somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুই বাংলাকে এককরার সরযন্ত্র , জঙ্গী জাল এনআই-এর হাতে

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



খাগড়াগড়: জঙ্গিদের লক্ষ্য ছিল ভারত, বাংলাদেশে আত্মঘাতী হামলা চালানো, জানান এনআই


কলকাতা: আত্মঘাতী হামলার জন্য একেবারে প্রস্তুত ছিল খাগড়াগড়ের জঙ্গিরা। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে এমনই হাড় হিম করা তথ্য পেশ করেছে খোদ এনআইএ!

সোমবার আদালতে ৬৬ হাজার ৭৫৩ পাতার নথি পেশ করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেখানে দাবি করা হয়েছে, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত উল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি-র রিক্রুটের যাবতীয় প্রক্রিয়া চলত পশ্চিমবঙ্গে। প্রথমে নতুনদের মগজধোলাই, তারপর জেহাদি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করা হত। পাশাপাশি চলত অস্ত্র প্রশিক্ষণ, আইইডি তৈরির প্রশিক্ষণ।

এপ্রসঙ্গে অনেকেরই মনে পড়ে গিয়েছে বর্ধমানের কাটোয়ার শিমুলিয়া ও মুর্শিদাবাদের লালগোলার মুকিমবনগর মাদ্রাসার কথা। সেখানেও এধরনের প্রশিক্ষণ চলত বলেই এনআইএ সূত্রে দাবি। ভারতে নাশকতার পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশেও ক্ষমতা কায়েমের ছক কষেছিল জঙ্গিরা। চার্জশিটে বলা হয়েছে, বর্ধমান বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলাকে যুক্ত করে বৃহত্তর বাংলাদেশ তৈরির পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের।

দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে এনআইএ-র দাবি, প্রস্তাবিত এই বৃহত্তর বাংলাদেশে শরিয়ত আইন প্রতিষ্ঠা করা ছিল জেএমবি-র মূল লক্ষ্য। তার জন্য যে কোনও পথে হাঁটতে প্রস্তুত ছিল তারা। এই কারণে এনআইএ-র চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। বস্তুত,
ভারতের মাটি ব্যবহার করে এশিয়ার কোনও দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হলে এই ধারা প্রয়োগ করা হয়।

শুধু তাই নয়, খাগড়গড়ে বসে জেএমবি জঙ্গিদের সঙ্গে বাংলাদেশে বসে থাকা সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের টেলিফোনিক কথপোকথনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণও এনআইএ-র সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে দেওয়া রয়েছে। চার্জশিট অনুযায়ী, বাংলাদেশে বসে থাকা জেএমবি-র শীর্ষ নেতারা ফোনে যোগাযোগ রাখত পশ্চিমবঙ্গে বসে থাকা জঙ্গিদের সঙ্গে। সেখান থেকে প্রতি মুহূর্তে নির্দেশ যেত পার্শ্ববর্তী অসম এবং ঝাড়খণ্ডেও! বাংলাদেশে বসেই জেএমবি-র শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পর্ক রেখে চলত পাক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে।



সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্দেশ আবার ফোন মারফত পাঠিয়ে দেওয়া হত পশ্চিমবঙ্গে। এইভাবেই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস নির্বিঘ্নে, অবাধে নিজেদের কাজকর্ম চালাত জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ। এনআইএ সূত্রে খবর, জেএমবি তাদের প্রশিক্ষিত আট থেকে দশজনকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠিয়েছিল। কয়েকজন মাঝেমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করত। আর গুটিকয়েক জেএমবি নেতা বাংলাদেশে বসেই যাবতীয় ছক কষত।

এনআইএ-এর তথ্য অনুযায়ী এদের মধ্যেই অন্যতম ছিল সইদূর রহমান! জেএমবি-র অন্যতম শীর্ষনেতা।
যার হাত ধরেই ২০০৮ সালে বাংলাদেশের আরও পাঁচটি কট্টর মৌলবাদী সংগঠন জামাতের ছাতার তলায় চলে আসে। আর শক্তিশালী হয়ে ওঠে জেএমবি।

এনআইএ-র দাবি, এর মধ্যে বেশ কয়েকজন জঙ্গি একাধিকবার বাংলাদেশ ঘুরেও এসেছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, খাগড়াগড়কাণ্ডে ধৃত নঈম ওরফে নুরুল হক মণ্ডল বাংলাদেশের যাত্রাবাদী ও মীরপুর এলাকায় বেশ কিছুদিন ছিল। সেখানে সে তলহা ওরফে বশিরের কাছে বোমা বানানো শেখে।

নঈমের কাছ থেকে পাওয়া নথি ঘেঁটে জানা গিয়েছে, সে ওসামা-বিন-লাদেন, মোল্লা ওমর, বাংলা ভাই এবং লস্কর ই তৈবার ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হত। চার্জশিটে এনআইএ-র দাবি, নঈমকে এসব ভিডিও দেখাত সুমন নামে এক ব্যক্তি। বাংলাদেশি নাগরিক সুমন মাঝে মাঝে মুর্শিদাবাদের প্রশিক্ষণ শিবিরে এসে জেহাদি ভাষণ দিত। শেখাত অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির মারপ্যাঁচও।

এনআইএ-র বক্তব্য, সেই নঈমও বাংলাদেশে গিয়ে এই সইদূর রহমানের কাছেও প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। শুধু তাই নয়, সঈদূর রহমানের ছেলে তলহা ওরফে বশির বাবার মতোই জেএমবি-র অন্যতম শীর্ষ নেতা।
জেএমবি-র জঙ্গি কার্যকলাপের অন্যতম মধ্যমণি! টেলিফোনে আড়ি পেতে এদের প্রত্যেকের কথপোকথন, ছক, নির্দেশ– এসবের হদিশ পেয়েছে এনআইএ।

এমনকি, হাতকাটা নাসিরুল্লা, বুরহান শেখ, ইউসুফের মতো খাগড়াগড়কাণ্ডে পলাতকরাও যে এখনও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে রয়েছে এবং গ্রেফতারি এড়াতে প্রতি মুহূর্তে ডেরা বদলাচ্ছে, তার সন্ধানও পেয়েছে এনআইএ। খোঁজ চলছে তাদেরও।

সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। যদি না খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ ঘটত, তাহলে কী হত! ভেবে শিউরে উঠছেন অনেকে ৷

সূত্র- ABP আনন্দ নিউজ চ্যানেল


http://abpananda.abplive.in/state/khagragarh-blast-case-terrorists-were-ready-for-suicide-missions-claims-nia-160446
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:২১
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধু মাসে বিয়া

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ অথচ রাতের বেলা দেখেছিলাম অনেক তারার মেলা আকাশে। একটুখানি অরোরার আলো ও ঝিলিক দিয়েছিল। রাত ভোরের দিকে অনেকটা সময় আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম। জরুরী কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×