somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবাই ফিরুক ঢাকায়; সবার ঢাকায়! বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা :)

০৩ রা আগস্ট, ২০১৪ রাত ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত এক সপ্তাহ বলতে গেলে স্বপ্নের মত গেল। মধ্যবিত্ত বাঙ্গালীর জীবনে চমক কম। বছরে দু'বার ঈদের অপেক্ষায় কাটে দু'মাস। সে ঈদ চোখের পলকে আসে আর পলক ফেলতে না ফেলতেই আবার চলে যায়। মধ্যবিত্ত বাঙালীর ঈদের আগের ক'দিন, ঈদের দিন আর পরের ক'দিন আনন্দের আতিশয্যে কেটে যায়। তারপর হঠাৎ এক সন্ধ্যায় টের পায় ঈদের ছুটি শেষ, আগামীকাল আবার অফিস, আবার জীবনের ঘানি টানার কাব্য!

ঈদের আগে আগে যারা উদ্বাস্তু বাঙালী অর্থাৎ যারা ঈদ করে ঢাকায়, তারা খুশিতে আটখানা হয়ে যায়। শহরের অধিকাংশ মানুষ বাড়ি, গাড়ি, দরজায় তালা ঝুলিয়ে গ্রামের পথ ধরে। গ্রামের সবুজ, কাঁদা, পুকুরের মাছ, দোকানের মিছরি, পাখির ডাক, ঝি ঝি পোকার শরীর ঠিকরে বেরুনো আলোয় তাদের ঈদ কাটে ঈদের মতো।

আর যেসব মানুষ উদ্বাস্তু, যারা ঈদে আর গ্রামে যায় না; যাদের আর গ্রামে যাবার পথ নেই; তারা ঢাকা শহর পাহারা দেয় এই একসপ্তাহ। তাদের নিজেদের স্বান্তনা দেবার জায়গা তৈরি করতে হয় – তারা বলে আহ! আমাদের ঢাকা এমন থাকলেই তো ভাল; যারা গ্রামে গেছে তারা গ্রামেই থাকুক – আর ফিরবার দরকার নেই! আমরা গাড়ি নিয়ে, বাড়ি নিয়ে, রিকশায় চড়ে, পায়ে হেঁটে ঢাকার রাস্তায় জারুল গাছ দেখি। চড়ুই পাখি দেখি। ট্রাফিক পুলিশ দেখি। আমাদের বেশ লাগে।

আমরা ঢাকার উদ্বাস্তু মানুষ সব – নিজেদের যাযাবর পরিচয়ে অস্থির হয়ে ঢাকার দখল নিতে চাই সেসব মানুষের কাছে যাদের কাছে ঢাকাও আছে, যাদের কাছে গ্রামও আছে। যারা কংক্রিটের পথ মাড়িয়ে সবুজ ঘাসের ডগায় শিশিরের স্পর্শ নিতে পারে; যারা ভোরের আলো ফোটবার আগে পুকুরের পানিতে গোড়ালি ডুবিয়ে মাটির সোঁদা গন্ধে জীবনের স্বাদ নিতে পারে।

ঢাকা যখন ফাঁকা হয়ে যায় একসপ্তাহের জন্য তখন আমারও বেশ লাগে, তবে তখন এই শহরের নাম আর ঢাকা থাকে না। এই শহর তখন অন্য কোন শহর হয়ে যায়। সে শহরে আমিও নিজের অজান্তে নিজেকে খুঁজে ফিরি, বহু আগেই নিজের হারিয়ে যাওয়া পরিচয়টাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকবার চেষ্টা করি।

এই নিরালায় একা একা আমি আমার ঢাকা শহরটাকে খুঁজে বেড়াই। যে রিকশাওয়ালা আমাকে নিকেতন থেকে গুলশান ১ এর ডিসিসি মার্কেটে নিয়ে যায় ২০টাকায় – কিন্তু ৩০টাকা পেয়ে তার মুখে ঘাম মুছিয়ে হাসির আলাপন শুনি নিভৃতে; যে ছেলেটি আমার পাশের গাড়িতে আমার মতই সন্ধ্যাবেলা ১০ মিনিটের পথ দু’ঘন্টায়ও পাড়ি দিতে না পেরে হতাশ বসে থাকে; যে মেয়েটি অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে সিএনজি না পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে লক্ষ্মী হয়ে – যার সাথে চোখের পাতায় অজানা কথা হয়ে যায় কোন কথা না বলেই – আমি সারা সপ্তাহ তাদের অপেক্ষাতে থাকি।

এই ঢাকা শহর কখনও আমার; আমার নিজের শহর মনে হয় না ওই রিকশাওয়ালা চাচা, ওই গাড়ি চালানো ছেলেটি কিংবা ওই যে মায়া মায়া মেয়েটিকে ছাড়া। ওদের সবাইকে নিয়েই তো আমার ঢাকা। ওরা যখন ফিরে আসে এই মৃতপ্রায় শহরের অলিতে-গলিতে-ধুলিতে; আমার নিজেকে কম উদ্বাস্তু মনে হয়; কম কম যাযাবর মনে হয়।

ঢাকা শহর ছেড়ে যাওয়া সেইসব; সব সব ভাগ্যবান মানুষকে আবার ঢাকায় স্বাগত জানাই। ঢাকা আবার বিষময় হবে আমাদের সবার পদচারণায়; কিন্তু মানুষ হিসেবে তাদের ছাড়া আমাদের এই ঢাকায় আমরা বাঁচব কি করে?

স্বাগতম ঢাকাবাসী; সুস্বাগতম বন্ধুগণ। তোমাদের পদচারণায় ঢাকা হোক ঢাকা! বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা তোমাদের সবাইকে।

শামীম আহমেদ
৩ আগস্ট ২০১৪
নিকেতন, ঢাকা।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×