somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাউকে হেয় প্রতিপন্ন বা অপদস্থ করতে গালাগাল হিসেবে নিরীহ পশুর নাম ব্যবহার।

১২ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যদি ধরেই নিই সৃষ্টিকর্তা তার অপার মহিমায় সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অন্যান্য প্রাণীর মতো তিনি মানুষের দেহের উপরিভাগে তথা ঘাড়ে মাথা দিয়েছেন, আর সৃষ্টির শ্রেষ্টত্ব বজায় রাখতে বা প্রমাণ করতে সেই মাথায় বেশ কিছু পরিমান মগজ (ব্রেইন) দিয়েছেন যার দ্বারা মানুষ চিন্তা-ভাবনা করতে পারে, পারে মননশীল বুদ্ধি বৃত্তির চর্চা করতে যা মানুষকে বুদ্ধিমান প্রানীর স্বীকৃতি পাইয়ে দিয়েছে।

মানুষ যে বুদ্ধিমান প্রাণী তা এরুপে বুঝা যায়- মানুষ তাদের মস্তিষ্কের চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কোনটা ভাল আর কোনটা খারাপ তা নির্ধারণ করতে পারে, নির্ধরিত সে নীতির উপর ভিত্তি করে একটা ন্যয়-বিচার ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে পারে, পারে সমাজের সবার জন্য মঙ্গলময় হয় এমন সব রীতি নীতি ও আইন কানুন প্রণয়ন করতে। এবং একই সাথে পারে আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদকে তাদের ব্যবহার উপযোগী করতে ও জীবনকে সহজ,সরল এবং সুখময় করে তুলতে। এ সব ক্ষমতা মানুষদের আছে বলেই সে না 'মানুষ' বুদ্ধিমান।

এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, সাধারন সব বিষয়গুলো জানা বা বোঝার জন্য মানুষের সাধারন বুদ্ধি আর বিবেক-ই কি যথেষ্ট নয়! আর তা যদি নাই বুঝতে পারবে তাহলে সৃষ্টিকর্তা মানুষকে শুধুশুধু কেন বুদ্ধিমান প্রানী বানাতে গেলেন? অপরদিকে এটাও নজরে আসে, আমরা আমাদের বুদ্ধির ক্ষমতাকে কিভাবে কাজে লাগাই?
খেয়াল করলে দেখা যাবে যে, অামরা কোন বিষয়ে একটু জেনেই এমন তাত্ত্বিকতা জাহির করতে মরিয়া হই যেন আমাদের জন্যই ঐ “অল্প বিদ্যা ভয়ংকর” তত্ত্বটার প্রবর্তন! (আমি নিজেও হয়তো এর বাইরে নই!)

আমরা জানি যে ব্লেড খুব ধারালো এবং ব্লেড দিয়ে খুব সহজে কচু গাছের মতো ছোট-খাট তৃণ বা গাছ কাটা যায়। কিন্তু কেউ যদি ব্লেড দিয়ে কচু গাছ কেটে ভাবে যে সেই একই ব্লেড দিয়ে সেগুন-মেহগুনির মতো বনজ গাছ কাটা সম্ভব তাহলে তার ভাবনার ভিত্তিটা কতটা মজবুত(!) সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

মানুষের মননশীল বুদ্ধিবৃত্তির চর্চার বাস্তব উদাহরন আমরা আশে পাশে খেয়াল করলে দেখবো যে অনেকেই একে অপরকে হেয় প্রতিপন্ন করতে অপদস্থ করতে গালাগাল হিসেবে গরু(বলদ), ছাগল(ছাগু), গাধা(গর্ধব) কুকুর(কুত্তা) ইত্যাদি বিভিন্ন পশুর নাম ব্যবহার করে বা পশুর সাথে তুলনা করে তাদের কথিত প্রগতিশীল বুদ্ধি বৃত্তির চর্চা থাকেন। কিন্তু আসলেই কাউকে এইরকম পশুর সাথে তুলনা করাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত সেটা আজও আমার দুর্বল মস্তিষ্ক অনুধাবন করতে পারলো না?

এবারে উপরে উল্লেখিত এসমস্ত পশু সম্পর্কে একটু বলে নিই।
>গরু: এ উপমহাদেশে প্রচলিত আছে যে, গাভী আমাদিগকে দূগ্ধদান করে, সুতরাং সে মাতৃ-সমতুল্য এবং বলদ কৃষিকাজের সহায়ক হয়ে আমাদিগকে প্রতিপালন করে, তাই সে পিতৃ-সমতুল্য, কাজেই গরু একটি আপাদমস্তক উপকারী বোবা প্রাণী এবং আমার নিকট সন্মানের ও পাত্র।
>ছাগল : ছাগী-ও আমাদিগকে দূগ্ধদান করে, এবং ছাগ মাংস প্রায় সকল মাংসাশী মানুষের প্রিয় খাদ্য। ছাগল সম্পর্কে একটি গ্রাম্য প্রবাদ প্রচলিত আছে আর সেটা খুব সম্ভবতো এমন “মুরগে উনা, হাঁসে দুনা আর ছাগলে পিন্দায় কানে সোনা” ছাগলের মতো একটি বোবা প্রাণী উপকারী বিধায় বাংলাদেশে বিগত চার-দলীয় জোট সরকার ‘ছাগল পালন কর্মসূচী’ হাতে নিয়েছিল।
>গাধা: গাধা সম্পর্কে সকলেরই জানা। গাধা হচ্ছে পরিশ্রমের প্রতীক। এবং আমাদের দেশে দুই প্রধান দলের দলীয় প্রতীক যেমন নৌকা ও ধানের শীষ, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের প্রতীক গাধা ও হাতি। এগুলো শতাব্দী প্রাচীন।
>কুকুর: কুকুর একটি বিশ্বস্থ প্রাণী। কুকুরের প্রভুভক্তির প্রসংশা আমি সেই শৈশব থেকেই শুনে আসছি। এবং প্রত্যক্ষভাবে সেটা পেয়েছি-ও। কুকুর সম্পর্কে আর বেশী কিছু বলার প্রয়োজনবোধ করছি না।

মূল প্রসঙ্গে ফেরার আগে আরেকটা দু’পেয়ে প্রাণী সম্পর্কে দু’য়েকটা কথা না বললেই নয়। এই দু’পেয়ে প্রানীর সংখ্যা পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে সাতশো কোটি। এবার দেখি দু’পেয়ে এই সাড়ে সাতশো কোটি (দ্বিপদী)প্রাণীর একাংশের কিছু বৈশিষ্ট্য।
এরা একে অন্যের সাথে মারামারি করে, একে অন্যের আবাস ধ্বংস করে, একে অন্যের খাবার কেড়ে নেয়, বিশ্বাসঘাতকতা করে। এরা এদের দৈহিক গড়নের অন্যটিকে গলা কেটে জবাই করে,হাত-পা কেটে ফেলে, রগ কেটে দেয়, চোখ উপড়ে ফেলে। এরা একে অন্যকে বন্দী করে বিক্রিও করে। হিংস্রতায় যেকোন পশু এদের কাছে হার মানবে। . . . . . . . .কিন্তু নির্মম হলেও সত্য যে, এদেরকে আবার মানুষ নামে ডাকা হয়!

যে কথা বলতে চেয়েছি, আমার কাছে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে মানুষের তুলনায় গরু, ছাগল, গাধা, কুকুর ইত্যাদি এই প্রানীগুলো এত্তো উপকারী কিন্তু আমরা কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করতে, অপদস্থ করতে গালাগাল হিসেবে এই বোবা প্রানীগুলোর উপমা দিয়ে পক্ষান্তরে কিন্তু নিজের অজ্ঞতার পরিচয়ই দিয়ে থাকি।

অনেককে আবার প্রায়ই বলতে শুনি ‘পাগলে কি-না বলে আর ছাগলে কি-না খায়’ । আচ্ছা কোথাও কি কোন পাগলকে বলতে শুনা গেছে যে- বিরোধী দল পিলার নাড়াচাড়া করে ১০ তলা বিল্ডিং ধ্বসিয়ে দিয়েছে কিংবা কোন পাগল কি বলেছে যে গৃহস্থালিতে রান্নার জন্য গ্যাসের চুলার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে আর কোথায় কি কোন ছাগলের খাবারের জন্য কোন প্রকার জটিলতা তৈরী হয়েছে?
যদি এরকমটা না হয়ে থাকে তবে ‘পাগলে কি-না বলে আর ছাগলে কি-না খায়’ এটা বলে কাউকে হেয় করার মানসিকতা আমার কাছে স্বাভাবিক বোধ হয় না। জটিলতা যদি তৈরী করে থাকে তবে কতিপয় মানুষেরাই তৈরী করে।

যাইহোক, কেন যেন আজকাল মানুষ শব্দটাকে গালাগাল মনে হয়! কেউ যখন আমাকে মানুষ বলে সম্বোধন করে তখন মনে হয় আমাকে একটা আক্রমনাত্নক গালি দিলো বুঝি!

তাইতো এখন নিরুপায় হয়ে প্রার্থনা করি
ও মালিক, মানুষ যেন করো না আমায় মেঘ করে দাও….



[বি:দ্র: এই অতি-প্রগতিশীলদের রাজধানীতে আমি এক নগন্য প্রাণ, কথিত অতি-প্রগতিশীল হতে পারলাম না বলে ক্ষমাপ্রার্থী]
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জয়তু এ আই: পৃথিবী বদলে যাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:২৭


An Outstanding Scientific Odyssey:

আমরা যারা ল্যাবে কাজ করি, তারা খুব ভাল ভাবেই জানি একটা জীবন রক্ষাকারী ঔষুধ বা মানবজাতির জন্য উপকারী মেথড/ম্যাটেরিয়াল ডেভেলপ করতে কত বছর ধরে রিসার্চ, সাধনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথারের ফসল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:০৪


সেই গ্রামের আইল পাথারে
বেড়ে ওঠা আমি এক মানুষ;
কখনো হাল চাষ করা হয়নি
তবু মাটির গন্ধে যে ফাল্গুন!
স্মৃতির আকুতি কন্ঠের সুর
সবুজ শ্যামলা মাটির ঘান-
বয়ে যায় এক বিস্মৃতির নগর;
যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উর্দু ভাষা ও তার উৎপত্তি

লিখেছেন কিরকুট, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:১৩

উর্দু ভাষার আসলে নিজস্ব কোনো স্বতন্ত্র লিপি নেই। এটি মূলত আরবি ফারসি উৎসের লিপি ব্যবহার করে লেখা হয়। ঐতিহাসিকভাবে উর্দুর বিকাশ ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনামলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। মুঘল সাম্রাজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে বারবার এমন অভিযোগ উঠেছে যে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য দুর্বল বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×