somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাক-ভারত উত্তেজনা : আমরা কার পক্ষে?

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাক-ভারত সীমান্ত উত্তেজনায় টালমাটাল তখন পাশ্ববর্তী দেশগুলো কষছে সামরিক শক্তির হিসেব নিকেশ। পাকিস্তান না ভারত? সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে কিংবা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে? কার সাথে কোন দেশ আছে? এ নিয়ে বেশ কয়েকদিন যাবৎ কানাঘুষি চলছে।
কিন্তু এ বিষয়গুলো আমার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় নয়। আমার প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ পাক-ভারত উত্তেজনাটা কীভাবে দেখছে এবং কাশ্মীরকে তারা কোন পক্ষে চায়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের ৬০-৬৫ শতাংশ মানুষ পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেছে। যদিও ১৯৭১ সালে ভারত আমাদের পাশে ছিল কিন্তু ভারতের এ সময়ে বাংলাদশের অধিকাংশ মানুষ কেন পাকিস্তানের পক্ষ নিচ্ছে? ফেসবুক কিংবা ব্লগিং সাইটে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে!
[বিঃ দ্রঃ বাংলাদেশ সীমান্তে প্রতিদিন নির্বিচারে হত্যা, ICC= Indian Cricket Council এই বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া যাক।]

কাশ্মীর নিয়ে উত্তেজনায় বাংলাদেশের কাছে ধর্ম একটা বড় ফ্যাক্টর। এখানে ধর্ম নির্ধারন করে দিয়েছে এদশের জনগনকে কার পক্ষ নিবে। এমনিতেই ভারতে চলছে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা। মুসলমানদের প্রতি পদে পদে শোষন ও অত্যাচারের শিকার। সেখানে উগ্র হিন্দুত্ববাদের শিকারে প্রতিনিয়ত প্রাণ দিতে হচ্ছে মুসলিমদের। সেদিনও পত্রিকায় দেখলাম, গরুর মাংস সরবরাহ করায় ভারতে এক মহিলাকে গণধর্ষনের শিকার হতে হয়েছে। তারও আগে পত্রিকায় আসে, ফ্রিজে গরুর মাংস সরবরাহ করায় একজনকে মেরেই ফেলা হয়েছে। এরকম হাজার হাজার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে, তার কতটুকুইবা আমাদের কানে আসে।
কিন্তু এসব বিষয় বাংলাদেশের মানুষকে একটা জিনিস অনুধাবন করতে শিখিয়েছে যে, ভারতের কাছে মুসলমানরা নিরাপদ নয়, কাশ্মীরও অনিরাপদ। স্বয়ং কাশ্মীরের মানুষ ভারতে থেকে মুক্তি চায়।
কাশ্মীর যদি পাকিস্তানের সাথে একীভূত হয় কিংবা পাকিস্তানের সহায়তায় একক রাষ্ট্র গঠণ করতে সক্ষম হয় তাহলে বাংলাদেশের ঐ ৬০-৬৫ শতাংশ মানুষ একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। ধর্মের ভাইদের মুক্তিতে আনন্দ মিছিল করবে। এটাই স্বাভাবিক।
যদিও আওয়ামীলীগ সরকার ভারতকে বরাবরের মতো সমর্থন জানিয়ে আসছে। কিন্তু আওয়ামীলীগের কথা জনগনের মতামত নয়। কারণ, আওয়ামীলীগের অধিকাংশ সাংসদ, মন্ত্রী বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামীলীগ ক্ষমতার গদি পাকাপোক্ত করার জন্য ভারতকে ট্রানজিট দিয়েছে, রামপাল চুক্তি করেছে, সবশেষে কাশ্মীর উত্তেজনায় ভারতকে সমর্থন দিয়েছে। যেখানে, আমেরিকা এবং রাশিয়ার মত পরাশক্তি স্পষ্ট করে কারো পক্ষে অবস্থান নেয় নি। এমতাবস্থায় আওয়ামীলীগ সরকারের উচিৎ ছিল চুপ থাকা, আগ বাড়িয়ে কিছু না বলা।
তবে এ দেশের সাধারণ জনগনের কিছু অংশ চায় যুদ্ধটা হোক। তাহলে প্রমান হয়ে যাবে কার দৌড় কতটুকু। এ দেশের ৪০-৪৫ শতাংশ মানুষের ধারণা ভারত থেকে পাকিস্তান সামরিকভাবে শক্তিশালী। তাদের মধ্যে এ ধারণা জন্মেছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভিডিও দেখে।
সামরিক এবং পারমানবিক শক্তিতে যে কোন এগিয়ে থাকতে পারে কিন্তু যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী প্রভাব যে কতটুকু, তা গত শতকে মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। তাই অত সহজে কোন দেশই যুদ্ধে জড়াবে না। কেননা, যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে দুটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো পুরোপুরিভাবে ভেঙ্গে পড়বে।
বাংলাদেশের কিছু মানুষ (একেবারেই সাধারণ) অাবার মনে করে যুদ্ধ হবে। তবে অধিকাংশরাই মনে করেন যে, যুদ্ধটা আর বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না। সীমান্তে দু’একটা ছোটখাট ঘটনা ঘটতে পারে। বড় কোনো যুদ্ধ বা সংঘাতের কথা সবাই উড়েয়ে দিয়েছেন। এর পেছনে অবশ্য ভারতের সংযত আচরন এবং কূটনীতি সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। কারণ, ভারত জানে তারা যদি যুদ্ধটা শুরু করে তাহলে পাকিস্তান সর্বাত্মকভাবে শেষ পরমানু অস্ত্র পর্যন্ত লড়ে যাবে। এর ফলে, দক্ষিণ এশিয়া থেকে ভারত ও পাকিস্তানের সাথে ছোট ছোট দেশগুলো (যেমন- বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল) মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে। তাই ভারত নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে যুদ্ধটা এড়িয়ে যেতে চাইছে। দক্ষিণ এশিয়াকে বাঁচাতে এটাই সবোৎকৃষ্ট পন্থা।
বাংলাদেশের জনগণ কাকে সমর্থন করছে কিংবা আওয়ামীলীগ সরকার কী যুদ্ধ হলে ভারতে সৈন্য পাঠাবে, এটা বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হচ্ছে যুদ্ধটা আর হচ্ছে না। এজন্য ভারতকে আমি কি ধন্যবাদ জানাবো???
না, এখনও ধন্যবাদ জানানোর মতো সময় হয়নি। কারণ, কাশ্মীর কিন্তু এখনও অমিমাংসিত রয়ে গেছে। কাশ্মীরের মানুষ ভারতের সাম্প্রদায়িকতার কাছে জিম্মি। তারা মুক্তি চায়। স্বাধীনতা চায়।
ধর্মের ভাই হিসেবে এদেশের ৬০-৬৫ শতাংশ মানুষও কাশ্মীরের বিষয়ে সমঝোতা চায়। ভারত থেকে কাশ্মীরের বিভাজন চায়। তাই কাশ্মীর উত্তেজনায় বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগন পাকিস্তানের সাথেই থাকবে আজীবন। ভারতে মুসলমানরা সবসময় অনিরাপদ, তাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। পাকিস্তান মুসলিমপ্রধান দেশ। সেখানেই হোক কাশ্মীরদের ঠিকানা কিংবা স্বাধীনতা লাভ করুক নতুন রাষ্ট্র হিসেবে। এটাই ধর্মের ভাই হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা সকলের।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×