
হ্যাঁ , ভারতীয় হিসেবে গর্ব হয় যখন দেখি চীন মিশর গ্রীস সকল সভ্যতায় জ্যোতিষী'র কথাবার্তা থাকলেও ভারতীয় সভ্যতায় তার ছায়া মাত্র নেই । গ্রীক সভ্যতা বাদ দিলে বাকি সব সভ্যতায় এই জ্যোতিষচর্চা রাজ রাজরাদের বাড়ির বিষয় ছিল । সব রাজায় একজন বা একের অধিক রাজজ্যোতিষী রাখতেন ।
কখন যুদ্ধে যেতে পারলে জয় হবে , কখন সিংহাসনে রাজপুত্রের অভিষেক হবে,কখন রাজকন্যাকে বিবাহ দিলে ভাল হয় -এসব কথা রাজজ্যোতিষীদের গোনা-গোনি করে বলতে হয় । সাধারণ মানুষ 'রাজাউজির'দের নিয়ে মাথা ঘামাতেন না । গ্রিক সভ্যতায় এসে দেখলাম জ্যোতীষ বিষয়টা আটপৌরে চরিত্র অর্জন করছে । সাদামাটা মানুষও জ্যোতীষ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে । ভাল মন্দ জানতে মানুষ জ্যোতীষের কাছে যাচ্ছে । নিশ্চয় সেইযুগে কোন কারসাজি ছিল । রাজার বাড়ির আচার বাইরে ছড়াতে পারলে ব্যবসা বাড়ে অনেক । বুদ্ধি খাটিয়ে একদল মানুষকে এই কাজ করতে হয়েছে । যেখানে মানুষের বসতি সেখানে জ্যোতীষির আলোচনা করতে হয়েছে । বিজ্ঞানের ইতিহাস পড়লে আমরা দেখি , গ্রিস দেশের পণ্ডিতরা একটা বিষয়ে খুব অহংকারি ছিলেন ।কি বিষয় ? গ্রীক সভ্যতার আগে নাকি কোন বিজ্ঞান ছিল না । কি ছিল তবে ? ওঁরা বলত, জ্ঞান ছিল , বিজ্ঞান ছিলনা । আমরাও জানি কথা দুটির আলাদা মানে । জ্ঞান বলতে কত কি হতে পারে কিন্তু বিজ্ঞান বলতে নিয়ম কানন মেনে কথা বলতে হয় ।
ভারতে কি ভাবে জ্যোতিষবিদ্যার আগমন
গ্রিক সভ্যতার শেষ দিকে ছিল ব্যাবিলন সভ্যতা । সেই সভ্যতারই একজন রাজা ছিলেন আলেকজাণ্ডার । আলেকজাণ্ডার খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ সালের কাছাকাছি আমাদের দেশ আক্রমণ করেন । তখনই ওদের দেশ থেকে এই দেশে জ্যোতিষবিদ্যা'র আমদানি ঘটে । গ্রীক সভ্যতার আমলে জ্যোতিষচর্চা ঘরে ঘরে ঢুকে পড়ে । কোষ্ঠি তৈরি হয় ।
বাইরে থেকে কোন কিছু এলেই তা বেঁচে থাকে না । তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হয় । প্রথম যে নামকরা মানুষ জ্যোতিষ বাঁচিয়ে রাখতে উদ্যোগী হয় তিনি ছিলেন বরাহমিহির । ছয় শতকের চরিত্র বরাহমিহির । পণ্ডিত মানুষ । নানা বিষয়ে তাঁর বই রয়েছে । গণিত জ্যোতিষ ভূগোল এমন কি প্রাণিবিদ্যাতেও তাঁর উঁচ্চমানের বই ছিল । তার কথা বলতে গেলে দুটো বই-এর কথা বলতে হয় । পঞ্চসিদ্ধান্তি আর বৃহৎসংহিতা । প্রথম বইটিতে হিন্দু জ্যোতিষবিদ্যার নানা ভাবনা চিন্তা রয়েছে ।
আমাদের দেশের বিশিষ্ট জ্যোতিষবিজ্ঞানী জয়ন্তু বিষ্ণু নারলিকার ১৬ই জুন ২০০১ তারিখের 'ইকোনমিক অ্যাণ্ড পলিটিকাল উইকালি' পত্রিকায় ।পরিষ্কার লিখেছেন , বৈদিক জ্যোতীষবিদ্যা 'বৈদিক' নয় , বিজ্ঞান'ও নয় । আমাদের বেদের কোথাও এই বিষয়ে কথা নেই । বরং বলা যায় আর্যভট্ট প্রথম (পঞ্চম শতাব্দ) থেকে শুরু করে ভাস্কর দ্বিতীয় ( দ্বাদশ শতাব্দ ) পর্যন্ত আমাদের জ্যোতিবিজ্ঞান চর্চা ঈর্ষণীয় মৌলিকত্বের স্বাক্ষর রেখেছে ।।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




