somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু বিষয়ে কথা বললে চেতনাবাজদের এত জ্বলে কেন?

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১. জাতীয় সঙ্গীত বদলানোর ব্যপারে -

জাতীয় সঙ্গীত স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য লেখা হয়নি। যখন দুই বাংলা এক ছিল তখনকার সময়ে লেখা। ভালো কথা। আমরাও তখন এক ছিলাম। বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ, সর্বোপরি সব বাংলাদেশীই শুরুতে বাংলাদেশকে পূর্ব বাংলা বলতে অভ্যস্ত ছিল। যে কারণে হয়তো বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এই গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার অনেক পরে যদি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আমরা কেউ নিজেদের দেশের জন্য একটা জাতীয় সঙ্গীত দাবি করি সেটাতে কেন চেতনাবাজদের এত কষ্ট হয়? এটা কি বঙ্গবন্ধুর আমলে লেখা যে আমরা বদলানোর কথা বলে বঙ্গবন্ধুকে অপমান করছি? এটা বদলাতে বললে কি মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতাবিরোধী কোন ভাব চলে আসে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধীতাকারি চেতনাবাজদের গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেই কি সমালোচনা করা যাবে না?

২. জাতীয় পতাকার উপর নামাজ পড়া -

মানলাম জাতীয় পতাকা ব্যবহারের কিছু নিয়ম নীতি আছে। কিন্তু পতাকার উপর নামাজ পড়লে সেটা অবমাননা হয় না। বরং আরো মর্যাদা বেড়ে যায়। অন্য দেশে জাতীয় পতাকার ডিজাইন দিয়ে কি কি তৈরি হয় তা আর বললাম না। আমার আপত্তি হল, এটাকে কেন চেতনাবাজরা ইস্যু করবে? কই তারা তো অন্য এক চেতনাবাজের কুকুরের গায়ে জাতীয় পতাকা নিয়ে ছবি ভাইরাল করেনি? তাহলে মুসলিম প্রধান দেশে পতাকার উপর নামাজ পড়লে কেন এত জ্বলবে?

৩. মঙ্গল শোভাযাত্রার ব্যপারে -

আমাদেরও একটা আলাদা বর্ষপুঞ্জী আছে। যার টাকা আছে সে শখ করে পান্তা ইলিশ খাচ্ছে। যার সামর্থ্য কম সে মেলায় গিয়ে এটা সেটা কিনছে। ব্যবসায়ীরা হালখাতা করছে। কোন আপত্তি নাই। ঠিক আছে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে একটা শোভাযাত্রা করা হচ্ছে। ওখানে দেশীয় ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। কিন্তু ওখানে মূর্তি কেন, মুখোশ কেন? পেঁচা কেন? এগুলোর সাথে বৈশাখের কি সম্পর্ক? এটাও তো বঙ্গবন্ধুর আমল থেকে শুরু না যে এটার বিপক্ষে বললে বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা হবে? পেঁচা, মুখোশ বাদ দিতে বললে কি মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতাবিরোধী কোন ভাব চলে আসে? মুসলিম হিসেবে কোন দুঃখে শোভাযাত্রাকে 'মঙ্গল' নাম দিব? ভালোই হল, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ আর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনকে এসব চেতনাবাজদের দেখে যেতে হয়নি।

অফ টপিক - নারায়ণগঞ্জের স্কুল শিক্ষককে কানে ধরে উঠাবসা করানোর পর যেভাবে চেতনাবাজদে হাহাকার দেখলাম সোশাল মিডিয়াতে সেভাবে তো দেখলাম না চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষককে মারধরের পর। ঐ শিক্ষক বেশী টাকা ফি নিয়েছিল বলেই কি কাজটা(মারধর) ঠিক হয়েছিল? নাকি সংখ্যালঘুদের জন্য মায়াকান্না করলে জাতে উঠা যায়?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:১৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু টুথপেস্ট নয়—মোড়ক ছেঁড়ার মুহূর্তেই ছড়াচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

লিখেছেন মুনতাসির, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০

টুথপেস্ট নিয়ে আলোচনা সবে শুরু হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা আরও অনেক বড়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি সিন্থেটিক পণ্যই এখন মাইক্রো বা ন্যানোপ্লাস্টিক তৈরি করতে পারে—এমনকি একটি চিপসের প্যাকেট ছেঁড়ার মুহূর্তেও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×