somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আদমচরিত ০২৮ বাই মুখফোড় (সচলায়তন)

১০ ই নভেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আদমচরিত ০২৮ বাই মুখফোড় (সচলায়তন)

ঈশ্বর তাকিয়ায় হেলান দিয়ে পান চিবাইতেছিলেন। আজরিল তাহার সম্মুখে দাঁড়াইয়া আনমনে ক্ষুরধার ভোজালিতে শান দিতেছে।

ঈশ্বর গলা খাঁকরাইয়া চিলুমচিতে পিক ফেলিয়া বলিলেন, "ভোজালিতে শান দিতেছ কেন?"

আজরিল শীতল কণ্ঠে কহিল, "কখন কী কাটিয়া আনিতে হয়, বলা তো যায় না। তাই ধার দিয়া রাখি।"

ঈশ্বর খুব একটা উচ্চবাচ্য করিলেন না। জুলিয়াস সিজারের ঘটনার পর হইতেই তিনি বুঝিয়াছেন, বিশ্বস্ত কেউ যদি নিকটে ধারালো অস্ত্র লইয়া অবস্থান করে, তাহাকে না চটানোই ভালো। এই কারণেই তিনি নাপিত জিলেটাইলের সহিত কখনও দুর্ব্যবহার করেন না।

ঈশ্বর গলা খাঁকরাইয়া কহিলেন, "ধার দিবার চর্চাটি মন্দ নহে। তবে দেখিও, সুদ আদায়ের ব্যবসায় অবলম্বন করিও না। অযথা আমার বদনাম হইবে। ইউনুসের ন্যায় কোনো কারবারও ফাঁদিয়া বসিও না যেন।"

আজরিল নিরুত্তর থাকিয়া ভোজালিতে শান দিতে লাগিল।

ঈশ্বর পুনরায় এক খিলি পান মুখে পুরিয়া চুনদানি হইতে এক আঙুল চুন তুলিয়া মুখে পুরিয়া কহিলেন, "তোমাকে ডাকিয়াছি বিশেষ একটি কাজে।"

আজরিল কহিল, "বলুন খোদাবন্দ, কাহার প্রাণ হরণ করিয়া আপনার কদমপদ্মে পেশ করিব?"

ঈশ্বর বিরক্ত স্বরে কহিলেন, "আ মোলো যা, ক বলিলেই ক্যাটাস্ট্রফি বুঝিয়া ফেল! প্রাণ হরণ করিতে হইবে কেন বাপু? ভোজালিখানা কোষবদ্ধ রাখিয়া গালে দুই চারটা চড় মারিতে পারিবে?"

আজরিল কহিল, "আলবাৎ হুজুর! কাহার গাল?"

ঈশ্বর দক্ষিণে-বামে চুপিচুপি চাহিয়া গলা নিচু করিয়া কহিলেন, "আদমের গাল!"

আজরিল দন্তে দন্তে প্রবল ঘর্ষণ করিয়া কহিল, "এখনই গিয়া পাজিটার গাল থাবড়াইয়া লোহিত করিতেছি জাঁহাপন!"

ঈশ্বর কহিলেন, "আরে শোনো না বাপু! বিস্তারিত শ্রবণ কর আগে। শুধু আদমকে চটকনা মারিলেই চলিবে না। তাহার বেয়াড়া ভার্যাটিকেও কেশের গ্রন্থি ধরিয়া ঘরছাড়া করিতে হইবে। পারিবে স্ত্রীলোকের দেহে হস্তক্ষেপ করিতে?"

আজরিল কহিল, "আমার কোনো জেণ্ডার বায়াস নাই সদাপ্রভু। অ্যাকশনে নামিয়া স্ত্রী-পুরুষ বৈষম্য করিব না। আদমের গণ্ডদেশে গণিয়া গণিয়া এক হালি থাপ্পড় কষাইব, আর তাহার মুখরা স্ত্রীটির কেশ মুষ্টিতে লইয়া ঘর হইতে বহিষ্কার করিব।"

ঈশ্বর কহিলেন, "উঁহু, ঘর হইতে উভয়কেই নিষ্ক্রান্ত করিতে হইবে। সম্ভব হইলে উহাদের ধরিয়া পৃথিবীতে ছাড়িয়া দিয়া আইস।"

আজরিল মুখ গোমড়া করিয়া কহিল, "পৃথিবীতে যাইতে হইবে?"

ঈশ্বর কহিলেন, "হাঁ। ঘুরিয়া আইস। টাকাপয়সা লাগিলে খাজাঞ্চিকে বলিও, কিংবা ফিরিয়া আসিয়া বিল করিয়া টিএডিএ তুলিয়া লইও।"

আজরিল কহিল, "জো হুকুম জাঁহাপন! পৃথিবীতে কারো প্রাণ হরণ করিতে হইবে?"

ঈশ্বর বিড়বিড় করিয়া কহিলেন, "এমন ট্রিগারহ্যাপি অনুচর লইয়া কী বাটে পড়িলাম!" তারপর গলা খাঁকরাইয়া কহিলেন, "আচ্ছা, মোটাতাজা ডাইনোসর যাতায়াতের পথে পড়িলে প্রাণখানি হরণ করিয়া আনিও। আমার কাছে আনিয়া দিবার দরকার নাই, ডানোর কৌটায় ভরিয়া স্টোররুমে রাখিয়া দিলেই চলিবে। এখন কাজে যাও।"

আজরিল কুর্ণিশ করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল।

ঈশ্বর কহিলেন, "তা একবারও কি মনে প্রশ্ন জাগিল না, আদম আর ঈভকে কেন বিতাড়ন করিতেছি?"

আজরিল কহিল, "কেন হুজুর?"

ঈশ্বরের চোখ চকচক করিয়া উঠিল। তিনি ফিসফিস করিয়া কহিলেন, "কয়লা! কয়লা পাওয়া গিয়াছে উহাদের বাসগৃহের নিচে!"

আজরিল বলিল, "আচ্ছা।"

ঈশ্বর বিরক্ত হইলেন। নির্বোধ কতগুলি দূত নির্মাণ করিয়াছেন তিনি। কিছু কূট আলাপ করিবার যোগ্যতা নাই। রশ্মির অপচয় আর কাহাকে বলে?

তিনি গলা খাঁকরাইয়া কহিলেন, "আচ্ছা, তুমি কাজে লাগিয়া পড়ো বরং। আর দেখ গেস্ট রুমে এশিয়া এনার্জি হইতে কে যেন আসিয়া অপেক্ষা করিতেছে, তাহাকে আমার কক্ষে পাঠাইয়া দিও।"
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পিঠে কোদাল, হাতে মোবাইল

লিখেছেন মুনতাসির, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:২৪



শীতের সকাল।
কুয়াশার চাদরে মোড়ানো মাঠ,
পিঠে কোদাল, হাতে সময়—
মাটি আর মানুষের প্রতিদিনের নিরব সংলাপ।

বগুড়া, ২০২৬। ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন কিরকুট, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

*** জামাত শিবির এর যারা আছেন তারা দয়ে করে প্রবেশ করবেন না ***


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল একটি দলের ভাগ্যের প্রশ্ন নয় এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক কাঠামো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২২



পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে। দুর্ধর্ষ মাফিয়া একটি রাষ্ট্রের মালিক হতে যাচ্ছে। দেশ সীমানা ভূখণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে, পৃথিবীর জন্যই অত্যন্ত বিপদজনক। অবশ্য নির্মম বাস্তবতা হলো, আগাগোড়া অসভ্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হইলো

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এখন আমাদের আর কোন টেনশন রইলো না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত দেশ আবার গণতন্ত্রের ট্রেনে যাত্রা শুরু করলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঙিন ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গ বিশ্লেষন ( Anatomy of Pomegranate )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১


সবুজ পাতার আড়াল ভেঙে
ডালিম ঝুলে লাজুক রঙে
বাইরে রক্তিম খোলস কঠিন
ভিতরে দারুন জীবন রঙিন।
শত দানার গোপন ভুবন
একসাথে বাঁধা মধুর টান
হৃদয়ের হাজার স্বপ্ন যেন
লুকিয়ে থাকা রক্তিম গান।

উপরে প্রচ্ছদ চিত্রে রেনেসাঁ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×