somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিয়ম ভেঙে সেনাবাহিনীকে ১৮০০ একর বন !

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে গত ১৬ এপ্রিল রামুর ১ হাজার ৭৮৮ দশমিক ৯৮ একর ভূমিকে সংরক্ষিত বনভূমির আওতামুক্ত করে আদেশ জারি করেছে।

এই ভূমি প্রায় দেড় হাজার ফুটবল মাঠের সমান।

বিধি লঙ্ঘন করে সেনানিবাস স্থাপনের জন্য ভূমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

তিনি সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিধিমালা অনুযায়ী সংরক্ষিত বনভূমি বরাদ্দ দেয়ার বিধান না থাকলেও রামুতে স্থায়ী সেনানিবাস করতে সেনাবাহিনীকে বনভূমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে মন্ত্রীর কিছু করার নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যখন চাহিদা দেয়া হয় তখন আমাদের পক্ষে বরাদ্দ না দিয়ে উপায় থাকে না। আইন না থাকলেও তো অনেক কিছুই হচ্ছে।”

মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, “তফসিলভুক্ত সংরক্ষিত/রক্ষিত বন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্থায়ী সেনানিবাস স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হবে এবং সে লক্ষ্যে যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ অনুমোদন পাওয়া গেছে।”

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, “রামুতে সংরক্ষিত বনভূমি সেনাবাহিনীকে বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের (মন্ত্রণালয়) কোনো ভূমিকা নেই। আমরা শুধু জমি বরাদ্দ দিয়ে আদেশ জারি করেছি।”

সেনাবাহিনীকে ওই বনভূমি বরাদ্দ দিয়ে বন মন্ত্রণালয় বলছে, বন আইন ১৯২৭ (১৯২৭ সনের ১৬নং আইন) (২০০০ সালে সংশোধিত) এর ২৭ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার তিনটি মৌজার ওই বনভূমিকে সংরক্ষিত/রক্ষিত বনভূমির আওতামুক্ত করেছে।

১৯০৭ সালের ২৫ মে , ১৯৩০ সালের ১২ জুলাই এবং ১৯৩৫ সালের ১১ জুন প্রজ্ঞাপন দিয়ে রামুর তিনটি মৌজার জমিকে রক্ষিত বন ঘোষণা করা হয়েছিল।

২০১২ সালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পুনর্নির্মিত বৌদ্ধ বিহার উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে রামুতে একটি স্থায়ী সেনা ক্যাম্প নির্মাণের দাবি জানানো হয়।

সেনানিবাসের জন্য বরাদ্দ পাওয়া বনভূমির মধ্যে ১ হাজার ১৮০ একর রামুর রাজারকুল মৌজার, ২৬৪ দশমিক ৫৫ একর খুনিয়াপালং মৌজার এবং ৩৪৪ দশমিক ৪৩ একর উমাখালী মৌজার।

এরমধ্যে রাজারকুল মৌজার এক হাজার ১৮০ একর এবং খুনিয়াপালং মৌজার ২৬৪ দশমিক ৫৫ একর বনভূমি সংরক্ষিত। আর উমাখালী মৌজার ৩৪৪ দশমিক ৪৩ একর বনভূমি রক্ষিত হিসাবে চিহ্নিত ছিল।

এই তিনটি মৌজার সংরক্ষিত বনভূমিতে পাহাড়, ছড়া, টিলা, পুকুর এবং গাছপালা রয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

জমির চৌহদ্দির বর্ণনায় আদেশে বলা হয়েছে, উত্তর- বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের নারিকেল বীজ বাগান, রাজারকুল রিজার্ভ এবং উমাখালী রক্ষিত বন।

দক্ষিণ- দারিয়াদীঘি রিজার্ভ এবং খুনিয়াপালং জোত ভূমি।

পূর্ব- আরাকান সড়ক এবং তৎপূর্বে কক্সবাজার বোটানিক্যাল গার্ডেন (রাম কোর্ট রিজার্ভ) এবং পশ্চিম- দক্ষিণ মিঠাছড়ি রক্ষিত বন এবং তৎপূর্বে কক্সবাজার-টেকনাফ লিংক রোড।

কবে থেকে স্থায়ী সেনানিবাস স্থাপনের কাজ শুরু হবে- জানতে চাইলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

একজন সেনা কর্মকর্তা বলেন, রামুতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন কাজ করলেও তাদের যতটুকু অবকাঠামোগত সুবিধা থাকার কথা ছিল সেখানে তা নেই। তাই সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা সম্বলিত স্থায়ী সেনানিবাস স্থাপন করা হবে।

সূত্র - বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×