somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের নবী একজন, কিন্তু চার মাযহাব মানি কেন?প্রশ্ন উত্তরে ড.মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রশ্ন :
আমাদের নবী একজন, কিন্তু আমরা চার মাজহাব মানি কেন? নবী তো বলেছেন, আমাকে অনুসরণ করো। চার মাযহাবির লোক চারভাবে সালাত আদায় করে কেন? নবী তো বলেননি যে, মালয়েশিয়ার লোক একভাবে নামাজ আদায় করবে আর বাংলাদেশের লোক আরেকভাবে নামাজ আদায় করবে। আবার ভারতের লোক আরেকভাবে নামাজ আদায় করবে। এভাবে কী বলেছেন? আমাকে জানাবেন।
উত্তর :
আসলে আমাদের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। আমরা মাযহাব এবং দ্বীনের মধ্যে এমনভাবে একাকার করে ফেলেছি যে আমরা এদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছি না। ফলে মাযহাবটাকে আমরা দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে নিচ্ছি। ফলে এ বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন আমাদের সামনে উত্থাপিত হচ্ছে।
এখানে কথা হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্যই আমাদের জন্য ফরয করা হয়েছে। আমাদের যে আনুগত্যের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, তা কুরআনুল কারিমের মধ্যে সূরা মুহাম্মাদে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো। আল্লাহ এবং তার রাসূলের আনুগত্য যদি তোমরা পরিহার করো, তাহলে তোমাদের আমলগুলো বরবাদ হয়ে যাবে,তোমাদের আমল নষ্ট হয়ে যাবে। তাই তোমরা তোমাদের আমলগুলো নষ্ট করো না।
এ দুই আমলই মূলত আমাদের করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমরা এই দুটি আমলের জন্যই নির্দেশিত। এ ছাড়া দুনিয়ায় কোনো ব্যক্তির আনুগত্য বা অন্ধ অনুসরণের নির্দেশ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দেননি। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। তা হলো এই দুটি হাদিস পাওয়া যায়, একটি হাদিসের মধ্যে তিনি বলেছেন যে,আমার পরে তোমাদের মধ্যে যদি কেউ জীবিত থাকে,অচিরেই সে দেখতে পাবে অনেক মতপার্থক্য।
তাহলে বোঝা গেল যে,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন,একটি সময় আসবে,যে সময়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তিরোধানের পর মানুষের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য বিরাজ করবে। এ মতপার্থক্য ইসলাম নিয়ে,অন্য বিষয় নিয়ে নয়। ইসলাম নিয়ে,ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান নিয়ে। ইসলামে যে বিধিবিধান আছে,সেগুলো নিয়ে অনেক মতপার্থক্য বিরাজ করবে।
এই হাদিসের মধ্যে স্পষ্ট করে নির্দেশনা দিয়েছেন যে,যখন তোমরা এখতেলাফ দেখতে পাবে,তখন তোমাদের করণীয় কাজ হবে দুটি। একটা হচ্ছে তোমরা আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তো,আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরতে গেলে এ নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হতে পারে। কারণ,আমার সুন্নাত নিয়ে পরবর্তী সময়ে মানুষ এখতেলাফ করে ফেলতে পারে। সে জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সঙ্গে আরেকটি নির্দেশনা দিলেন,যাতে করে আমরা রাসুলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাত থেকে বিচ্যুত না হই। এবং আমার পরবর্তী হেদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদিনের যে সুন্নাহ আছে,সেগুলো তোমরা অনুসরণ করবে; তারা যেভাবে চলেছে,যে রীতিনীতির অনুসরণ করেছে।
এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি,তা হলো,এখানে সুন্নাহ বলতে একটি সিস্টেমকে বোঝানো হয়েছে। কর্মপদ্ধতি ও কর্মনীতিকে বোঝানো হয়েছে। সুন্নাহ বলতে সুন্নাতের যে পরিভাষা রয়েছে, সেটাকে বোঝানো হচ্ছে না।
তো,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,আমার পরবর্তী যে খোলাফায়ে রাশেদিন আছে,তাদের সুন্নাতের অনুসরণ করলেই দেখবে যে আমার সুন্নাতের সঙ্গে সরাসরি মিলে যাবে। এবং সেখানেই মূলত পথভ্রষ্টতা থেকে বাঁচার সুযোগ তৈরি হবে।
যখন এই এখতেলাফ শুরু হলো,এখতেলাফের একটা দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে,যা আজকের এই আলোচনায় শেষ করা সম্ভব নয়। সেই এখতেলাফের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম দেখেছেন যে,সুন্নাহর বক্তব্যের মধ্যে জাল হাদিস,ভুল হাদিস,মিথ্যা হাদিস, অগ্রহণযোগ্য হাদিস,বিচ্ছিন্ন হাদিসের মধ্যে প্রবেশ করেছে এবং মানুষ সেগুলো গ্রহণ করে নিচ্ছে। ফলে যেটি হয়েছে সেটি হলো ওলামায়ে কেরাম এগুলোকে আরো ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করার জন্য গবেষণার আশ্রয় নিয়েছেন। সুন্নাহর ক্ষেত্রে,সুন্নাহর বক্তব্যের ক্ষেত্রে,সুন্নাহর বর্ণনার ক্ষেত্রে এবং সুন্নাহর যে লিখিত বর্ণনা আছে,সেগুলোর ক্ষেত্রে। এই গবেষণার পরবর্তী যে আকার সেটি হচ্ছে মূলত ওলামায়ে কেরামের মতামত,গবেষণার পর তাঁরা একটি মতামত দিয়েছেন। সেটাকেই বলা হয় মাযহাব। এটা হচ্ছে স্কুল অব থট। এটা গবেষণারই একটি অংশ এবং গবেষণার পরেই এটা ওলামায়ে কেরামের ব্যক্তিগত মত। এটি কোনো দ্বীন নয় এবং এটা কোনো ইসলামের বিধান নয়।
এখন আমরা আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটকেই যদি সামনে রাখি,এখানে আমরা অধিকাংশ মানুষই হানাফি মাযহাবের অনুসরণ করে থাকি। অর্থাৎ ইমাম আবু হানিফার অনুসরণ করে থাকি। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজেও বলেন নাই যে,আমার বক্তব্যই তোমাদের জন্য দ্বীন এবং আমার বক্তব্য অনুসরণ করা তোমাদের জন্য ফরয।
এখন সমস্যা যেটা হয়েছে সেটা হলো এই যেটা আল্লাহ তা’আলা আমাদের ওপর ফরয করেন নাই,নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য ফরয করেন নাই,আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি আমাদের জন্য ফরয করেন নাই সেটাকে আমরা নিজেদের ওপর ফরয করে নিয়ে,দ্বীন বানিয়ে নিয়ে,অন্ধ অনুসরণ করে থাকি। এবং রাসুলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বক্তব্যের ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না।
ভক্তদের মধ্যে এমন প্রশ্নও অনেকে করে থাকেন,মাযহাব এবং হাদিস দুটোই পাওয়া গেলে আমরা কোনটা অনুসরণ করব। আমরা কি হাদিসের অনুসরণ করব,নাকি আমাদের ইমাম হানিফার রহমতুল্লাহি আলাইহি অনুসরণ করব?
ফলে আমরা বড় ধরনের একটা ভুলের মধ্যে রয়েছি,বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছি। ভুলটি হচ্ছে এই মাযহাবকে মাযহাবের মর্যাদায় না রেখে আমরা তাকে দ্বীনের মর্যাদায় নিয়ে গেছি। তাই এই ভাই আমাদের এই প্রশ্ন করেছেন যে,রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আমাদের চার ধরনের নামাজ আদায় করতে বলেছেন?
না, কখনোই না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যে সালাত শিক্ষা দিয়েছেন,ওহির মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রদত্ত বাণীর মাধ্যমে এই জ্ঞান দিয়েছেন। সুতরাং সেখানে দ্বিমত থাকার কোনো সুযোগ নেই। সেখানে দ্বিমত ছিল না। দ্বিমত পরে তৈরি হয়েছে। এ বক্তব্যগুলো পরে যুক্ত হয়েছে। এখানে যে চারটি বা পাঁচটি মাজহাবের কথা এসেছে এবং পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৮ থেকে ১০টি মাজহাবের বিস্তার রয়েছে। এবং এদের যে অনুসারী আছে,তারা যদি এটাকে নিজেদের ওপর ফরয করে নেন,তিনি কিন্তু পথভ্রষ্ট এবং তিনি ভুল করছেন। তিনি যদি এটা মনে করেন যে,এটা ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য,তাঁরা আমাদের কাজকে সহজ করার জন্য আমাদের এই নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সেটা মনে করে যদি তিনি তা গ্রহণ করেন,তাহলে তিনি পথভ্রষ্ট হবেন না এবং সেটি গ্রহণ করতেও কোনো আপত্তি নেই।
আপনি আপনার প্রশ্নও পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলেঃ [email protected]
আমাদের ওয়েবসাইটঃ
www.dawatulhaqbd.com
আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ
https://www.facebook.com/dawatulhaqmultimedia

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৪৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত ৪৮ ঘণ্টায় সামু'র সর্বোচ্চ পঠিত ২ ব্লগার হচ্ছেন - অপলক এবং সৈয়দ কুতুব

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১৭

গতকাল রাত ৮টা ১২ মিনিট থেকে এখন রাত ৯ টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত সামুতে পোস্ট এসেছে মোট ১৬টি, আমার এই পোস্টটি ছাড়া।
এই পোস্টগুলোতে উত্তর ও প্রতিউত্তর মিলিয়ে কমেন্টেসের সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×