somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি অতিকল্পনা গল্প........... with Himu and Sohel Rana একদিন হাজত

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হিমু এবং সোহেল রানার একদিন হাজত বাস... :):):):):)

সোহেল রানা হাজতে । তার মেজাজা প্রচুর খারাপ । তাকে সেলের ভিতর নিয়ে যাওয়া হলো । সেলের ভিতর এককোণায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বসে ছিলো হিমু ।এই অবস্থায় একজনকে দেখে রানার মেজাজা খারাপ গেলো আরও খারাপ হয়ে ।


(বি:দ্র: সোহেল রানা কিন্তু হিমুকে চেনে না)

রানা : ওই বান্দরের বাচ্চা ঠিকমতো বস ।
হিমু : (তড়িঘড়ি করে উঠে বসে) জি? ওহ্ হো সরি । আপনি আসলেন অবশেষে ? ;);););)

রানা : আমি আসলাম অবশেষে মানে ? ওই কি কইবার চাস ?
হিমু : না, আসলে গত কয়েতদিন ধরেই থানার লোকেরা বলাবলি করছিলো যে, আপনি আসবেন ২-১ দিনের মধ্যেই । আপনার নাকি বাঙ্গি ফাটবে ।
রানা : (ক্ষেপে গিয়ে) ওই বেয়াদপ । সামলে কথা বলবি । তুই চিনস আমারে?X(X(X(X(

হিমু : না গুলু ভাই । কে আপনি ?
রানা : গুলু ভাই মানে ? :|:|:|

হিমু : একে তো আপনার নাম জানি না, তার উপর আপনার স্বাস্থ্য ও মাশআল্লাহ ।দুয়ে মিলে আপনারে নাম দিলাম গুলু ।
রানা : দেখ বেশি তামশা করার চেষ্টা করবি না । মেজাজ যদি Out of Control হয়ে যায়, তাইলে কিন্তু এই থানা পুরা গুড়ায়া দিমু । এহানে আইসি কেন জানস তুই ?

হিমু : না গুলু ভাই ।
রানা : আইবার আগে একখান ৯ তালা বিল্ডিং গুড়ায়া দিসি । যদি ও নিজের হাতে না । মিডিয়ার ভূমিকা ও আছে । কিন্তু ভালোই লাগতেসে রে…….তোর নাম টা যেন কি ?

হিমু : জ্বী, হিমালয় । ভাই ৯ তালা বিল্ডিং যদি ভাইঙ্গা পড়ে তাহলে তো অনেক লোক মারা গেসে ?
রানা : ১ম কথা, তোর নাম চেইঞ্জ করা হলো । আমার সাথে এখানে থাকতে হলে তোর নাম এখন থেকে হিম জ্ং । মুরাদ ভাই টারে অনেক মিস করতেসি তো ।
২য় কথা, যেহেতু বিল্ডিং এ গার্মেন্টস ছিলো কয়েকটা , অনেক লোক তো মারা যাবেই রে পাগল । আর মাঝে মাঝে এসবের দরকার আছে । আমার সাভার টা দেখ । মানুষের কোন নজরই পড়ে না । ঢাকার পাশে থাইকাও কেমন জানি আলাদা আলাদা । এইটাও একটা গোপন ক্ষোভ ছিলো আমার । আজকে দেখ পুরা দেশের নজর আমগো দিকে । আর প্রকৃতির ইচ্ছায় মাঝে মাঝে এইসব কাহিনি ঘটে সবকিছু একটু ব্যালেন্সড হওয়ার জন্য। আমি তো মনে কর উছিলা মাত্র ।

হিম জ্ং : না গুলু ভাই, যথার্থই বলেছেন । আসলেই দরকার আছে । তার চেয়ে বড়কথা ওই গার্মেন্টস কর্মী গুলাও একটু বেশী বেশী । সারাক্ষণ শুধু টাকা টাকা করে । ঠিক না ?

রানা : (ভ্রু কুচকে) ওই ভালো কথা, তুই কি লীগ করস না দল করস ?

হিম জ্ং : লীগ ভাই লীগ । আপনি পাগল হইসেন আমি করবো দল ? বাবালীগ করি আমি ।
রানা : বাবালীগ ! এটা আবার কোন লীগ ? :-*:-*

হিম জ্ং: গুলুভাই আমার বাবার দেখানো পথেই আমি চলি । তার আইডিওলোজি ই আমার আইডিওলোজি । মহাপুরুষ আমার হতেই হবে ।
রানা : মহাপুরুষ হইবো ? এহহহহ মহাপুরুষ ? আগে তো মুসা ইব্রাহিম হ পারলে ? ;)

হিম জ্ং: না গুলু ভাই , আমি বরং আপনার কথা মতো হিম জং ই হবো তাও মুসা ইব্রাহিম না ।
রানা : আচ্ছা শোন, সবাই ভাবতেসে যে আমার মনে হয় অনেক বড় কোন শাস্তি হবে ।

হিম জ্ং: অনেকে তো গুলু ভাই, অনেকে তো ফাসি ফাসি ও বলতেসে ।
রানা : আহা, ওটা হলো গিয়ে অতি উত্তেজনার ফল । আমার বেশি হলে কিছু বছরের কারাদণ্ড হবে । তারপর তো আবার আমি আগের মতোই সাভার নিয়ে এগোবো । তো তোর শাস্তি কি ?

হিম জ্ং: ভাই, আমি হয়তো এখনই ছাড়া পাবো, নযতো বেশি হলে ১ ঘন্টা পর ।
রানা : তুই করসিলি কি ?
হিম জ্ং: তেমন কিছু না, এক এম.পির চোখে মরিচ ডলা দিসি । বেচারার চোখের অবস্থা খারাপ তার মধ্যে তারে জানালাম যে তার মেয়েরে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না । পুরাই অস্থির হয়ে গেসে ।
রানা : তাহলে তো তোর খবর হবে । মেয়েরে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না, তুই জানলি কিভাবে ?

হিম জ্ং: ঐ যে বললাম না, বাবালীগ । বাবা এসে বলে দিসে । আর আমারে ঐ এম.পি এসেই ছাড়ায়া নেবে গুলু ভাই ।
রানা : তুই আসলেই পাগল শালা ।আচ্ছা, তোর বাবারে জিগাতো, আমার ভাগ্যে কি হবে ?

হিম জ্ং: যদিও গুলু ভাই, এটা ফিউচার এর ব্যাপার, তাও বলি । আমি দিব্যচোখে দেখতে পাচ্ছি যে , আপনি এবং আপনার বিল্ডিং এর ঐ গার্মেন্টস মালিকগুলোর আদৌ তেমন কোন শাস্তি হবে না ।
রানা : হুমম তোর বাবা তো দেখি সত্যিই বলতেসে ।আরকিসু ?

হিম জ্ং: জ্বী আছে গুলুভাই । কোটি কোটি অভিশাপের দরূন খুব শীঘ্রই যেসব লোক মারা গিয়েছে তাদের অতৃপ্ত আত্মাদের জালা-যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে আপনি এবং আপনার বিল্ডিং এর ঐ গার্মেন্টস মালিকদ্বয়ের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে ।
রানা : (হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে) হিমালয়ের বাচ্চা, তোরে আমি এখনই ফালায়া দিবো ।
একথা বলেই তার দিকে ছুটে গেলো.
হিম জ্ং অ্ট্টহাসি দিতে থাকলো । রানা হঠাৎ অবাক হয়ে দেখলো হিম জ্ং হাজতে একা না । তাকে ঘিরে সাভার ট্র্যাজেডীতে মারা যাওয়া সব অতৃপ্ত আত্মারা তার দিকে ক্রমশ এগিয়ে আসছে । রানা বুঝতে পারলো তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসছে ।


......(সংগ্রহিত)....
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:০৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাঁট ফুল

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৩

ভাঁট ফুল
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

ছোট কালে মায়ের সাথে, হাত ধরে
মেঠো পথে হেটে চলে যেতাম-
মইজদী পুর গ্রামে, বোনের শশুর বাড়ি
রাস্তার পাশে মাঝে মাঝে ভাঁট ফুল-
দেখে মুগ্ধ হতাম, আর বলতাম কী সুন্দর!
ইচ্ছের হলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×