
আ.লীগের সঙ্গে এবার ইসলামি দল বেশি। নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত - দুই ধরণের ইসলামী দলকেই খোঁয়াড়ে পুরতে এবার আওয়ামী লীগ চরম পারঙ্গমতা দেখিয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে আগে কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি এবং তাকে কেন্দ্র করে শোকরানা মাহফিল করায় দাড়ি টুপিওয়ালা হুজুরদের চোখে শেখ হাসিনা এখন আল্লাহ্র প্রেরিত খলীফা বিশেষ হয়ে উঠেছেন। তাই সামনের ইলেকশনে জুব্বা পড়া মৌলানা ও মুন্সিদেরকে এবার ব্যাপক ভাবে নৌকার পালে হাওয়া লাগাতে ব্যস্ত হতে দেখা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের হুজুর সম্প্রদায় বরাবরই অবহেলিত। সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের না আছে কোন সম্মান, না আছে কোন সামাজিক অবস্থান। অল্পতেই তারা খুশি। কেউ বাড়িতে দাওয়াত করে খাওয়ালে আহলাদে গদ্গদ হয়ে তাকে বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞান দান করে মোনাজাত করে হোস্টকে আকাশে তুলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে তুলতে বাড়ি থেকে বের হয়। শোকরানা মাহফিলেও ঠিক তাই হয়েছে। কিন্তু শোকরানা মাহফিলের আয়োজকেরা মনে হয় শুকনো দোয়া-মুনাজাত বা 'কওমি জননী' টাইপ তেলবাজিতে সন্তুষ্ট না। তাদের লক্ষ্য ছিল জুব্বা পড়া হুজুরদের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখা যাতে ইলেকশনে তারা কোন ঝামেলা করতে না পারে।হুজুররাও তো পলিটিক্স বুঝে না, তাই যারা ডেকে এনে আদর করে খাইয়েছে, তাদের দু'পয়সার কাজে লেগে খাওয়াটা হালাল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এবার ভোটের রাজনীতিতে সক্রিয় আছে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে ৭০টি ইসলামি দল ও সংগঠন। এর মধ্যে ২৯টি দল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে। ৩২টি দল আছে জাতীয় পার্টির সঙ্গে, যারা ভোটের মাঠে সরকারের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। আর বিএনপির সঙ্গে আছে ৫টি দল।

অনেক দিন ধরে একটা ধারণা আছে যে জাতীয় নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোট বিএনপির দিকেই বেশি যায়। এবার এই ‘ভোটব্যাংকের’ দিকে নজর দিয়েছে আওয়ামী লীগ এবং এর মিত্র এরশাদের জাতীয় পার্টি। এরই অংশ কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও সরকার সখ্য গড়ে তোলে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ইসলামপন্থীদের বেশি করে কাছে টানা গেলে বিএনপির ভোট কমবে, এই কৌশল থেকে ছোট-বড় সব ধরনের ধর্মভিত্তিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তিদের সঙ্গে গত পাঁচ বছর সরকার সম্পর্ক বৃদ্ধি করেছে। কারও কারও সঙ্গে দূর থেকে নির্বাচনী সমঝোতা করছে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

