somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনের গল্পঃ মায়েরা সবকিছুর উপরে...

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একবার রঞ্জন স্যার হুট করেই আমাকে দাঁড় করিয়ে বললেন, তুই আজকে মরে যাবি...
রঞ্জন স্যারের জ্যোতিষবিদ্যা নিয়ে সবাই হইহুল্লোর করলেও এদিকে আমি পড়ে গেছি বিপাকে...
একজীবনে শতবর্ষ বাঁচার কল্পনা নিয়ে জীবনকে উপভোগ করতে লাগলাম, সেখানে স্যার বলে কী না আমি আজকে মরে যাবো!
পুরো হতাশায় ডুবে যাচ্ছি, এমন সময় আমার বন্ধু উজ্জ্বল কাছে এসে বলে, স্যারকে নাকি সে পাগল ডেকেছে!
- বলতো এও কী সম্ভব? আমার নামে নাকি স্যারে মিটিং বসাবে, এটার একটা বিহিত করবে, আমাকে নাকি স্কুল থেকে বহিষ্কার করবে...
আমি বললাম, তোর চাইতেও মহাবিপদে আছি আমি, স্যার বলেছেন, আমি নাকি আজ মারা যাবো! কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না...
উজ্জ্বল বলে, বলস কী! স্যার যখন বলেছে, তাহলে তুই আজকে অবশ্যই মরে যাবি, কারণ স্যার ভালো ভবিষ্যত দেখতে পারেন, দেখলি না সেদিন স্যারে বললেন, আজ অঝড়ে বৃষ্টি হবে, হয়েছে, তারপরের দিন বললেন, আজ বৃষ্টি হবে না, সেদিন কিন্তু বৃষ্টি হয়নি। স্যার যেহেতু বলেছেন তুই মরে যাবি, তাহলে তুই আজ অবশ্যই মরে যাবি...
উজ্জ্বলের এমন কথায় আমি পুরো নেই নেই অবস্থাই চলে গেছি, মনে হচ্ছে আমি এই মাত্র মরে গেলাম...
স্কুলে বেশ কিছু ক্লাসমেট শত্রু ছিলো, মাঝখানে বসার জন্য প্রায় ঝগড়া হতো ওদের সাথে...
হুট করেই তাদের একজন এসে বলে, আজ তোর খবর আছে...
তার এমন কথায় মনে মনে ভাবতে লাগলাম, তবে কী এর হাতেই আমার মরণ হবে!
ওদের কাছে অস্ত্র হিসেবে আছে কলম। তাহলে কী এই কলম দিয়েই আমার মরণ হবে! তাও বলপেন কলমে! মানতে পারছি না...
কেউ কেউ সান্তনা দিতে আসলেও কারও উপর ভরসা পাচ্ছি না।
মনে হচ্ছে এদের মধ্যেই কেউ হয়তো আমাকে মারার প্ল্যান করছে...
কী মনে করে সেদিন স্কুল ছুটি না হতেই ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেলাম...
বাসায় পৌছেই মায়ের কোলে শুয়ে কাঁদতে লাগলাম। মাকে স্কুলের ঘটনা সব খুলে বললাম...
মা বলেন, দূরর স্যারে বললেই হলো নাকি! আসুক তো মরণ, দেখবো কীভাবে আমার ছেলে মরে...


রাতে প্রায়ই ঘামতে ঘামতে শেষ। জ্বরে গা পুঁড়ে যাওয়ার মত অবস্থা।
মা পড়ে গেলেন টেনশনে। কী করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। মা কিন্তু হাল ছাড়েননি। রাতভর আমাকে পাহারা দিয়ে, কপালে জলপট্টি দিয়ে দ্রুত সুস্থ করে তুললেন...
সকালে পুরো সুস্থ। গতকাল যে ভয়ে জ্বর এসেছিলো সেটা বুঝতে আর বাকী রইলো না...
সেদিন স্যার একটা ভালো শিক্ষা দিলেন, কেউই ভবিষ্যত বলতে পারেন না। সবাই অনুমান করে, এই অনুমান করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হয়। এই অনুমান করেই মা সেদিন আমাকে সেবা করে সুস্থ করে তুললেন...
একজন দেখালেন মৃত্যু ভয়, আরেকজন উপলব্দি করালেন ভয়ে কাঁত হওয়া যাবে না...
স্যারের ধারণা ছিলো, স্যার ভবিষ্যত বলতে পারেন, মায়ের বিশ্বাস ছিলো ওগুলো সব মিথ্যা, ভুয়া, কুসংস্কার...
সেদিন আমি মাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলে দ্রুত সুস্থ হয়ে গেছিলাম, যদি স্যারের ভবিষ্যত বাণীতে আটকে থাকতাম তাহলে সেদিনই আমার মৃত্যু হতো...
এজন্যই বলি, পৃথিবীতে একজন মা আছেন, যিনি ডাক্তারেরও অনেক উপরে...

নয়ন বড়ুয়া
অক্টোবর, ২০২১
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১:৫৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমিও পারি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬



জ্ঞানী মানুষ পড়ালেখা করে বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউবা পড়ালেখা করে একটি ভালো জবের জন্যে, কেউবা জ্ঞান আহরণের জন্যে, আবার কেউবা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্যে। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভোজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০


গতকাল শরীরটা ভালো ছিলো না। তার জেরেই সম্ভবত ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল। ঘুম ভাঙলেই আমি প্রথমে মোবাইল চেক করে দেখি কোন জরুরী কল এসেছিল কিনা। আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরার ট্রেন

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১২


ঈদের ছুটিটা যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। বারোটা দিন—ক্যালেন্ডারের হিসেবে ছোট, কিন্তু হৃদয়ের হিসেবে এক বিশাল পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে ছিল হাসি, ছিল কান্না, ছিল ঘরের গন্ধ, ছিল প্রিয় মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×