somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৯১১ (নাইন-ওয়ান-ওয়ান; নাইন ইলেভেন নহে ;)) প্রসঙ্গেঃ

০২ রা নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দৃশ্য-১ (সময়ঃ রাত ১১টা, স্থানঃ উত্তরার কোন এক বাসা।)

৯১১ঃ হ্যালো, ৯১১ বলছি।

ভীত এক শিশুর কান্নাভেজা কন্ঠঃ আমার আম্মু কী মরে গ্যাছে? আমার আম্মু তো ঘুম থেকে উঠছে না, আমাকে ডিনারও খেতে বলছে না।

৯১১ঃ নাম কী তোমার বাবু?

কান্নাভেজা কন্ঠঃ আমার নাম তুলি।

৯১১ঃ তুলি তো খুব সুন্দর একটা নাম। তোমার আম্মু এখন কোথায় তুলি?

তুলিঃ আম্মুতো বিছানায় শুয়ে আছে। আমার অনেক ক্ষুধা পেয়েছে।

৯১১ঃ তুলি তুমি কোন ক্লাশে পড়?

তুলিঃ আমি প্লে-গ্রুপে পড়ি। আমার আম্মু ঘুম থেকে উঠছে না কেন? আম্মু কি মরে গ্যাছে?

৯১১ঃ তুলি, তুমি তো অনেক স্মার্ট আর সাহসী একটা মেয়ে। আমি দেখছি তোমার আম্মুর কি হয়েছে। তার আগে তুমি বল তুমি কি আম্মুকে ডেকেছ?

তুলিঃ হ্যাঁ, কিন্তু আম্মুতো ওঠে না।

৯১১ঃ তোমার আব্বু কোথায়, তুলি?

তুলিঃ আব্বুতো বিদেশে থাকে।

৯১১ঃ তোমার ভাইয়া আপুরা কোথায়?

তুলিঃ আমার তো কোন ভাইয়া আপু নেই।

৯১১ঃ তোমাদের কাজের বুয়া কোথায়?

তুলিঃ বুয়া তো বিকেলে চলে গেছে।

৯১১ঃ তোমাদের বাসায় আর কেউই নেই?

তুলিঃ না।

৯১১ঃ তুলি, তুমি কি পাশের বাসার আন্টিকে ডাকতে পারবে?

তুলিঃ না, আমিতো দরজা খুলতে পারি না।

৯১১ঃ হুম, আরেকটু বড় হলেই তুমি দরজা খুলতে পারবে, তাই না?

তুলিঃ হুম।

৯১১ঃ তোমার আম্মুর কি বুকে ব্যথা হয়েছিল?

তুলিঃ হ্যাঁ, কিন্তু আম্মু তো ওষুধ খেয়েছিল।

৯১১ঃ তোমাদের বাসা কোথায়, তুলি?

তুলিঃ উত্তরায়।

৯১১ঃ কত নম্বর বাসা?

তুলিঃ আমি জানিনা, ভুলে গেসি।

৯১১ঃ নো প্রবলেম তুলি, তুমি আমার সাথে লাইনেই থাক, দেখি আমরা তোমার বাসাটা খুঁজে বের করব। আমরা এখন রফিক আঙ্কেলকে কল করব, রফিক আঙ্কেল আমাদের বলে দেবেন আম্মু ঘুমাবার আগে লাস্ট কার সাথে কথা বলেছেন।

রফিকঃ হ্যালো কাস্টমার কেয়ার বলছি, বলুন আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি।

৯১১ঃ এই নাম্বারে লাস্ট কলটি সম্পর্কে জানান, প্লীজ।

রফিকঃ লাস্ট কল সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায়, কল এসেছিল দুবাই থেকে।

৯১১ঃ ঐ নাম্বারে একটু মিলান, প্লীজ।

রফিকঃ জ্বী, লাইনে থাকুন, প্লীজ।

দুবাই থেকেঃ হ্যালো।

৯১১ঃ হ্যালো, ৯১১ থেকে বলছি, দয়া করে শান্ত থাকুন। আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব, দয়া করে সঠিক উত্তর দিন।

দুবাই থেকেঃ জ্বী, বলুন।

৯১১ঃ আপনি তুলির কে হন?

দুবাই থেকেঃ আমি তুলির বাবা, কেন ওর কী হয়েছে?

৯১১ঃ দয়া করে শান্ত থাকুন, তুলি ভাল আছে, সে এখনি আপনার সাথে কথা বলবে। তার আগে আপনার বাসার ঠিকানাটা বলুন, আপনার স্ত্রী সম্ভবত গুরুতর অসুস্থ, আপনার বাসায় এম্বুলেন্স পাঠাতে হবে। আপনার বাসার ঠিকানাটা প্লীজ।

তুলির বাবাঃ .।.।.।.।.।

৯১১ঃ এবার আপনি তুলির সাথে কথা বলবেন। দ্রুত কথা শেষ করবেন এবং আপনার বাড়ীওয়ালাকে ফোন করে বলবেন যেন বাসার মাস্টার কী সহ রেডি থাকেন, কম্যুনিটি পুলিশ এবং নিকটস্থ হাসপাতালে ইতোমধ্যে আমি আপনার বাসার ঠিকানা পাঠানো হয়েছে। এবার তুলির সাথে কথা বলুন।



দৃশ্য-২ (সময় রাত সাড়ে বারটা, স্থানঃ বান্দরবনের কোন এক স্থানে)

৯১১ঃ হ্যালো, ৯১১ বলছি।

আহত নারী কন্ঠঃ ভাই আমাদের বাঁচান, প্লীজ।

৯১১ঃ আপনার পরিচয় বলুন এবং কী সমস্যা খুলে বলুন।

আহত নারী কন্ঠঃ ভাই আমি নীরা। আমার স্বামী আসিফ .।.।.। ব্যাংকে চাকরী করেন। আমরা নীলগিরি যাচ্ছিলাম। রাস্তায় আমাদের কার নষ্ট হয়েছিল তাই বান্দরবন ঢুকতে রাত হয়ে গেল। কিছুক্ষন আগে একটা ট্রাক আমাদের গাড়ীটাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এখন আমাদের গাড়ীটা রাস্তার পাশে একটা ঢালে ঝুলে আছে। আমার হাসবেন্ডের মাথা ফেটে রক্ত পড়ছে, জ্ঞান নেই। প্লীজ হেল্প।

৯১১ঃ ওকে নীরা, প্রথমেই আপনাকে যে কাজটা করতে হবে, তা হল, আপনি ফোনের লাইনটি কাটবেন না, কারন আপনার লোকেশনটা জানার জন্য এটা জরুরী। এবার দেখুন আপনার সাইডের দরজাটা খুলতে পারেন কিনা।

নীরাঃ না, দরজা খুলতে পারছি না।

৯১১ঃ ঠিক আছে। তাহলে এবার দেখুন গাড়ির ভেতরের কম্পার্টমেন্টের লাইটটা জ্বালাতে পারেন কিনা।

নীরাঃ জ্বি, জ্বলেছে।

৯১১ঃ গুড। এবার ওড়না অথবা অন্য কিছু দিয়ে আপনার হাসবেন্ডের ব্লিডিংটা বন্ধের চেষ্টা করুন। এরপর পানি ছিটিয়ে তার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করুন। ফোনটা লাউড স্পীকারে দিয়ে ড্যাস বোর্ডে রাখুন, আমি আপনার সাথে লাইনেই থাকব। এই ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে আপনার হাসবেন্ডের ফোন দিয়ে কল করবেন।

নীরাঃ আচ্ছা।

(কিছুক্ষন পর)

৯১১ঃ নীরা আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন?

নীরাঃ জ্বী।

৯১১ঃ আপনার হাসবেন্ডের কি জ্ঞান ফিরেছে?

নীরাঃ জ্বি, কিন্তু ও তো নড়তেই পারছে না।

৯১১ঃ আপনার লোকেশনটা আমরা খুঁজে পেয়েছি এবং নিকটস্থ থানা থেকে এম্বুলেন্স সহ একটি টিম ইতোমধ্যে আপনার লোকেশনের দিকে রওনা দিয়েছে।আপনার গাড়ির হেডলাইট অন রাখুন আর দুই মিনিট পর পর দশ সেকেন্ড করে হর্ন বাজাতে থাকুন। আপনার হাসবেন্ডের সাথে অনবরত কথা বলতে থাকুন, আর তাকে জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করুন।


উপরের ঘটনা দুইটাই কাল্পনিক। তবে ৯১১ এর ব্যবহার সম্পর্কে আমরা সবাই কিন্তু কমবেশি জানি। হলিউডি সিনেমার কল্যানে আমরা সবাই জানি যে, ঐসব দেশে লোকে বিপদে পড়লেই ৯১১ কল দিয়ে থাকেন। ১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম 'জাতীয় জরুরী নম্বর' হিসেবে ৯৯৯ চালু হয়। পরে মার্কিনিরা ৯১১ চালু করে। সেখানে কোথাও আগুন লাগলে, ক্রাইম হলে, এক্সিডেন্ট হলে বা কেঊ গুরুতর অসুস্থ হলে এই নাম্বারে কল দেয়।

এইরকম একটা জরুরী নাম্বার আমাদের জন্যও থাকা উচিত, সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু প্রশ্ন হল ৯১১ এর মত ইমারজেন্সি নম্বর চালু করা আমাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব কিনা।

সম্ভব।

ইমারজেন্সি কল রেস্পন্স করার জন্য যে টিম দরকার সেটা মোবাইল ফোন কোম্পানিরাই পুলিশের সাথে কোওর্ডিনেট করে চালু করে নিতে পারে। প্রত্যেক কোম্পানি দিনে একজন করে অপারেটর ধার দিলেই শুধু ঢাকার জন্য এখনি এইটা চালু করা যায়।

এবার দরকার ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ আর হাসপাতালে কোওর্ডিনেট করার জন্য ন্যুনতম তিনজন সমন্বায়ক যারা যার যার অফিসে বসেই প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে দিতে পারেন।

লাগবে ফালতু কল করে ডিস্টার্বারদের ফিক্স করার জন্য কিছু লোক। আর মিডিয়া তো আছেই সচেতনতা সৃস্টির জন্য আর বিভিন্ন সংস্থার রেসপন্স তদারকির পরোক্ষ মনিটর হিসেবে।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃস্টি আকর্ষন করছি।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:৫৪
২৩টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×