বিশ্বকাপ উন্মাদনা আমার ভাল লাগে। ৪ বছর আগে কিছু কাল চামড়া, কিছু সাদা চামড়ার সাথে আমরা
ক'জন বাদামী চামড়া মিলে গিয়েছিলাম চাঁদপুরের মতলবে একটা গবেষণার কাজে। স্পীডবোটে আই।সি।ডি।ডি।আর,বি'র গবেষণাঞ্চলে প্রবেশ করতে প্রায় ১ ঘন্টা লেগে যায়। চারিদিকে পানি আর পানি, মাঝে মাঝে কিছু দ্বীপের মতো জায়গায় ঘর-বাড়ি এবং সেগুলোর ওপর বাঁশের মাথায় আর্জেন্টিনার পতাকা বেশিরভাগ, কিছু ব্রাজিল, ইটালি, জার্মানীর!
আমাদের বাসার দরজায় প্রতিদিন যে জিনিসটা চোখে পড়ে সেটা হচ্ছে ৪ বছর আগে প্রথম আলো'র সাথে দেয়া আর্জেন্টিনা দলের স্টিকার - দরজার গায়ে দিব্যি সেঁটে আছে!
৪ বছর আগে আমি অফিসের চতুর্থ তলায় বসতাম - এডভোকেসি ইউনিটে, বারান্দার পাশের রুমে। বিশ্বকাপের শুরুতেই আর্জেন্টিনার পতাকা ঝুলিয়ে অফিসে দখলে নিয়েছিলাম। এখন পঞ্চম তলায় বসি, এইসব করার অবস্থা আর নাই। তবে নতুনরা যাতে স্ট্র্যাটেজিক্যালি দখল নিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করেছি।
এবছর একটা চমৎকার জিনিস দেখলাম। পতাকা যারা বিক্রি করছেন তাদের বাঁশের একদম ওপরে প্রথমে বাংলাদেশের পতাকা, এমনটা আগে কখনও দেখিনি, খুব ভাল লেগেছে। মানুষের সচেতনতা বেড়েছে, নিজের পতাকার সম্মানটা দিয়ে তারপর অন্যেরটা।
এর উল্টোটাও আছে, কিছু বিচ্ছিন্ন খারাপ লাগা। যেমন কিছু গাড়িতে দেখলাম জাতীয় পতাকা লাগানোর নিয়ম মেনে বনেটের মধ্যে ব্রাজিলের পতাকা গোঁজা, এটা একদমই মেনে নেয়া যায় না। তেমনি দেখলাম আর্জেন্টিনার পতাকা প্রায় কোনটিই ঠিক নেই। প্রায় সবগুলোতে মেসি এবং বিশ্বকাপের ছবি এঁকে দেয়া যা আসলে ওদের পতাকা নয়!
শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া ২জনই ব্রাজিলের সমর্থক। আসলে দলের সমর্থক দেখলেও জেনারেশন বোঝা যায়। যেমন ব্রাজিলের সমর্থকরা সব প্রাচীন আমলের, অধিকাংশই শরীরে, কিছু মনেও। আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা আমাদের মতো মধ্যবয়েসি। আর ইদানীংকার ছেলেপেলেরা জার্মানী, স্পেইন, পর্তুগাল! কিছু আঁতেল আছে ইংল্যান্ড, রাশিয়া কিংবা নাইজেরিয়ার সমর্থক। আর অতি আধুনিকেরা সমর্থন করছে হন্ডুরাসকে!
বিশ্বকাপে আরেকটা আলোচনা আমার খুব ভাল লাগছে সেটা হচ্ছে ব্রাজিল তাদের জার্সি যে বাংলাদেশের বানানো তার একটা খোলামেলা স্বীকৃতি দিচ্ছে। এ থেকে কি বোঝা যায়? এ থেকে বোঝা যায় ব্রাজিল জার্সিতে চ্যাম্পিয়ন আর আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে
শামীম আহমেদ
৪ জুন ২০১৪
নিকেতন, ঢাকা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



