somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল বা কর্ম কয়েক প্রকার। সংকলনেঃ ড.মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১. আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু কর্ম আছে স্বভাবগত ও অভ্যাসগত। যেমন, উঠা, বসা, খাওয়া-দাওয়া, পায়খানা, প্রশ্রাব, ঘুমানো ইত্যাদি। এ ধরনের কর্মগুলো রাসূলের জন্য ও তার উম্মতের বৈধ কর্ম হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোন প্রকার বিরোধ বা দ্বিমত নাই। এ ধরনের কর্মসমূহের ক্ষেত্রে রাসূলের অনুকরণ করাটা শরিয়তের বিধি-বিধানের আওতাভুক্ত নয়। এটি সুন্নাহ, নফল, ওয়াজিব বা ফরজের আওতায় পড়ে না। বরং শুধু এ কথাই প্রমাণ করে, এ ধরনের কর্ম করা বৈধ। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও দাঁড়াল, বা নির্ধারিত কোন বাহনে আরোহণ করল বা কখনও কোথাও বসল, কোন নির্ধারিত রঙের জামা পরিধান করল এবং নির্ধারিত কোন খাবার গ্রহণ করল ইত্যাদি তার অনুকরণে সে রঙের জামা পরিধান করতে হবে বা নির্ধারিত জামা পরিধান করতে হবে এবং নির্ধারিত স্থানে বসতে এমন কোন নির্দেশনা শরিয়তে নেই; এবং যে ব্যক্তি এ ধরনের ক্ষেত্রে রাসূলের অনুকরণ করল না তাকে এ কথা বলা যাবে না যে লোকটি রাসূলের সূন্নাত তরককারি। তবে যদি এ সব স্বভাবগত বা অভ্যাসগত কর্ম বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ হতে আলাদা কোন নির্দেশনা পাওয়া যায় যাতে অনুসরণের বিষয়টি উদ্দেশ্য করা হয়ে থাকে তবে তার বিধান অবশ্যই ভিন্ন হবে। যেমন, বাম হাত দিয়ে না খেয়ে ডান হাত দিয়ে খাওয়া। এটি সুন্নাহ। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ডান দিয়ে খেতেন এবং ডান হাত দিয়ে খেতে নির্দেশ দেন। অন্যথায় এ ব্যাপারে রাসূলের অনুকরণ সুন্নাহর আওতায় পড়ে না। কারণ,ওমর রাদিআল্লাহু আনহু হতে প্রমাণিত:

﴿أنه كان في سفر فرأى قوما ينتابون مكانا يصلون فيه فقال: ما هذا؟ قالوا: هذا مكان صلى فيه رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقال: ومكان صلى فيه رسول الله - صلى الله عليه وسلم -؟ أتريدون أن تتخذوا آثار أنبيائكم مساجد؟ إنما هلك من كان قبلكم بهذا ، من أدركته الصلاة فيه فليصل وإلا فليمض﴾

অর্থ, “ওমর রাদিআল্লাহু আনহু একটি সফরে দেখতে পেলেন একদল লোক একটি স্থানে পালাক্রমে সালাত আদায় করতে ছিল, তা দেখে ওমর রাদিআল্লাহু আনহু তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, এটি কি দেখছি? তারা বলল, এ জায়গাটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেন। তখন তিনি বললেন, সত্যি কি এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছেন? আর তোমরা কি চাও নবীদের নিশানা গুলোকে সেজদার স্থান বানাতে? তোমাদের পূর্বের উম্মতরা এ জন্য ধ্বংস হয়েছে-তারা তাদের নবীদের নিশানাগুলোকে সেজদা করার স্থান বানাত। তোমাদের কারো চলার পথে যদি সালাতের সময় হয়ে যায় সে এখানে সালাত আদায় করবে, অন্যথায় সে চলে যাবে।” অর্থাৎ, এখানে সালাত আদায় করার আলাদা কোন বৈশিষ্ট্য নেই যে এখানে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে একত্র হতে হবে। তবে এ সালাত আদায় করা যে অবৈধ তাও বলা যাবে না। কারণ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের জন্য পুরো যমীনকে মসজিদ ও পবিত্র বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং, সব জায়গায় সালাত আদায় করা যাবে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে সালাত আদায় করেছেন সেখানে সালাত আদায় করতে হবে এমন কোন কিছু করা হতে বিরত থাকতে হবে।

২. আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এমন কিছু কর্ম রয়েছে যা রাসূলের সাথে খাস বা রাসূলের বৈশিষ্ট্য বলে প্রমাণিত ঐ কর্মের ক্ষেত্রে রাসূলের অনুসরণ করবে না। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য চারের অধিক বিবাহ করা জায়েয ছিল। কিন্তু উম্মতের কারো জন্য তা বৈধ নয়।

৩. যদি রাসূলের কর্মের উপর আমাদের জন্য তার মৌখিক বর্ণনা জানা যায়, তাহলে এ ধরনের কর্মের উপর অবশ্যই শরীয়তের বিধান বর্তায় এবং উম্মতের জন্য তার অনুকরণ করা সুন্নাহ হিসেবে সাব্যস্ত হবে। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের কর্ম সম্পাদন করার পর বলেন,
﴿صلوا كما رأيتموني أصلي﴾
“তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে সালাত আদায় কর”। হজ্জ্বের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

﴿ لتأخذوا عني مناسككم فإني لا أدري لعلي لا أحج بعد حجتي﴾ هذه رواه مسلم
“তোমরা আমার থেকে তোমাদের হজ্জ্বের কর্মসমূহ শিখে নাও। কারণ, হতে পারে আমি আমার এ হজ্জ্বের পর আর হজ্জ্ব নাও করতে পারি।”


৪. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এমন কতগুলো কর্ম আছে যেগুলো স্বভাবজাতও নয় এবং তার জন্য খাসও নয় এবং কুরআনের ব্যাখ্যাও নয়, এ ধরনের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই ব্যাখ্যার প্রয়োজন এবং এ ধরনের কর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা রয়েছে।
(ক) যদি এমন কোন আলামত পাওয়া যায় যা দ্বারা প্রমাণিত হয়, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর বা তার জন্য বিধান-ওয়াজিব, মোস্তাহাব বা মু-বাহ ইত্যাদি-। তাহলে এ ক্ষেত্রে উম্মতের বিষয় ও তার বিষয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর যদি কোন কিছু পালন করা ওয়াজিব হয়ে থাকে তা উম্মতের জন্যও পালন করা ওয়াজিব অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য যদি কোন কিছু মোস্তাহাব হয়ে থাকে, তা উম্মতের জন্যও পালন করা মোস্তাহাব; এ ক্ষেত্রে উম্মত ও রাসূলুল্লাহ উভয়েই সমান; কোন প্রকার তারতম্য করার সুযোগ নাই। কারণ, শরিয়তের মূলনীতি হল, যারা শরিয়তের বিধানের মুকাল্লাফ তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকতে পারে না।

(খ) যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন আমল বা কর্ম করে থাকেন, আর তিনি যে কর্মটি করেছেন, তা কি ওয়াজিব হিসেবে, নাকি মোস্তাহাব বা বৈধ হিসেবে করেছেন, তার উপর কোন প্রমাণ না থাকে, তাহলে এ সব কর্মের ক্ষেত্রে বিধান হল, হয়তো এ সব কর্মগুলোর অনুকরণ করা দ্বারা একজন ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধন্য হবে। যেমন, সালাতে রাফাইয়াদাইন করা। কেউ যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুকরণে পালন করে, সাওয়াব পাবে, এবং এ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুকরণ করা মোস্তাহাব বলে গণ্য হবে।
অথবা তাতে সাওয়াবের কোন উদ্দেশ্য না থাকে, যেমন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় চুল লম্বা করা, পাগড়ী পরিধান করা ও পাগড়ীর দুই মাথাকে দুই কাদের উপর ছেড়ে দেয়া ইত্যাদি। এতে আলেমদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।


এক- কেউ কেউ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ ধরনের কর্মগুলো মোস্তাহাব। তাদের যুক্তি হল, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। সুতরাং, তার কর্মই হল শরিয়ত।
দুই- আর কেউ কেউ বলেন, এ ধরনের কর্ম মুবাহ এবং এগুলো তার স্বভাবজাত কর্ম; ইবাদত নয়। সুতরাং, যদি কোন ব্যক্তি তার মাথার চুল কাটে বা ছাটে এবং যদি কেউ পাগড়ী পরিধান না করে, তাকে এ কথা বলা যাবে না, লোকটি সূন্নাত তরককারি।
(চলবে...)

আমাদের ফেইসবুক পেইজঃ
www.facebook.com/dawatulhaqmultimedia

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:৪২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত ৪৮ ঘণ্টায় সামু'র সর্বোচ্চ পঠিত ২ ব্লগার হচ্ছেন - অপলক এবং সৈয়দ কুতুব

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১৭

গতকাল রাত ৮টা ১২ মিনিট থেকে এখন রাত ৯ টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত সামুতে পোস্ট এসেছে মোট ১৬টি, আমার এই পোস্টটি ছাড়া।
এই পোস্টগুলোতে উত্তর ও প্রতিউত্তর মিলিয়ে কমেন্টেসের সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×