

আমাদের সুপ্রীম কোর্টে বিচারপতিদের সম্পর্কে একটা কথা প্রচলিত আছে আর তাহল, " একজন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী নাকি ও এস ডি ( OSD) হলেই সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি হয়"। আমি একবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন জনৈক সিনিয়র আইনজীবীকে এইরকম কেন বলছেন স্যার? তিনি বলেছিলেন, "বারে যতদিন থাকে অনেক আইনজীবীরই টার্গেট থাকে কবে বিচারপতি হবে, আবার যারাই বিচারপতি হচ্ছেন তাদের প্রায় সবারই টার্গেট থাকে যে কবে থেকে আবার ওকালতি শুরু করবেন অর্থাৎ বিচারপতির পদটা একজন এডভোকেটের জন্য একটা সাময়িক দায়িত্ব মাত্র"। ইদানীং অবসর প্রাপ্ত বিচারপতিরাই কেন জানি সংবাদ শিরোনাম হচ্ছেন নিয়মিত, তারা এখন নিয়মিত উপরেরটাও খাচ্ছেন এবার তলারটাও কুড়াচ্ছেন, বিচারপতি হিসাবেও কামিয়েছেন, এবার কামাচ্ছেন আইনজীবী হিসাবেও। এই শ্রেনীর আইনজীবীরাই সমাজের একমাত্র আইনজীবী যাদের নামের আগে লেখা থাকে বিচারপতি এবং ভোগ করেন বিচারপতি হিসাবে সরকারী বিশেষ সুবিধাও। অনেকে আবার অবসরে যাবার পরে ন্যুনতম নৈতিকতাও মেনে চলছেন না। সম্প্রতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর আচরন সবার নজরে এসেছে এবং তিনি ধিক্কৃত হচ্ছেন পুরা দেশ জুড়ে, কথায় আছে সব মাছই গু খায় আর দোষ হয় শুধু টাকি মাছের। আপনারা কি খবর রাখেন এরপরে যারা আবসরে গিয়েছেন তারা কি করছেন? বা যারা সচরাচর অবসরে যাচ্ছেন তারা কি করছেন? রাখেন না। সদ্য আবসরে যাওয়া বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বি এন পির ব্যানারে সুপ্রীম কোর্ট বারে সেক্রেটারী ছিলেন, বিচারপতি হয়েছেন আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে, অবসরে গিয়েই বিচারপতি হিসাবে সরকারী সুবিধাভোগ করা অবস্থাতেই এখন ওকালতি করছেন মানবতা বিরোধী অপরাধে দন্ডপ্রাপ্ত আসামী মীর কাসেম আলীর পক্ষে। ভাবতে অবাক লাগে এরাই এক সময় বিচারপতি ছিল, এরাই মানুষের বিচার করেছেন!!!!!
আপনারা হয়তো বলবেন আমাদের দেশের আইনেই তো একজন হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে আপীল বিভাগে যে কারো পক্ষে ওকালতি করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তাইতো ওকালতি করছে বা ওকালতি করা এখন তার অধিকার এতে তো কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়!!!!। আমি বলব ওকালতি করবেন ঠিক আছে, তাই বলে এমন একজন ব্যাক্তির পক্ষে ওকালতি করবেন যিনি বাংলাদেশের অস্তিত্বই অস্বীকার করেছিলেন? আইন মতে আপনি যে কারো পক্ষেই ওকালতি করতে পারেন এইখানে প্রশ্নটি আইনের নয় প্রশ্নটি নৈতিকতার। আইন আর নৈতিকতা এক জিনিষ নয়, আইনসিদ্ব মানেই যে নৈতিকতা সিদ্ব হবে তা নয়। নিজের জন্মদাতা বাপের মুখে একটা কষে চড মারুন, দেখুন আইনগত ফলাফল কি হল, আপনি ৩২৩ ধারার অপরাধ করেছেন যা জানিনযোগ্য। এই বিষয়টি নৈতিকতার মানদন্ডে বিচার করুন কি ফল দাঁড়ায়!!!!!
এই বিষয়ে আজকের প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি আপনাদের জন্য হুবহু তুলে ধরলামঃ
epaper.prothom-alo.com
EPAPER.PROTHOM-ALO.COM
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




