somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নতুন বান্ধবীর হাত ধরা এবং রাস্তার আইলেন

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তথ্যটা খুব কম ছেলেই জানে । আর কথাটা মেয়েদের ছোট বা কটাক্ষ করার জন্যেও বলছি না। আমি আমার সংক্ষিপ্ত জীবনে যা দেখেছি তাতে মনে হয়েছে এ যুগের অধিকাংশ মেয়েই পৃথিবীতে কেবল পাঁচটা জিনিসকেই মন থেকে ভালোবেসে বাঁচে : পোশাক -পরিচ্ছদ, খাবার, ক্যামেরা, বিড়াল এবং নিজেকে । পৃথিবীতে অন্য কিছুর দিকে এরা সম্ভবত মনোযোগ খুব কমই দেয় বা দিতে পারে ।

আমার দুর্দান্ত সুন্দরী নতুন বান্ধবীও কি আদৌ এদের থেকে আলাদা?

একটা বয়সের পর মানুষের আসলে বন্ধুত্ব হয় না, হয় কৃত্রিম আন্তরিকতার প্রয়োজনের সম্পর্ক । আমার মতো চেহারা থেকে মানসিকতা পর্যন্ত সবকিছুতে আপাদমস্তক মধ্যবিত্ততায় ভোগা মানুষের কাছে আক্ষরিক অর্থেই দেবী ভেনাসের মতো সুন্দরী এ মেয়ের কি প্রয়োজন? যে মেয়ে কোন ছেলের সাথে কয়েকটা শব্দ বললেই সেই ছেলে অবধারিতভাবে পরপর কয়েক রাত তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে ফেলবে, সেই মেয়ের তো হুট করে প্রায় গায়ে পড়ে আমার সাথে মেশার, আমার বই, শার্ট, জিন্সের প্যান্ট কেনার সময়ের সঙ্গীনি হবার জন্য ব্যাকুল হওয়ার কোন দরকার নেই । যেখানে এ চাইলেই বহু দেবদূত এর জন্যে যে কোন সময় সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দেওয়ার জন্য বের হয়ে যাবে, সেখানে আমার কাছে এ কি চায়? এ যুগের মেয়েরা বেড়াল যেমন পছন্দ করে, তেমন অধিকাংশ মেয়ের মধ্যেও তো বেড়াল সুলভ স্বার্থ সচেতনতার প্রবনতা প্রকট । বেড়ালকে মানুষ নিজের পাত থেকে খাবার তুলে খাওয়ায়, পরম আদরে বড় করে। কিন্তু কখনো যদি ভুলেও লেজে একটু পা দিয়ে ব্যথা দিয়ে ফেলে, বেড়াল আগের সব আদর ভুলে গিয়ে সাথেসাথে সর্বশক্তিতে খামচি বসিয়ে দেয় । এতোটাই স্বার্থ সচেতনতা বা স্বার্থপরতা! ..... এই যদি হয় বিড়াল আর মানবীদের অবস্থা, তাহলে এই মেয়ের আমার কাছে স্বার্থটা কি? আমি চিন্তা করি, খুঁজে পাই না ।

...... রাস্তার আইলেনগুলো রিকশায় পাশে কেউ থাকলে আকর্ষনীয় হয়ে যায়। প্রতিটা আইলেনে রিকশাওয়ালা রকেট গতিতে রিকশা তুলে দেবে আর পাশের সঙ্গনী ভয় পেয়ে আপনার হাত আঁকড়ে ধরবে - ছা'পোষা মাথা মোটা ছেলেদের কাছে এতোটুকুই জীবনের চরম ও পরম সার্থকতার কারণ হয়ে যেতে পারে । কিন্তু বান্ধবী দেখা গেলো হাত পুরোপুরি ধরার সাহস পাচ্ছে না, কখনো ধরে শার্টের এক কোনা, কখনো বা না ধরার মতো করে ধরা । একদম ধরি মাছ না ছুঁই পানি অবস্থা..... কি যন্ত্রনা!

মুখ পাশে ফিরিয়ে ডাক দিলাম ।

- বান্ধবী!
- কি?
- আমার সাথে সমুদ্রের আশেপাশে গেলে হয় সমুদ্রে নেমে গোসল করতে হবে, নয়তো শুকনো বালিতে দাড়িয়ে থাকতে হবে । এমন পায়ের পাতা ভিজিয়ে পানি ছিটাছিটি করা যাবে না । আধ ভেজা হওয়ার পানি ছিটাছিটি খেলা আমার খুবই অপছন্দ ।
- মানে? কি বলো এইসব উল্টা - পাল্টা!
- হাত ধরলে ভালো মতো ধরো । সামনের আইলেন বেশী উঁচু মনে হলে চাইলে ভয় পাওয়ার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে জড়ায়েও ধরতে পারো .... কিন্তু এমন বরফ - পানি টাইপ সুড়সুড়ি দেওয়া ছোঁয়াছুঁয়ি করবা না । বুঝছো?

সে জবাব দিলো না । কিন্তু নিঃশ্বাস দ্রুত হয়ে আসা আর শঙ্খের মতো ফর্সা নাকের উপর ঘামের আভাসে বোঝা গেলো সে বুঝেছে, ভালো মতোই বুঝেছে । রিকশা তখন কাঁটাবন মার্কেটের সামনে.... পরের আইলেনেই সম্ভবত কিছু একটা ঘটবে .... ভয়াবহ কিছু!

আমি নীলক্ষেত মোড়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে রিকশা থেকে নেমে গেলাম ।

কারণ একটু সামনেই মহসীন হলের মাঠের পাশের আইলেনটা সম্ভবত ঢাকা শহরের অন্যতম উঁচু আইলেন ।

নেমে গেলাম কেন? ভয়ে?

পৃথিবীতে ছেলে মানুষ আমার দেখা অনুসারে চার প্রকার - একদল ঘুরে কেবল চাহিদা নিয়ে । এদের মানিব্যাগে কনডম সহজলভ্য । আরেকদল সাথে করে ঘুরে নিজের হৃদয়টাকে নিয়ে, যাদের মানিব্যাগের গোপন কোন ভাজে পাওয়া যেতে পারে বিবর্ণ হয়ে আসা কিছু স্মৃতির টুকরো, ভগ্নাবশেষ । তৃতীয়দল নির্বোধ এবং জড়পদার্থ । আর সর্বশেষে যারা আছে তারা আবেগ অনুভূতির বদলে নিজেদের বুকের ভেতরটা দখল করিয়ে রাখে একটা অদৃশ্য ক্যালকুলেটর দিয়ে, যাতে প্রতিনিয়ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব হয়ে চলে প্রতিটা পদক্ষেপের লাভ - ক্ষতি ।

..... নগরীতে ইদানীং সৃষ্টিকর্তার সুন্দরতম সৃষ্টি মানবদের মাঝে নিজের সত্যিকারের দল পরিবর্তন করে চতুর্থ দলে ঢোকার কাতারে দাড়ানোর প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে । এই তথ্যটাও অনেকেরই অজানা ।

তবে আমি জানি ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×