somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুন্নাহর যথাযথ সম্মান ও তার উপর আমল করা ওয়াজিব হওয়া বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম, তাবে‘ঈন ও তাদের পরবর্তীদের বর্ণনা

২৫ শে মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রবন্ধটি লিখেছেনঃ ড.মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (তথা তাঁর কথা, কাজ, অনুমোদন, শারীরিক ও গুণগত বৈশিষ্ট্য) এর যথাযথ সম্মান ও তার উপর আমল করা অপরিহার্যতা হওয়ার বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম, তাবে‘ঈন ও তাদের পরবর্তীদের কিছু কথা এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।
১. বুখারি ও মুসলিমে আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর আরবের কিছু লোক মুরতাদ হল। আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সাহসিকতার সাথে বললেন, আল্লাহর কসম যে ব্যক্তি সালাত ও যাকাতের মাঝে পার্থক্য করবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। তার কথা শোনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আপনি তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমাকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তথা ‘আল্লাহ ব্যতীত কোনো হক ইলাহ নেই’ একথার ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যখন সে তা বলবে, তখন তার জান মাল নিরাপদ হয়ে যাবে, তবে এ কালেমার হক বা দাবী অনুযায়ী হলে সেটা ভিন্ন কথা”।
তার কথা শোনে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘যাকাত কি আল্লাহর হক নয়? আল্লাহর কসম যদি একটি রশিও যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যাকাত হিসেবে তারা প্রদান করত তা দিতে যদি কেউ অস্বীকার করে, আমি তা দিতে অস্বীকার করার কারণে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।’ তারপর ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি বুঝতে পারলাম, আল্লাহ তা‘আলা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর অন্তরকে যুদ্ধের জন্য খুলে দিয়েছেন এবং এটিই হক। সাহাবীগণ তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলেন, তারা মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং তাদের পুনরায় ইসলামের দিকে ফিরিয়ে আনেন। আর যারা মুরতাদ হওয়ার পর সেটার উপর অবিচল থেকেছিল তাদের তারা হত্যা করেছিলেন। এ ঘটনার মধ্যে সুন্নাহর যথাযথ সম্মান ও তার উপর আমল করা জরুরি হওয়ার সু-স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

২. একজন দাদী আবু বকরের নিকট এসে সে তার উত্তরাধিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তোমার জন্য আল্লাহর কিতাবে কোনো অংশ বর্ণিত হয় নি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার জন্য কোনো অংশ বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। তবে আমি মানুষকে জিজ্ঞাসা করব, তারপর তিনি সাহাবীগণকে জিজ্ঞেস করলেন, তখন একজন সাহাবী সাক্ষ্য দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদিকে ‘সুদুস’ তথা ছয় ভাগের একভাগ দিয়েছেন। তারপর তিনি দাদির জন্য ‘সুদুস’ বা ছয় ভাগের একভাগের ফায়সালা প্রদান করেন।

৩. অনুরূপভাবে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তার আমেল তথা কর্মকর্তাদের মানুষের মাঝে বিচার ফায়সালার ক্ষেত্রে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে তারা যেন প্রথমে আল্লাহর কিতাব থেকে ফয়সালা গ্রহণ করে, যদি আল্লাহর কিতাবে ফায়সালা খুঁজে না পায়, তারা যেন আল্লাহর রাসূলের সূন্নাহ্‌ দ্বারা ফায়সালা করে।

৪. তদ্রূপ যখন গর্ভের সন্তানকে নষ্ট তথা কারো আঘাতজনিত কারণে গর্ভপাত হয়ে মৃত অবস্থায় প্রসব হয়ে গেলে সে সন্তানের রক্তপণের বিধান সম্পর্কে ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট কোনো সমাধান না থাকাতে তিনি সাহাবীগণকে জিজ্ঞেস করেন। তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও মুগীরা ইবনে শু‘বা রাদিয়াল্লাহু আনহু দাড়িয়ে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে একটি দাস বা দাসী স্বাধীন করে দেওয়ার ফায়সালা করেছিলেন। এটা শোনার উপর ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটা অনুসারে ফয়সালা দিয়েছিলেন।

৫. স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর ঘরে মহিলার ইদ্দত পালন করার বিষয় ‘উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর অজানা থাকাতে ফায়সালা দেয়া তার নিকট কঠিন মনে হল, তখন ফুরাই‘আহ্ বিনতে মালেক ইবন সিনান রাদিয়াল্লাহু আনহা, যিনি আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর বোন ছিলেন, তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে স্বামীর ঘরে ইদ্দত পালন করার নির্দেশ দেন। তারপর ‘উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু মহিলার কথা অনুযায়ী বিষয়টির ফায়সালা করেন।

৬. অনুরূপভাবে ‘উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কর্মকর্তা ওলিদ ইবন ‘উকবার উপর মদ পান করার অপরাধের হদ কায়েম করার ফায়সালা সুন্নাহ্‌ দ্বারাই করেছিলেন।

৭. আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট যখন এ সংবাদ পৌঁছল যে, ‘উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু হজ্জে তামাত্তু করতে নিষেধ করেন তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হজ ও ওমরা উভয়েরই এহরাম বাঁধেন এবং বলেন, ‘আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহকে আমি কারো অভিমতের কারণে ছাড়বো না।’

৮. এক লোক আবু বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমার কথা দ্বারা আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাসের নিকট তামাত্তু হজের উপর ইফরাদ হজের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার দলীল পেশ করলে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, ‘আমি আশংকা করছি তোমাদের উপর আসমান থেকে পাথরের বৃষ্টির মত বিপর্যয় নেমে আসার। আমি তোমাদেরকে বলি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আর তোমরা বল আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন।’ যদি সুন্নাহর বিপরীতে আবু বকর ও ওমরের কথা দিয়ে দলীল পেশ করলে, তার উপর শাস্তির আশংকা করা হয়, তাহলে যারা আবু বকর ও ওমর থেকে নীচের লোক তাদের কথায় অথবা নিজের মতামত ও ইজতিহাদের ভিত্তিতে আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূন্নাহকে যারা ছেড়ে দেন তাদের পরিণতি কি হতে পারে?!

৯. যখন কিছু লোক আব্দুল্লাহ ইবন ওমরের নিকট সুন্নাহ্‌ বিষয়ে বিতর্ক করল, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের বললেন, আমরা কী ওমরের আনুগত্য করার জন্য নির্দেশিত নাকি রাসূলের সুন্নার আনুগত্য করার প্রতি নির্দেশিত?

১০. ইমরান ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন হাদিস আলোচনা করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, আপনি আমাদেরকে আল্লাহর কিতাব থেকে বর্ণনা করুন। এ কথা শোনে তিনি খুব ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বলেন, সুন্নাহ্‌ আল্লাহর কিতাবেরই ব্যাখ্যা। যদি সুন্নাহ না হত, তাহলে আমরা জোহরের সালাত চার রাকাত, মাগরিবের সালাত তিন রাকাত, ফজরের সালাত দুই রাকাত জানতে পারতাম না। যাকাতের বিধান বিস্তারিত জানতে পারতাম না এবং শরিয়তের অন্যান্য বিষয়গুলো জানার সুযোগ হত না।

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত ৪৮ ঘণ্টায় সামু'র সর্বোচ্চ পঠিত ২ ব্লগার হচ্ছেন - অপলক এবং সৈয়দ কুতুব

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১৭

গতকাল রাত ৮টা ১২ মিনিট থেকে এখন রাত ৯ টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত সামুতে পোস্ট এসেছে মোট ১৬টি, আমার এই পোস্টটি ছাড়া।
এই পোস্টগুলোতে উত্তর ও প্রতিউত্তর মিলিয়ে কমেন্টেসের সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×