somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন মাহবুব স্যার এবং কতগুলো বিজ্ঞানেরর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ

২২ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাহবুব আলম স্যার.....। যার কথা না বললেই নয়। পেশায় একজন রসায়ন বিজ্ঞানের শিক্ষক। শুনেছি মা-বাবার পরেই শিক্ষকের স্থান, কিন্তু ইনার স্থান আমি কোথায় দিব ভেবেই কুল পাই না। যদিও আমি একটি সরকারী কলেজে পড়তাম কিন্তু রসায়ন প্রাইবেট নামক যে বস্তু আমরা গলাধঃকরন করতাম সেটা হতো একটা বেসরকারী কলেজের শিক্ষকের কাছে। ইনিই সেই মাহবুব স্যার।
তিনি যে কলেজের শিক্ষক ছিলেন সে কলেজটা পল্লি অঞ্চলে ভিতরে ছিল। কিন্তু আমাদের কলেজ শহর অঞ্চলে। আমাদের কলেজের সাথে নামকরা আরও একটি বেসরকারি কলেজ ছিল। শহর অঞ্চলের এই দুটি কলেজ থেকে বেশ বড় সংখ্যার ছাত্র-ছাত্রী তার কাছে প্রাইবেট পড়তো।
প্রায়শই তিনি আমাদের সাথে মজা করতেন। আমাদের হাসাতেন, কৌতুক টাইপের গল্প নিয়ে হাস্যরস করতেন। মাঝে মাঝে আমাদের ফোন বেজে উঠত, স্যার আমাদের কলম জরিমানা করতেন। আমরা অনেক সময় দিতাম। বেশিরভাগ সময়ই দিতাম না। এভাবেই চলছিল।
হঠাৎ কোনো একটা কারনে আমি মাহবুব স্যারের পল্লি-গ্রামের কলেজটাতে ট্রান্সফার হয়ে আসি। তখন থেকেই আমার অবাক হবার পালা শুরু। এক অন্যরকম মাহবুব স্যারের সাথে পরিচয় হয় আমার। তার পা হতে মাথা পর্যন্ত এক অন্যরকম বিস্ময়। তিনি এখন আর আগের মতো হাসেন না, আগের মতো হাস্যরসাত্মক কৌতুক করেন না। আমাকে আর জিজ্ঞস করেন না, কিরে কি অবস্থা তোর? আজকের পড়াটা বুঝছিস তো?
এখন আর তিনি কলম জরিমানা করেন না, ফোন বেজে ওঠলে ক্লাস থেকে বের করে দেন। একদিন আমাকেও ক্লাস থেকে বের করলেন। আমার কোনো কথা শুনলেন না। আমি সবার সামনে অপমানিত হলাম। বের হয়ে গেলাম। আরও একদিন অকারনে অপমানিত হতে হলো। উনার প্রতি একটা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী হলো। একদিন ক্লাস শেষ, সবাই ক্ষুধার্ত। তারপরও আমাদের প্রাইবেট পড়তে হবে। মাহবুব স্যার বললেন- 'তোমরা থাকো, আমি আসছি'। সেই আসা দেড় ঘন্টা পর।
এসেই বললেন তিনি আজকে পড়াবেন না। খুব খারাপ লাগলো, কষ্ট হলো। এরকম প্রায়শই হতো। উনাকে গাল দিতে শুরু করতাম, সহজে উনার ছায়া মাড়াতাম না। শহরের শিক্ষার্থীদের পিছনে সময় দিতেন বেশী, আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে উনার ভাববার সময় নেই। এক সময় প্রাইবেট ছেড়ে দিলাম। ক্লাসে আমাদের কয়জনকে সুযোগ পেলেই ঝাড়ি দিতেন, সাথে অকারনে বকাবকি ফ্রি। শেষে এটার রহস্য উৎঘাটন করলাম। আমরা প্রাইবেটে হাতে গোনা গুটিকয়েক কয়জন শিক্ষার্থী ছিলাম বলেই তিনি প্রাইবেট পড়াতে চাইতেন না। কারন, এখানে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা একবারেই ক্ষীন। শহরে তার প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী। ওখানে প্রতিটি ঘন্টা একটা ভালো মানের অর্থ ফলায়। উনি চাইতেন আমরা যেনো শহরে গিয়ে উনার কাছ প্রাইবেট পড়ি। কিন্তু এটা সম্ভব ছিল না। আমরা অর্থের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারতাম না। একারনে সব গল্পের সূত্রপাত ঘটেছে। আর কলেজটার শিক্ষক হওয়াতে আলাদা একটা দৃষ্টিভঙ্গি দেখাতেন তিনি। যেনো সবাই উনাকে একটু অন্যভাবে চিনে। আমি এবং আমাদের সহপাঠীরা কিছুই করতে পারতাম না। কারন উনার কাছে ব্যবহারিকের ৫০ নম্বর আছে। তাই কিছুই করার ছিলো না। কিছু করতে গেলে হাত ফসকে সব নম্বর চলে যাবে।
কলেজের বেশীরভাগ বিজ্ঞানের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের অকারনে অপদস্থ করতে মজা পেতেন, অন্যরকম সুখ পেতেন। আর শিক্ষার্থীরা তাদের অনুকরনে পুতুল নাচ দিতেন। এটা অধিকাংশ কলেজেই ঘটে। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা যেনো শিক্ষকের হাতের পুতুল। যেভাবে নাচায় সেভাবেই নাচে।
বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা আজও প্রাইবেট, কোচিং এবং ব্যবহারিক নম্বরের মধ্যে আবদ্ধ। দেশের অধিকাংশ স্কুল-কলেজগুলোতে বিজ্ঞানের ছাত্ররা এই ঘটনার শিকার। এক্ষেত্রে মাহবুব স্যার একটা উদাহরন মাত্র।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×