল আর মিমসের দুনিয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে যা আমাদের বিনোদনের খোরাক জোগায়। ওপরের তালিকার সাথে আরও কিছু চলমান মিমস... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমার কোন এক মুহূর্তের শব্দ শুনি

লিখেছেন সামরিন হক, ১০ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩১


ছবি- নিজস্ব সংগ্রহ


কেঊ এসে মেরে রেখে যাক তা চাই নি কখনো ।
তবুও সে আসে,মেরে ফেলে চলে যায়।
তখন খুব জোড় করে বেঁচে থাকি,
বলতে পারো জোড় করে বাঁচিয়ে রাখি নিজেকে।

জীবন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই মে, ২০২৬ রাত ১:৫১


মাইলস্টোন স্কুলের কথা কি এখনও মনে আছে? একটা ট্রেনিং জেট ক্রাশ করেছিল স্কুলের ওপর। ছোট ছোট বাচ্চারা ক্লাস করছিল, হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে এল মৃত্যু। ঠিক যেমনটা আমরা সিনেমাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×